
শেষ আপডেট: 30 August 2022 13:48
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও। তাতেই তোলপাড় সারা দেশ। বিতর্কের (Indian Flag Controversy) কেন্দ্রে অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ।

গত রবিবার দুবাইতে ভারত-পাকিস্তানের (India-Pakistan Match) ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন জয় (Joy Shah)। বিতর্কিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভারতের জয়ের পরে গ্যালারিতে বসে তিনি হাততালি দিচ্ছেন। এমন সময় পাশ থেকে এক ব্যক্তি তাঁর দিকে জাতীয় পতাকা বাড়িয়ে দিলেন। মনে হচ্ছে, জয় মাথা নেড়ে পতাকা নিতে অস্বীকার করলেন। তিনি আগের মতোই হাততালি দিয়ে যেতে লাগলেন।
কিছুদিন আগে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়াতে অনুরোধ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ওই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হর ঘর তেরঙা’। বিজেপি এর আগেও জাতীয় পতাকা নিয়ে রাজনীতি করেছে। তারা উগ্রজাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তাদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিককে নিয়মিত জাতীয় পতাকা ওড়াতে হবে। যে কোনও জায়গায় জাতীয় সঙ্গীত বাজলেই উঠে দাঁড়াতে হবে। এককথায় প্রতি মুহূর্তে দেশপ্রেমের প্রতীকি প্রমাণ দেখাতে হবে।
এবার ভিডিও অস্ত্রে বিজেপিকে বিপাকে ফেলতে চাইছেন বিরোধীরা। জাতীয় পতাকা নিতে ‘প্রত্যাখ্যান’ করার পরে জয় শাহের বিরুদ্ধে প্রথমে মুখ খুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ অনেক দল। এককথায় বলা যায়, বিজেপি দেশপ্রেমের নাম করে যে নোংরা রাজনীতি করে, বিরোধীরা এবার তাই করছেন। জয় শাহকে বলা হচ্ছে অমিত শাহের কুলাঙ্গার ছেলে। অন্যদিকে বিজেপির সাফাই, ভিডিওটি স্লো মোশনে চালিয়ে অতি সামান্য একটা ঘটনাকে বৃহৎ আকার দেওয়া হচ্ছে।
ধরা যাক, জয় শাহ সত্যিই ওই মুহূর্তে জাতীয় পতাকা নিতে অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু শুধু এজন্যই কি তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা যায়? যে কেউ জাতীয় পতাকা বাড়িয়ে দিলেই ধরতে হবে? তাতেই কি জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষিত হবে? এমন কথা তো বিজেপি বলে।
কিছুদিন আগে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি ভুল করে ‘রাষ্ট্রপত্নী’ শব্দটি ব্যবহার করে ফেলেছিলেন। পরক্ষণেই তিনি ভুল স্বীকার করেন। অধীরবাবু বলেন, তিনি হিন্দি ভাষায় তত স্বচ্ছন্দ নন। তাই তাঁর ভুল হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু বিজেপি তাঁকে অত সহজে ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না। ‘রাষ্ট্রপত্নী’ শব্দটি ব্যবহার করা নিয়ে তারা কংগ্রেস সাংসদকে সংসদে নাস্তানাবুদ করে। এবার বিরোধীরাও একইভাবে একটা তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সরব হচ্ছেন।
জয় শাহের আচরণ নিয়ে আরও একটা কথা বলা যায়। দুবাইয়ের ওই স্টেডিয়ামে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কোনও দেশের প্রতিনিধি হিসাবে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হননি। তিনি ওই খেলার অন্যতম সংগঠক। নিয়মমতো তাঁর নিরপেক্ষ থাকা উচিত। সুতরাং গ্যালারিতে তিনি ভারতের জাতীয় পতাকা ধারণ না করে নিজেকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে থাকতে পারেন।
দেশে এখন অনেক বড় বড় সমস্যা আছে। কোভিড অতিমহামারীর পরে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোটাই এক বড় সমস্যা। দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। সীমান্তে ওত পেতে রয়েছে শত্রু দেশের সেনা। দেশের অভ্যন্তরেও নানা জায়গায় সন্ত্রাসবাদীরা সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
শাসক ও বিরোধী দলের রাজনীতিকরা এই সমস্যাগুলি নিয়ে মনোযোগী হলে ভাল হয়। তাতেই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়া হবে। প্রতীকী দেশপ্রেম নিয়ে বিতর্কে এত সময় ব্যয় না করাই ভাল।
ধর্ষণের শীর্ষে রাজস্থান, মহিলাদের উপর অপরাধ বেড়েছে দেশে, বাংলা কোথায়?