
শেষ আপডেট: 14 June 2022 11:25
রাজ্যের স্কুলে গরমের ছুটি (Summer Vacation) ফের বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাড়তি অবকাশের একটা খারাপ দিক আছে। তাই ছুটি বাড়ানো নিয়ে সমালোচনাও হয় নানা মহলে। কিন্তু সরকার তা গ্রাহ্য করে না।

গত মে মাসে স্কুলে গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, রাজ্যে তাপপ্রবাহ চলছে। এর মধ্যে স্কুল খোলা রাখলে ছাত্রছাত্রীরা অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তখনই অনেকে আপত্তি করেছিলেন। এরপরে গত সোমবার রাজ্য সরকার ফের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, গরমের জন্য সব স্কুলে ছুটি ২৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হল।
অর্থাৎ স্কুল বন্ধ হওয়ার দিনটা এগিয়ে আনা হয়েছিল। স্কুল খোলার দিনটা পিছিয়ে দেওয়া হল। গরমে ছাত্রছাত্রীদের কষ্ট হোক, তা কেউই চায় না। কিন্তু গরমের মেয়াদ আর কতদিন। সাধারণত প্রতি বছর ১১ জুন দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা শুরু হয়। কিন্তু এবার একটু দেরি হচ্ছে। আবহবিদরা বলছেন, কলকাতায় বর্ষা পৌঁছতে আরও চার-পাঁচদিন লাগবে। সেক্ষেত্রে ১৪-১৫ জুনের মধ্যে মহানগরীতে শুরু হবে বর্ষার বৃষ্টি। তখনই গরম কমবে। গরমের ছুটি ২৬ জুন পর্যন্ত।
গত দু’বছর ধরে কোভিড অতিমহামারীর জন্য এমনিতেই পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। স্কুলছুট, বাল্যবিবাহের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। এখন কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে। এবার জোরকদমে পড়াশোনা শুরু করা উচিত ছিল। তাহলে করোনাকালে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুদূর পুষিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু রাজ্য সরকার স্পষ্টতই হাঁটছে উল্টো পথে।
বর্ধিত ছুটি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। সরকারি, সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে ছুটির মেয়াদ বাড়ছে বটে, কিন্তু অন্যান্য বিদ্যালয়গুলিতে কী হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। সিবিএসই বা আইসিএসই বোর্ডের অধীন স্কুলগুলি কি ছুটি বাড়াবে?
শোনা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার তাদেরও ছুটি বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছে। কিন্তু তারা অনুরোধে সাড়া দেবে কিনা স্পষ্ট নয়।
ছুটি বাড়ানো নিয়ে রাজনীতিও শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অনেকে বলছেন, স্কুল বন্ধ রেখে মিড ডে মিলের খরচ বাঁচাচ্ছে রাজ্য। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এত ছুটি দিলে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাস শেষ হবে কী করে।
এখানে একটা বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে। গরমের জন্য সরকার যদি স্কুল বন্ধ রাখতে চায়, তাহলে পঠন-পাঠনের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করুক। অতিমহামারীর সময় অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছিল। এই গরমের ছুটির সময়েও তা চালু করা যেতে পারে। অনেকে বলেন, অনলাইন ক্লাসে ঠিকমতো পড়ানো সম্ভব হয় না। কিন্তু পড়াশোনা একেবারে বন্ধ থাকার চেয়ে অনলাইন ক্লাস তো ভাল। তাছাড়া অনলাইনে ক্লাস করানো যখন একবার চালু হয়েছে, তা আগামী দিনে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে হয় না। উল্টে নেট মাধ্যমে ক্লাস করার প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই মনে হয়। কারণ প্রযুক্তিকে ঠেকানো যায় না।
স্কুলে পড়াশোনা কম হলে পরীক্ষার আগে সিলেবাস কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে ক্ষতি হয় ছাত্রছাত্রীদের। তারা পাঠ্যবিষয়ের অনেক কিছু শিখতে পারে না। আপৎকালে হয়তো স্কুল বন্ধ রাখা বা সিলেবাস কমানো অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এখন আমরা সেই পরিস্থিতি পার হয়ে এসেছি। সুতরাং ছুটি মানে যেন নিছকই ছুটি না হয়। তার মধ্যেও পড়াশোনা চলুক। ছেলেমেয়েরা যাতে পিছিয়ে না হয়ে থাকে, তার জন্য এখনই রাজ্য সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।