Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ

‘হাড়ি আলাদা হোক’, কুকিদের দাবি ঘিরে বিপাকে মেইতেইরা

কুকিদের নাগরিক সংগঠনগুলি এখন এই দাবিতেই সবচেয়ে সরব। সামাজিক মাধ্যমে তারা পৃথক প্রশাসনের সমর্থনে যুক্তির লড়াই চালাচ্ছে।

‘হাড়ি আলাদা হোক’, কুকিদের দাবি ঘিরে বিপাকে মেইতেইরা

শেষ আপডেট: 28 December 2023 15:36

অমল সরকার

যুদ্ধ থেমেও থামেনি। বছর চল্লিশের জসুয়া লেং চংলই বরং বলছেন, ‘যুদ্ধ আরও বেড়ে গিয়েছে। এই যুদ্ধ চলবে। এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।’

দুর্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তনী কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ চংলই একজন টুইটার যোদ্ধা। রোজ সকালে মেইতেইদের ‘অপপ্রচার’-এর জবাব দেওয়ার কাজটা তিনি নিজেই বেছে নিয়েছেন। তারপর দিনভর নির্দয় মেইতেই ট্রোলের শিকার হন। ৩ মে জাতিদাঙ্গায় তাঁর চূড়াচাঁদপুরের বাড়িও আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হন নিকট আত্মীয়েরা। 

মণিপুরের সবচেয়ে বড় জেলাটির নাম চূড়াচাঁদপুর। রাজ্যের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ জেলাও সেটি। পার্বত্য মণিপুরের এই জেলায় কুকিরা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই-ই নয়, স্থানীয় প্রশাসনও এখন তাদের দখলে। তবে জেলার নাম এখন সরকারি নথিপত্রেই চূড়াচাঁদপুর। স্থানীয় মানুষ জেলার নাম মুখে মুখে বদলে নিয়েছে। কুকিরা জায়গাটির পুরনো নাম ‘লামকা’ ফিরিয়ে এনেছে। 

কুকি ভাষায় লামকা শব্দের অর্থ হল সংযোগ স্থল। বস্তুত, চূড়াচাঁদপুরের একদিকে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফল, একদিকে পড়শি দেশ মায়ানমার এবং আর এক দিকে উত্তর-পূর্বের আর এক রাজ্য মিজোরাম। 

কুকি বহুল এলাকা লামকার নাম তাহলে চূড়াচাঁদপুর হয়েছিল কীভাবে? আসলে মণিপুরের মেইতেই রাজা চূড়াচাঁদ সিংহের নামে রাখা হয় জেলার নাম চূড়াচাঁদপুর। কোনওদিন তা নিয়ে কুকিরা আপত্তি করেনি। যা প্রমাণ করে কুকি ও মেইতেইরা যুগ যুগ ধরে একত্রে বাস করেছে। মেইতেই রাজারা বিপদে পড়লে কুকি গোষ্ঠীপতিরা কীভাবে পাশে দাঁড়াতেন সে কাহিনি কিছুদিন আগেও মুখে মুখে ফিরত। 

কিন্তু এখন সবই অতীত। কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ আর মেইতেইদের সঙ্গে একই প্রশাসনের অধীনে থাকতে নারাজ। কুকি এলাকার ১০ বিধায়ক গত আগস্টেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে পৃথক প্রশাসনের দাবি পেশ করেন। এমনকী আশু পদক্ষেপ হিসাবে কুকি এলাকার জন্য পৃথক মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিজি পদ তৈরিরও দাবি জানান তাঁরা। 

কুকিদের নাগরিক সংগঠনগুলি এখন এই দাবিতেই সবচেয়ে সরব। সামাজিক মাধ্যমে তারা পৃথক প্রশাসনের সমর্থনে যুক্তির লড়াই চালাচ্ছে। মেইতেইদের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়, কুকিদের সব সংগঠনই এই অভিন্ন দাবিতে সরব। আর সংখ্যালঘু কুকিদের এই দাবি যথেষ্ট বিপাকে ফেলেছে মেইতেইদের। কারণ, কুকিরা যে এলাকার জন্য পৃথক প্রশাসন দাবি করেছে তা মণিপুরের আয়তনের ৯০ ভাগ। সেখানে শুধু গভীর অরণ্য সম্পদ আছে তাই-ই নয়, আছে খনি। 

আসলে এই প্রাকৃতিক সম্পদে ভাগ বসাতেই মেইতেইরা জনজাতি বা আদিবাসী স্বীকৃতির জন্য লড়াই চালাচ্ছে। আদালতে তারা প্রথম জয় হাসিল করলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। এই ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে না, তা অজানা নয় মেইতেইদের।

কিন্তু কুকিদের পৃথক প্রশাসনের দাবি নসাৎ করতেই তারা বেশি ব্যস্ত। মেইতেই বহুল ইম্ফল ‘নো সেপারেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ লেখা পোস্টার, ব্যানারে ছয়লাপ। মেইতেইদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি অফ মণিপুর ইন্টিগ্রিটি (কোকোমি)-র মুখপাত্র আথৌবা ‘দ্য ওয়াল’-কে টেলিফোনে বলেন, ‘পৃথক প্রশাসন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কুকিরা মণিপুরের আদি বাসিন্দা নন। তাদের জন্য পৃথক প্রশাসনের নামে রাজ্য ভাগে সায় নেই আমাদের।’ অনুযোগের সুরে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কুকিদের দাবি মেনে নিলে বড় ভুল করবে। 

আথৌবার এই মন্তব্যের পিছনে আছে কুকিদের দুটি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ফ্রন্ট এবং কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (কেএনও) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারে আলোচনা। ওই দুই সংগঠনেরই সশস্ত্র বাহিনী আছে। তবে জাতিদাঙ্গা শুরুর আগে থেকেই তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সাসপেনশন অফ অপারেশন বা সংঘর্ষ বিরতির চুক্তি করে। দুই  সংগঠনেরই দাবি, তাদের যোদ্ধারা জাতিদাঙ্গায় অংশ নেয়নি। তারা রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে অপেক্ষায় আছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দাবি মানতে রাজি না হলে পরিস্থিতি বুঝে তারা পদক্ষেপ করবে। 

নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক কেএনও-র এক নেতা বলেন, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে তাঁদের চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তারা দিল্লি, পুদুচেরি এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো বিধানসভা-সহ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল দাবি করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, এর ফলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ কুকি বহুল পার্বত্য মণিপুরে আসবে। এলাকার উন্নতি হবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেইতেইদের একটি সংগঠনের নেতার আশঙ্কা, নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকার কুকিদের দাবি মেনে নিতে পারে। মণিপুরের সঙ্গে মায়ানমারের বিস্তীর্ণ সীমানা থাকায় রাজ্যে অনুপ্রবেশ, মাদক ও মানুষ পাচারের সমস্যা অব্যাহত। তাছাড়া মায়ানমারের সেনা শাসকদের সঙ্গে চিনের সুসম্পর্কও ভারতকে চিন্তায় রাখে। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হলে ওই এলাকায় দিল্লির নজরদারি সহজ হবে।


```