
শেষ আপডেট: 13 July 2018 05:45
সামনে মোৎসার্ট, বেটোফেন বা হাইডেনের স্বরলিপি খোলা নেই। কিন্তু ওরা বাজছে - বেহালা, চেলো, বাঁশি, পিয়ানো - বাজছে এক ঐশ্বরিক সাযুজ্যে। নিখুঁত সিম্ফনি। কেউ হয়তো বলবেন মস্কোর আসরে এ যেন চাইকভস্কির ভাবনা-সমৃদ্ধ ব্যালে। প্রতিটি স্টেপিং সুপরিকল্পিত, সুচিন্তিত।
অর্থাৎ, এ শুধু খেলা নয়, এ নিছক একটা মহামূল্যবান ম্যাচ নয়, লুঝনিকির সবুজ গালিচায় এ এক সাঙ্গীতিক রূপকথা - সে সিম্ফনি বা ব্যালে যাই হোক।
ইদানীং প্রায়শই শোনা যাচ্ছে একটা বিশেষণ - অঘটনের বিশ্বকাপ। এর বিরুদ্ধ যুক্তিতে বলা যায়, বিশ্বকাপ কোনও অঘটন ঘটায়নি এমন নজির কটা আছে? আর স্বাভাবিক বিশ্বকাপ, প্রত্যাশিত বিশ্বকাপ আর অঘটনের বিশ্বকাপের মধ্যের ফারাকগুলোও কি এক-দুই-তিন-চার করে বলা সহজ?
সহজ নয়, এটা যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্যি যে বিশ্বকাপের আসর জমার প্রাক্কালে আমরা, ফিফা তালিকায় ল্যাজের শেষ প্রান্তে থাকা ভারতবর্ষের এক কোণে থাকা এই ক্রীড়ামোদী বাঙালিরা পাড়ায় পাড়ায় পতাকা টাঙিয়ে পৃথিবীর একেবারে উল্টো দিকে থাকা দুটো দেশের উদ্যাপন শুরু করে দিই হলুদ আর সাদা-নীলের সমাহারে। মানচিত্রে দেশ দুটোকে দেখাতে বললে খাবি যে খাব না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি না। তবে বেট ফেলে বলে দেব এই দুই বাহিনীর প্রধান সেনানী কারা, তাদের চুলের ছাঁট কী, তারা কোন ক্লাবে খেলে বা ভবিষ্যতে খেলতে পারে , ইত্যাদি, ইত্যাদি।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা সিংহভাগ সমর্থককে পকেটে পুরে নিলেও ফ্রান্স-স্পেন-জার্মানি-পর্তুগাল নিয়ে কম-বেশি আলোচনা হয়েছে গত দু'তিন মাসে। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো ক্ষুদ্রকায় সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ক্ষুদ্রতর প্রদেশ ক্রোয়েশিয়ার অস্তিত্বের কথাও কি আপনাদের মাথায় ছিল?
ছিল না ভাই, আমাদের কারওরই ছিল না। আমাদের ধারণাই ছিল না রুশ সাম্রাজ্যে কোন উচ্চস্তরের শৈল্পিক নিদর্শন দেখাবে তারা। এদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের বড় ক্লাবে খেললেও মেসি, রোনাল্ডো বা নেমারের কথা বাদ দিন, লুকাকু, সালাহ্, এমব্যাপে বা দি ব্রুইনাদের মতোও কি এদের আমরা চিনতাম?
বুধবার সন্ধ্যায় তাবৎ ব্রিটিশ পাবের উৎসবকে শোকে পর্যবসিত করতে ওরা যে জাদু দেখাল, ভূতের রাজাও তাতে লজ্জা পাবে। ক্রীড়ামোদী ফুটবল-রসিক বাঙালি নিশ্চয় চাইবে, আবার সিম্ফনি বাজুক রবিবাসরীয় অপরাহ্নে। আর তাতে যদি বাস্তিল দুর্গের আবার পতনও হয় - শিল্প আমাদের সমৃদ্ধ করুক, আনন্দ দিক।