শেষ আপডেট: 30 December 2019 12:00

সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পেশ করা থেকেই অসম সমেত উত্তরপূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যেও আগুন জ্বলছে। পরে দেখা যায় সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যত্রও। নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহের নিজের রাজ্য গুজরাটেও প্রতিবাদ হয়েছে। রাজধানী দিল্লি থরথর করে কাঁপছে। বিহারের পাটনায় আগুন জ্বলছে। উত্তরপ্রদেশের লখনউ ও কানপুরে আগুন জ্বলছে।
মানবিক এই আন্দোলনকে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার অমানবিক ভাবে দমন করেছে। সেখানে পুলিশ গুলি চালিয়ে ১৬ জনকে হত্যা করেছে। অসমে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। ডিটেনশন ক্যাম্পে ৩০ জন মারা গেছেন।
প্রথমে তড়িঘড়ি করে কেন্দ্রীয় সরকার এনেছিল সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বা ক্যাব। সংখ্যাধিক্যের জোরে সেটা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বা সিএএ হয়ে গেল। দ্রুত তা কার্যকর করার জন্য উঠেপড়ে লাগল কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির রাজ্য সরকারগুলি। কিন্তু দেখা গেল অবিজেপি সরকার যে সব রাজ্যে রয়েছে তারা তো মুখর হয়েইছে, এনডিএর শরিকরাও আস্তে আস্তে সরব হতে শুরু করেছে।
এরই মধ্যে একাধিক রাজ্যে নতুন সরকার তৈরি হল। একাধিক রাজ্যে বিজেপি পরাস্ত হল। ঝাড়খণ্ডে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ল। তারপরে বিজেপির বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের মুখ্যমন্ত্রীরা একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এনআরসি এবং সিএএর বিরুদ্ধে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতের মতো একটি বহু সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়, ভাষার দেশে বিবিধের মাঝে ঐক্য যার মূল কথা, বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে জাত-পাত-ধর্ম-সম্প্রদায়কে নিয়ে রাজনীতি করা যে কতটা বিপজ্জনক তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিজেপি।
আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আমাদের এই কারণে গর্ব যে, তিনি বর্তমানের উপরে দাঁড়িয়ে অতীতকে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ বুঝতে পারেন। তাই তিনিই প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন বিমুদ্রাকরণের বিরুদ্ধে, তাড়াহুড়ো করে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু করার বিরুদ্ধে। বিজেপিশাসিত রাজ্যে কৃষকদের মৃত্যু নিয়ে এবং এনআরসি নিয়েও তিনিই প্রথম প্রতিবাদ করেন। আবার তিনিই প্রথম সিএএর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন আজ যা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে।
কিন্তু অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যোগী আদিত্যনাথের সরকার সে রাজ্যে মানুষকে ধরে ধরে মামলা দিচ্ছে, গুলি করে মারছে, এক বিপজ্জনক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা ভারতের অর্থনীতিকে তার মূল বেদীমূলে নাড়া দিয়েছে। বৃদ্ধি একেবারে তলানিতে, কৃষি, শিল্প, উৎপাদন শিল্প – সবই মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ভারতবাসীদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল যে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার। তা বোধহয় স্বপ্নই রয়ে যাবে কারণ বাজারে টাকা নেই, ব্যাঙ্ক ঋণ দিচ্ছে না, শিল্প হচ্ছে না, শিল্পোদ্যোগীরা ভয়ে কাঁপছেন আর কিছু দুর্বৃত্ত শিল্পপতি শিল্পের নাম করে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা লুঠ করে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে। ভারত তাই ধর্মের নামে অধর্মের আঘাতে, শাসনের নামে অপশাসনের বিশৃঙ্খলায় জাত পাত সংস্কৃতির বিভাজনে আজ ক্ষতবিক্ষত। এর মধ্যেই এনআরসি।
আমার বিশ্বাস, এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে পিছু হঠতে হবে।