ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নয়। এক প্রতিবেশী ও মিত্র হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আমি সম্মান করি।

শেষ আপডেট: 29 December 2025 15:30
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা Former Prime Minister of Bangladesh Sheikh Hasina) ‘দ্য ওয়াল’ The Wall)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আমার একটি প্রশ্ন নিয়ে নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে। আমার প্রশ্নের বিষয় ছিল ইউনুস সরকারের আওয়ামী লিগের (Awami league) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির নীরবতা। বিশেষ করে যে দলগুলির সঙ্গে আওয়ামী লিগের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা সঙ্গত কারণেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নয়। এক প্রতিবেশী ও মিত্র হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আমি সম্মান করি।
আওয়ামী লিগ নেত্রী ভারতের অতিথি। তাঁর দলের অনেক নেতা-কর্মীও প্রাণ বাঁচাতে দেশের বাইরে আছেন। এই ধরনের স্পর্শকাতর প্রশ্নে একজন আশ্রয় প্রার্থী অতিথির যা বলা উচিত হাসিনা সে টুকুই বলেছেন। কিন্তু আমি মনে করি, বাংলাদেশের (Bangladesh) পরিস্থিতি নিয়ে নয়া দিল্লির কর্তাদের গর্জনের তুলনায় বর্ষণ কম। তারা প্রকৃত বিপদ অনুধাবনে ব্যর্থ। স্পষ্ট করে বলা ভাল, সরকার এবং বিজেপি-অবিজেপি (BJP-Non BJP) নির্বিশেষে দলগুলি যে দিকটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সেটি মিথ্যে নয়। তবে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির সেটি একাংশ মাত্র। বৃহত্তর মূল সমস্যাটি ভিন্ন এবং অনেক গুরুতর।

নরেন্দ্র মোদী- শেখ হাসিনা
সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের (Hindu) উপর ক্রমবর্ধমান হামলা, নিপীড়নের দুঃখজনক ঘটনাগুলি বিজেপির নির্বাচনী বয়ানকে শক্তিশালী করছে সন্দেহ নেই। আশ্চর্যের হল, বাকি দলগুলিও তাতেই গলা মিলিয়েছে। শনিবার সিপিএমের পলিটব্যুরো বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতি দিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত সরকার এবং এ দেশের দলগুলি বাংলাদেশ নিয়ে এক একটি ইস্যুতেই প্রতিক্রিয়া দিয়ে চলেছে।
ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে, গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা এবং মৃত্যুর মুহূর্তে যন্ত্রণাকাতর মানুষটি সঙ্গে সেলফি তোলা, সাধারণ জনতার উল্লাসের দৃশ্য ভয়ঙ্কর। হিংসা উদযাপনের এমন ঘটনা তালিবান মুলুকেও বিরল। এমনকী পরিকল্পিত জঙ্গি হত্যাকাণ্ডেও এমনটা দেখা যায় না। কিন্তু এমন ঘটনা হালের বাংলাদেশে নতুন নয়। চব্বিশের জুলাই-অগস্ট পর্বের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের অসংখ্য নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং পুলিশকর্মীর হত্যার ঘটনায় হিংসা, জিঘাংসার উদযাপন শুরু হয়েছে। গাছে, ল্যাম্প পোস্টে ঝুলিয়ে হত্যার দৃশ্যগুলি সমাজমাধ্যম থেকে হারিয়ে যায়নি।

ঢাকায় শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রয়াত সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি ও বাংলাদেশের বাম নেতারা।
হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিকেশ, দেশ ছাড়া করার নয়া অভিযান শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির চাপে অনেকেই ভারতে চলে আসতে সীমান্তে হাজির হয়েছিলেন। ভারতের বিজেপি সরকার তাদের ঘোষিত নীতির বিপরীতে হেঁটে ধর্মীয় কারণে বিপন্নদের জন্য সীমান্তের দরজা খোলেনি, খুলেছে রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার মানুষদের জন্য। মানবিকতার দৃষ্টিতে সেই সিদ্ধান্তও একশো শতাংশ সঠিক। সেই সঠিক সিদ্ধান্তের কারণেই এই প্রশ্নটিও ন্যায্য যে ধর্মীয় কারণে বিপন্নদের বিষয়ে বিজেপি সরকারের হাত গুটিয়ে থাকার কারণ কী?আসলে পদ্ম শিবিরের নেতারা চান এই পরিস্থিতি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে। বলাইবাহুল্য, বাংলাদেশে নির্যাতিত হিন্দুরা অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে গেলে এপারের সংখ্যালঘু অর্থাৎ মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীরা আরও চড়া সুরে বিষোদগার করতে পারবে।
অন্যদিকে, ইউনুস সরকার ততধিক দ্রুততার সঙ্গে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মতো হিন্দু সমাজের লড়াকু মুখ হয়ে ওঠা সাধুকে জেলে আটকে রেখে সে দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতিবাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিয়েছে। বিপরীতে ভারত সরকারের অবস্থান এখন তর্জন গর্জন থেকে অনুনয়-বিনয়ে পরিণত হয়েছে। এর প্রধান কারণ, সংখ্যালঘু স্বার্থ নিয়ে গলাবাজি করার নৈতিক অধিকার বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীদের নেই। ভারতের সংখ্যালঘুদের প্রতি হিন্দুত্ববাদীদের আচরণ গোটা বিশ্বে দেশের মাথা হেট করে দিয়েছে।

বাংলাদেশে ময়মনসিংহে যখন হিন্দু যুবককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে তখন কেরলে একই ধর্ম গোষ্ঠীর এক যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে গণহত্যার শিকার হয়েছে। কেরলে ক্ষমতাসীন সিপিএম সরকারের অভিযোগ, এই ঘটনা আরএসএসের সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর ফল। কেরলে নিহত ব্যক্তি ছত্রিশগড়ের বাসিন্দা। কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন দক্ষিণের রাজ্যটিতে। ময়মনসিংহের দীপুচন্দ্র দাসের মতোই কেরলে নিহত রাম নারায়ণ বাঘেল নিরীহ প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। দু দেশেই হত্যাকারীরা উগ্র ধর্মান্ধ। কেরলের বিজেপি দাবি করেছে বাঘেলের হত্যাকারীদের মধ্যে সিপিএম কংগ্রেস এবং বিজেপি, সব দলের সমর্থকেরা আছে। অর্থাৎ তারা বলতে চেয়েছে এটি একটি সর্বদলীয় হত্যাকাণ্ড।
কাকতালীয় হলেও সত্যি, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতে এমনই এক সর্বদলীয় বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে যা ভ্রান্ত এবং এক কথায় ঐতিহাসিক বিভ্রম। বাংলাদেশের চলতি পরিস্থিতিকে সব দলই কম বেশি বিজেপির চশমা দিয়ে দেখছে। সে দেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন সীমাহীন, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাটা শুধুমাত্র সংখ্যালঘু নিপীড়ন নয় বরং তার থেকে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর, যা সে দেশের সকল নাগরিকের জন্য নয়া বিপন্নতা যা ভারত সহ এই উপমহাদেশের রাজনীতিতেও প্রবলভাবে নেতিবাচক প্রভাব, প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বিষয়ক সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি সংসদে পেশ করা রিপোর্টে বলেছে যে ১৯৭১ এ বাংলাদেশ জন্ম নেওয়ার পর থেকে সে দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় আছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসের সাংসদ তথা একদা বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শশী তারুর এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান, সে দেশে পাকিস্তান ও চিনের ভারত বিরোধী সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অথচ, যে দলটি বাংলাদেশ এবং সেই সঙ্গে ভারতকে এই বিপদ থেকে মুক্ত রাখতে দৃষ্টান্তমূলক অবদান রেখেছে, ইউনুস সরকারের সেই আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার মতো অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপগুলি নিয়ে সাক্ষাৎকারে তো নয়ই, রিপোর্টেও একটি কথা বলেননি তারুর। এর দায় ওই কমিটির সদস্য সব সাংসদ ও দলের।
শেখ হাসিনার শাসনে অপশাসনের নজির কম নয়। যে বিষয়টিকে জোরালোভাবে সামনে আনা হয়েছে তা হল, তাঁর সময়ে নির্বাচন বৈধ হয়নি। আওয়ামী লিগ বিরোধী প্রায় সব দলেরই অভিযোগ হাসিনার জমানায় নির্বাচনী কারচুপি সহ নানা ক্ষেত্রে তাঁকে প্রশ্রয় দিয়েছে ভারত।
অথচ সেই বাংলাদেশে বিএনপি-সহ আওয়ামী লিগ বিরোধী সব দলের সায় নিয়ে মহম্মদ ইউনুসের সরকার শেখ হাসিনার দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চলেছে। এজন্য গত ১২ মে সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের কাণ্ডারী দলটির নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হয়ে গিয়েছে।
অবাক করা বিষয় হল ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিলেও আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তেমন জোরালো কোনও পদক্ষেপ করছে না। গত দেড় বছর ধরে তারা শুধু ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলছে বটে। এর অর্থ ভারত চায় আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হোক। কিন্তু ভারত সরকার তথা ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সেই কথাটি একটি প্রস্তাব বা আরজি হিসেবেই বারে বারে পেশ করে চলেছে। কখনই এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর পরোক্ষে চাপ তৈরিতে তেমন কোনও কূটনৈতিক তৎপরতার পথে হাঁটেনি। পাকিস্তান তো বটেই কখনও সখনও বাংলাদেশ ও কূটনীতিতে আমাদের গোল দিয়ে দেয়।
নয়াদিল্লির কর্তাদের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এত তোষামোদের কারণ দেশের নাকি কতিপয়ের ব্যবসায়িক স্বার্থরক্ষা, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। সরকার ও দলের বিদেশ নীতি নিয়ে বিরক্ত বিজেপির এক নেতা এই বলে আক্ষেপ করেছেন, 'ভদ্রলোককে আমরা বিশ্বগুরু, বিশ্বমিত্র- কত কী বলেছি। এখন দেখছি বিশ্বভীতু।'
শুধু ভারত সরকার নয়, নীরব আওয়ামী লিগের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক দল থাকা কংগ্রেস, বিজেপি এমনকী সিপিএম, সিপিআইয়ের মতো কমিউনিস্ট পার্টিগুলি পর্যন্ত যারা বিশ্বের তস্য গলির গণতন্ত্র বিপন্নতা নিয়ে গলাবাজি করে থাকে। পড়শি দেশে একটি বৃহত্তম দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং নিশ্চিহ্ন করার নিন্দা করতে ভারত সরকারের কূটনৈতিক বেড়াজাল থাকতে পারে, দলগুলির নেই। ব্রিটিশ সরকার মুখ না খুললেও ব্রিটেনের পাঁচটি ভিন্ন দলের সাংসদেরা এক বিবৃতি জারি করে আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। ভারতের সাংসদেরা মুখ খুলছেন না কেন? ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি নীরবতা আমার মতে ঐতিহাসিক ভুল। এই ব্যাপারে ভারত সরকার এবং দলগুলি অভিন্ন ভ্রান্তির শিকার।
দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের কর্তাদের একাংশের ব্যাখ্যা, সরকার চায় না বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারত নাক গলাচ্ছে এমন অভিযোগ আর উঠুক। কিন্তু দিল্লির এই নীরবতা তথা নিষ্ক্রিয়তাই বিএনপি সহ আওয়ামী লিগ বিরোধী দলগুলির সেই জনপ্রিয় অভিযোগকেই মান্যতা দিচ্ছে, যে ভারত এতদিন হাসিনাকে প্রোটেকশন দিয়েছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত সরকার যথার্থভাবেই বলে আসছিল বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিক। দিল্লির কর্তাদের বয়ানে আভাস মিলছে, দিল্লি 'মন্দের ভাল' বিএনপিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে মনে রাখা দরকার ২০০১ সালের ভোটেও ভারত-বিএনপি-র পাশে ছিল। সেই বিএনপি'র ২০০১ থেকে ২০০৬-এর ভারত বিরোধী কার্যকলাপ ভুলে থাকা আমাদের উচিত হবে না। মনে রাখা দরকার তারেক জিয়া যে মামলাগুলির কারণে দেশে ফিরতে পারছিলেন না তার মধ্যে একটি ছিল চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা। যে অস্ত্র তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতের উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের সরবরাহ করার জন্য পাকিস্তানের উদ্যোগে চিন থেকে আনা হয়েছিল। বিএনপি'র সেই সরকারের সময়েই স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ভয়ঙ্করতম হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছিল।
শেখ হাসিনা, তার সরকার, প্রশাসন অবশ্যই ভুল ত্রুটি, অপরাধ করেছে। সেগুলির ন্যায্য বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। কিন্তু শুধু এই কারণে একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের ময়দান থেকে দূরে রাখার মতো চরম অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক কর্তব্য বলেই আমি আমি মনে করি। কোন কিছুই সীমান্তে আটকে থাকে না। আজ বাংলাদেশে যে পরিণতি দিকে আওয়ামী লিগকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কাল ভারতে বা অন্যত্র কোন দলকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না, এমন গ্যারান্টি দেওয়া কঠিন। পাকিস্তানে ইমরান খানের দলকে নিয়ে যা হচ্ছে তা শুধু সে দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মনে রাখা ভাল দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর কতিপয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জেরে সিবিআই এবং ইডি আম আদমি পার্টিকেও অভিযুক্ত করেছে। সেই মামলার জেরে আগামী দিনে ভারতে আম আদমি পার্টির নির্বাচনী এবং দলীয় নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু সব দলই একবাক্যে মানবে যে এই ধরনের পদক্ষেপ কখনোই কাম্য নয়। কারণ দল কতিপয় ব্যক্তির নয়। দল গড়ে ওঠে নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের আস্থা, ভালোবাসাকে পাথেয় করে। একটি দলকে নিষিদ্ধ করা মানে সেই মানুষগুলির গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ।
শুধু আওয়ামী লিগ নয়, বাংলাদেশের ওই দলের বিরোধী শিবিরেরও বহু মানুষ বিশ্বাস করেন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে হাসিনার দলের ক্ষমতায় ফেরাও অসম্ভব নয়। দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, সরকারে হোক বা বিরোধী দলে, আমাদের দেশের আলোচনার অংশ হওয়া উচিত। আমাদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া মানে বাংলাদেশের জনগণকে সত্যিকারের বৈধ সরকার নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা। আমার মনে হয় সেই অনুকূল পরিস্থিতি বাংলাদেশের তৈরি না হওয়ার ধাক্কা সামলাতে হবে ভারতকেও। কারণ আওয়ামী লিগ বাদে আর কোন দলের পক্ষে ভারত বিরোধিতার লাইন বর্জন এক কথায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হলে নবগঠিত সংসদটি হবে একটি ভারত বিরোধী মঞ্চ। হাসিনার দলবিহীন জাতীয় সংসদ শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত সহ গোটা উপমহাদেশের জন্যই এক ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনবে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত এই সন্ধিক্ষণে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। সেটাও ইতিহাসে লেখা থাকবে।