
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 19 December 2024 00:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় আছে, বিজ্ঞানের যেমন অভিশাপ রয়েছে তেমন আশীর্বাদও রয়েছে। সবকিছুর মধ্যেই ভাল-মন্দ মিশিয়ে রয়েছে। তারই প্রমাণ পাওয়া গেল এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে। একটি ইউটিউব ভিডিওর জন্য প্রায় ২২ বছর পর ভারতে ফিরলেন এক বৃদ্ধা। পাকিস্তানে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন তিনি।
সোমবার দেশে ফেরার পর বিস্তারিত জানালেন হামিদা বানু। কীভাবে সম্ভব হল এই ঘটনা, যেখানে পাকিস্তান এবং এদেশের মধ্যে এত কড়াকড়ি, সেখানে কীভাবে ফিরলেন তিনি?
বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ বছর আগে ওই মহিলাকে দুবাইতে চাকরি দেওয়ার নাম করে কিছু দালাল লোভ দেখিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০ হাজার টাকা দিলে দুবাইতে চাকরি দেওয়া হবে। ২০ হাজার টাকা দিয়ে সেই টোপে পা দেন হামিদা। তাঁকে দুবাইয়ের বদলে নিয়ে যাওয়া হয় হায়দরাবাদে। নিজামের শহর নয়, এ হায়দরাবাদ পাকিস্তানের একটি শহর।
এই শহরে প্রথমে তাঁকে আটকে রাখা হয় বেশ কিছুদিন। একটি ঘরে নজরবন্দি করা হয়। পরে তিনি করাচির একজন ফেরিওয়ালাকে বিয়ে করেন। তিনি কোভিডে মারা যান। বহু চেষ্টা করেছেন দেশে ফেরার, দেশে যোগাযোগ করার কিন্তু সম্ভব হয়নি। কাউকে খুঁজেই পাননি, যাকে বিশ্বাস করে বলা যায়, দেশে ফিরিয়ে নিয়ে চলুন।
হামিদা বানু জানান, ২০২২ সালে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ওয়ালিউল্লাহ মারুফ তাঁর একটি ভিডিও বানান। বৃদ্ধার জীবনের নানা ঘটনার উপর ভিডিওটি তৈরি হয়। ২০২২ এই ভিডিওটি চোখে পড়ে ভারতীয় সাংবাদিক খালফান শেখের। যিনি নিজে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করেন।
এই ভিডিও ভারতের কারও কাছে পৌঁছবে কোনওদিন সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র আশা করেননি বৃদ্ধা। কিন্তু ভিডিওটি হাতে পড়ে বৃদ্ধারই নাতির। এই মারুফ এবং সাংবাদিক মিলে বৃদ্ধার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করেন। বৃদ্ধার সঙ্গে ফোনে কথা হয় পরিবারের সকলের। নাতি-নাতনি, মেয়ে ভিডিও কলে তাঁকে দেখেন। বৃদ্ধাও জানান তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্থানে যাননি, পাকিস্তানে নিজের ইচ্ছেয় আছেন, এমনও নয়। তাঁকে মিথ্যা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সে সময় তিনি ইচ্ছে প্রকাশ করেন দেশে ফেরার।
তোরজোর শুরু হয় তাঁকে দেশে ফেরানোর। বৃদ্ধা জানান, এক বছর আগে ভারতীয় দূতাবাস থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি ফিরতে পারেন ভারতে। কিন্তু দেশে ভাই-বোন, ছেলেমেয়েদের ওপর বোঝা হতে চাননি তিনি। বলেন, 'আমি সকলকে খুব মিস করেছি কিন্তু ওদের ওপর এত বছর বাদে আর বোঝা হয়ে দাঁড়াতে চাইনি।'
যদিও এসব মান-অভিমান, ভাবনা-চিন্তা কাটিয়ে সোমবার দেশে ফেরেন হামিদা। দু'বছর আগে বানানো একটি ভিডিওর জোরে তিনি সন্তান, নাতি-নাতনি এবং ভাইবোনদের সঙ্গে আজ। এই ভিডিওর জন্য এবং এতটা পদক্ষেপ করার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।