
টানা আটবার ফিনল্যান্ড সুখীতম দেশের শিরোপা জিতে নিয়েছে।
শেষ আপডেট: 20 March 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গৌতম বুদ্ধের 'সর্বজন হিতায় সর্বজন সুখায় চ' আদর্শের বাণী বিশ্বের দরবারে প্রচার করে এসেছে ভারত। সেই দেশ বিশ্বের সুখী দেশগুলির তালিকায় কোন স্থানে রয়েছে? বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক সুখী দিবস উদযাপনের দিন বিশ্বের সুখী দেশগুলির বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করা হল। এনিয়ে টানা আটবার ফিনল্যান্ড সুখীতম দেশের শিরোপা জিতে নিয়েছে। ১ থেকে ১০ নম্বরের এই সুখের মান ধরে ফিনল্যান্ডের মানুষের ভিতর গড়পরতা আত্মতুষ্টির সন্তোষজনক ৭.৭৪ স্কোর করে এদেশ শীর্ষে রইল পরপর আটবার। ফিনল্যান্ডের পরে প্রথম পঞ্চম সুখী দেশগুলি হল ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক তথা এই রিপোর্টের প্রধান সম্পাদক জঁ-ইমানুয়েল দি নেভে বলেন, এই দেশগুলির মানুষ ধনী, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, সামাজিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল এবং প্রকৃতির সঙ্গেও মানুষের যোগ নিবিড়। তিনি আরও বলেন, এমন নয় যে তাঁরা খুব সুখী, আনন্দে থাকেন, রাস্তায় নেচেগেয়ে বেড়ানো প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু, তাঁরা নিজেদের জীবনযাত্রায় খুব আনন্দিত।
সুখী বা আনন্দিত দেশের তালিকায় এবারেও দাপট রয়েছে উত্তর ইউরোপীয় বা নর্ডিক দেশগুলির। তালিকায় ৬ নম্বরে রয়েছে কোস্তারিকা এবং ১০ নম্বরে মেক্সিকো চলে এসে প্রথমবার এই দুই দেশ প্রথম ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে। নরওয়ে রয়েছে ৭ নম্বরে, ইজরায়েল ৮-এ এবং লুক্সেমবর্গ ৯ নম্বরে স্থান পেয়েছে। আগের তুলনায় সুখের মাপকাঠিতে নেমে গিয়েছে আমেরিকা। তারা রয়েছে ২৪-তম স্থানে, এর আগে কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এত নীচে নামেনি।
অধ্যাপক-সম্পাদক বলেন, সম্পদের অসাম্য আমেরিকাকে নর্ডিক দেশগুলির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনের জিডিপি নর্ডিক দেশগুলির মতো হলেও তাদের আর্থিক বৈষম্য অনেক বেশি। অর্থাৎ কারও হাতে বিপুল ধনৈশ্বর্য রয়েছে, আবার কারও হাতে কিছুই নেই। আর্থিক কারণ ছাড়াও রিপোর্টে সামাজিক বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সম্পর্ক ও মানুষের মূল্যবোধের উপরেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যেমন নর্ডিক দেশগুলির মানুষের অধিকাংশই হারিয়ে যাওয়া ওয়ালেট ফেরত পাওয়ার আশা রাখেন। সেখানে আমেরিকায় বাস্তবে কেউই তা আশা করেন না।
বিশ্বের সুখী দেশগুলির রিপোর্টে মোট ১৪৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান রয়েছে ১১৮ নম্বরে। ২০১২ সালে ভারত সবথেকে খারাপ অবস্থায় ১৪৪ নম্বরে ছিল। আর সবথেকে ভালো ব়্যাঙ্ক করেছিল ২০২২ সালে, ৯৪ স্থান অর্জন করেছিল ভারত। সব শেষে রয়েছে আফগানিস্তান। যেখানে আফগান মেয়ে ও মহিলারা বেঁচে থাকার সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। সিয়েরা লিওন ও লেবাননের প্রায় একই অবস্থা। যে মানগুলিকে সুখী দেশের জন্য ধরা হয়েছিল, সেগুলি হল সামাজিক নির্ভরতা, জিডিপি, স্বাস্থ্যকর জীবনের অভিলাষ, স্বাধীনতা, মহত্ব এবং দুর্নীতি।
বিরাট জনসংখ্যা, গোষ্ঠী সংস্কৃতি এবং একান্নবর্তী পরিবারের জন্য সামাজিক ক্ষেত্রে ভারত ভালো মান পেলেও ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়ে অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে শ্রীলঙ্কা রয়েছে ১৩৩ নম্বরে, বাংলাদেশ ১৩৪ নম্বরে, পাকিস্তান ১০৯, নেপাল ৯২ এবং চিন ৬৮ নম্বরে স্থান পেয়েছে।