
ছবিটি প্রতীকী
শেষ আপডেট: 23 April 2025 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিকভাবে অসুস্থ, বাড়ির লোক অসুস্থ বা কেউ হাসপাতালে ভর্তি! এমন কথা বলে অফিস থেকে হঠাৎ ছুটি নেওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেউ কেউ কারও মারা যাওয়া নিয়েও মিথ্যে বলে থাকেন। আজকাল রেডিট বা লিঙ্কডইনে চোখ রাখলে সেসব উদাহরণ পাওয়া যায়। কিন্তু সকলেই যে মিথ্যে বলেন বা সবসময়ই যে কেউ মিথ্যে বলে ছুটি নিচ্ছেন, এমনটা ভেবে নেওয়া ভুল। কারণ পরিবারের কারও বা নিজেরও শরীর খারাপ করতেই পারে। মারাত্মক আকারও নিতে পারে পরিস্থিতি। সব দিক বিবেচনা করে, মানবিকতা ও বিশ্বাসে ভর করে কোনও সংস্থাই 'অসুস্থতার' প্রমাণ চায় না। অফিসে নানা গুঞ্জন চললেও প্রকাশ্যে সেকথা ভুলেও কেউ বলে না। কিন্তু সবকিছুকে যেমন এক ছকে বাঁধা যায় না, তেমনই এই মহিলার ক্ষেত্রেও যেমনটা সবসময় হয়ে থাকে, তেমন হয়নি।
তাহলে ঠিক কী হয়েছিল ওই মহিলার সঙ্গে? এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্ট থেকে জানা যায়, সম্প্রতি এক মহিলার আত্মীয় গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্যানসার সংক্রান্ত একটি অস্ত্রপচার করতে হয় বলে তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই সূত্রেই আগেভাগে ছুটি চেয়েছিলেন। ছুটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন তাঁর টিম লিড। কিন্তু ম্যানেজারের কান পর্যন্ত পৌঁছয়নি। অফিসে না আসায় ম্যানেজার জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
Update: i quit the job https://t.co/mOUfZG7QAS
— pata nahi (@tired_peanutt) April 21, 2025
আত্মীয় অসুস্থ জেনে তাঁর থেকে প্রমাণস্বরূপ হাসপাতালের ছবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন ও জিপিএস লোকেশন চাওয়া হয়। পরিস্থিতি প্রমাণ করার জন্য চাপও দেওয়া হয় বলে এক্স হ্যান্ডেলে জানান মহিলা। লেখেন, 'আমি যখন বললাম এটা অসম্মানজনক, তখন তিনি রেগে উল্টে আমার অ্যাটিটিউড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারপর অন্তত ২০ বার করে বলেন, ‘তুম কি সার্জারি কর রাহি থি?’ (তুমি কি সার্জারি করছিলে?)—এবং নিজের প্রশ্ন করাকে সঠিক বলেই বারবার জোর দেন।'
মহিলা জানান, ম্যানেজার তাঁকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চিৎকার করে বকাবকি করেন এবং বলেন, বাড়ি ফিরে ক্ষমা চেয়ে একটি ইমেল পাঠাতে হবে, সঙ্গে হাসপাতালের ডকুমেন্টসও দিতে হবে। কিন্তু এসব কিছু না পাঠিয়ে মহিলা বদলে রেজিগনেশন দেন।
এই পোস্টটিই ভাইরাল হয় ইন্টারনেটে। এমন ঘটনায় গর্জে উঠেছেন অনেকেই। বহু ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এটিকে 'টক্সিক ওয়ার্ক কালচার' বলে দাগিয়ে দেন। অনেকে কর্মচারীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সমালোচকরা বলতে শুরু করেন, 'বিশ্বাস ছাড়া কাজ সম্ভব কীভাবে। কোনও কর্মচারীকে বিশ্বাস না করলে, তাঁর কাজ নিয়েও তো প্রশ্ন থেকেই যায়!'
সংস্থার তরফে যদিও কোনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।