
শেষ আপডেট: 9 August 2022 07:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুচকুচে কালো পাখি, তার ঠোঁট গাঢ় হলুদ। বাংলার গ্রামগঞ্জে গাছে গাছে ময়না পাখির (Myna Bird) অভাব নেই। ময়না নিয়ে কত গান-গল্পও রয়েছে প্রচলিত। কিন্তু এমন একটা পাখির সঙ্গে মৃতদেহের কী সম্পর্ক? কেন তার নামেই রাখা হয়েছে ‘পোস্টমর্টেম’-এর (Postmortem) বাংলা নাম?
যে কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর পোস্টমর্টেম হয়ে থাকে। মৃতদেহে কাটাছেঁড়া করে মৃত্যুর কারণের খুঁটিনাটি তথ্য উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর তদন্তে এই পোস্টমর্টেম রিপোর্টই শেষ কথা। কিন্তু বাংলায় তাকে ময়নাতদন্ত কেন বলে? কেউ কখনও ভেবে দেখেছেন কি?
আসলে পোস্টমর্টেমের গূঢ় অর্থ বাংলায় যথাযথভাবে বোঝাতে ময়নাতদন্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ময়না পাখির সঙ্গে এই পোস্টমর্টেমের যোগ গভীর।
কালো কুচকুচে পাখি ময়না। তার পালকের রঙ এতটাই কালো যে অন্ধকারে মিশে থাকতে পারে এই পাখি। অন্ধকারে কোথাও লুকিয়ে থাকলে ময়না পাখিকে চট করে খুঁজে পাওয়া যায় না।
শুধু তাই নয়, ময়না ৩ থেকে শুরু করে ১৩ রকমভাবে ডাকতে পারে। ময়নার ডাক শুনে সবাই তাই চিনতে পারেন না। একমাত্র অভিজ্ঞ কারও পক্ষেই ময়নার ডাক চেনা সম্ভব।
যে কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্যের চাদরে মোড়া থাকে। পোস্টমর্টেম যাঁরা করেন, তাঁদের দায়িত্ব মৃতদেহ কাটাছেঁড়া করে সেই মৃত্যু রহস্যের কিনারা করা। মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঠিক কী কী হয়েছিল, তা কেউ জানে না। সেই না জানা-কেই সামনে আনে পোস্টমর্টেম। যে কেউ এই কাজ করতে পারেন না, পোস্টমর্টেমের জন্য চাই অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
এই কারণেই পোস্টমর্টেমের বাংলা নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে ময়না পাখি। মৃতদেহের কাটাছেঁড়া করে সত্যের অনুসন্ধানকে ময়নাতদন্ত বলা হয় বাংলায়। আঁধারে লুকিয়ে থাকা ময়না পাখিকে যেমন সামান্য সূত্রের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হয়, তেমনই সামান্য কিছু সূত্র অনুসরণ করেই ময়নাতদন্তেও বড় রহস্য উদঘাটন করেন চিকিৎসকরা।
অবশ্য পোস্টমর্টেমের বাংলা নাম কেন ময়নাতদন্ত রাখা হয়েছে তা নিয়ে একটি ভিন্ন মতও প্রচলিত রয়েছে। অনেকে বলেন, আরবি শব্দ ‘মুআয়ানা’ থেকে ময়নাতদন্ত শব্দটি এসেছে। আরবিতে এই শব্দের অর্থ অনুসন্ধান। হিন্দিতেও এর ব্যবহার আছে।
আরও পড়ুন: বর নেবে গো বর! বিহারের এই মেলায় এভাবেই বিক্রি হয় পাত্র’ ইচ্ছেমতো বেছে নেন বিবাহযোগ্যারা