
শেষ আপডেট: 7 November 2023 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘সাপের ভাষা সাপের শিস, ফিস্ ফিস্ ফিস্ ফিস্! বালকিষণের বিষম বিষ’…
এই বিষম বিষেই নাকি আসল মজা। সেখানে মদের নেশা কোথায় দাঁড়ায়! জিভে আলতো ছোবলেই কেঁপে ওঠে গোটা শরীর। ঝনঝনিয়ে ওঠে শিরা-উপশিরা। শরীর জুড়ে নেমে আসে বিষাক্ত ক্লান্তি । এঁকেবেঁকে চলা স্নায়ুর জাল ঝিমিয়ে পড়ে। বিষের মাত্রা সামান্য বেশি হলেই প্রাণবায়ু একেবারে খাঁচা ছেড়ে কখন যে উধাও হয়ে যাবে টেরটিও পাওয়া যাবে না।
বিষের নেশা মারাত্মক। সাপের বিষ। ব্যোমকেশ বক্সীর গল্পে মাকড়সার রস দিয়ে নেশা করতে দেখা গিয়েছিল। তবে তার থেকেও ভয়ঙ্কর সাপের বিষের নেশা। গোখরোর এক দানা বিষ পেছনে ফেলে দেবে শত দামি মাদককেও। কেউটে, গোখরোর গরলে দিনভর কেন টানা এক সপ্তাহও বুঁদ হয়ে থাকা যায়। অবৈধ রেভপার্টিগুলোর সন্ধে জমে ওঠে এই অবৈধ নেশাতেই। সীমান্তপার থেকে চোরাগোপ্তা পথে সাপের বিষ পাচার করতে গিয়ে প্রায়ই ধরা পড়ে পাচারকারীরা। বিএসএফের নজর এড়িয়ে সাপের বিষ চালান করার নিত্যনতুন কৌশলও বানচাল হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়েই।
এখন কথা হল সাপের বিষের নেশা নিয়ে এত হইচই কেন। সাপের বিষ পাচারের অভিযোগে সম্প্রতি ধরা পড়েছেন ‘বিগ বস্’ জয়ী এলভিশ যাদব। দিন কয়েক আগেই এলভিশের বিরুদ্ধে সাপের বিষ পাচার করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ এমনও ছিল যে, তিনি নাকি অবৈধ রেভ পার্টির আয়োজন করেছেন। এলভিশ-সহ মোট সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নয়ডা পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সাপের বিষ, এমনকী জ্যান্ত কেউটে, গোখরোও।
সর্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের বিষও শরীরে ঢুকলে অ্যালকোহলের মতোই নেশা হয়। গোটা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ঝিমিয়ে পড়তে থাকে। সাপের বিষ এমন এক নিউরোটক্সিন যা স্নায়ুর নিউরোট্রান্সমিটারগুলোকে অকেজো করে দিতে থাকে। ফলে সারা শরীরে স্নায়বিক ক্রিয়া ধীরগতিতে হতে থাকে। অবশ হয়ে পড়তে থাকে শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
২০১৪ সালে সাপের বিষ নিয়ে একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছিল ন্যাশনাল লাইব্রেরি মেডিসিনে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, কেউটে, গোখরোর বিষেই নেশা হয় বেশি। গোখরো বা কেউটের বিষ হাওয়ার সংস্পর্শে আসামাত্রই চিনির দানার আকার ধারণ করে। এক একটি দানা কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সাপের আলতো ছোবল জিভে বা ঠোঁটে নিয়ে নেশা করা হয়। সাপের বিষ শরীরে ঢুকলে খুব ধীরে ধীরে সেরোটোনিন, ব্র্যাডিকাইনিন নিঃসরণ করে যা রক্তে মিশতে থাকে। বিষের মাত্রা সামান্য বেশি হলেই গোটা শরীর পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনেক সাপের বিষ আছে যা মনের উপর প্রভাব ফেলে। মানসিক ভারসাম্য ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ৩৩ বছরের এক পুরুষের কেস স্টাডি পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখেছেন, সাপের কামড়ের পর শরীরে হালকা কাঁপুনি হতে থাকে। চোখ জ্বলতে থাকে। জ্ঞান থাকলেও প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। এক ঘণ্টা পর্যন্ত ব্ল্যাকআউট হতে পারে। তবে এক ঘণ্টা পর থেকে চনমনে অনুভব করতে থাকেন সাপের বিষ নেওয়া ব্যক্তিরা। তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত এই বিষের প্রভাব থাকে শরীরে।
সাপের বিষের নিউরোটক্সিন প্রভাব থাকায় তা ব্যথা-বেদনার উপশম করে। চেতনা কমতে থাকার পাশাপাশি ব্যথার অনুভূতিও চলে যায়। ফলে শরীর অসাড় হতে থাকে। কেউটে সাপের বিষে যে বিষ পাওয়া যায় তা সাধারণত নিকোটিনিক অ্যাসিটিলকোলাইন রিসেপটর্স। মানুষের মস্তিষ্কে এটি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ করতে শুরু করে দেয়। রক্তে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে এই বিষ সেরোটোনিন ছাড়তে শুরু করে। যেটি হিপনোটিক এবং সিডেটিভের কাজ করে। নেশা করার পর আচ্ছন্নভাব আসে। বোধশক্তিও হারিয়ে যায় বেশিরভাগ সময়েই।