
শেষ আপডেট: 15 December 2023 21:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিষ্টি খাবারের প্রতি বাঙালির ভক্তি পৃথিবীবিখ্যাত। প্রকৃতপক্ষে, কলকাতা শহরের বেশির ভাগ মানুষের ধারণা মিষ্টি খাবার যে কোনও বয়সের মানুষকে আনন্দ দিতে পারে। আর এখন কলকাতা মানেই নানারকম কেক। উত্তুরে হাওয়ায় বড়দিনের সকালে চড়ুইভাতি না হলেও এক টুকরো কেক কিন্তু চাই-ই চাই। ভ্যালেন্টাইনস ডে হোক বা যে কোনও উৎসব, এখন তো ঠাকুরের ভোগের পাতেও বেশ জায়গা করে নিচ্ছে কেক। রিচ ফ্রুট কেক, চকোলেট ওয়ালনাট কেক থেকে প্লাম কেক—এখনকার উৎসব-পার্বণ তো বটেই তাছাড়া জন্মদিন, ভালবাসার দিন, এমনকী ফাদার্স ডে-মাদার্স ডে রীতিমতো কেকময়। বাবা-কাকা-জ্যেঠার জন্মদিনও পালন হচ্ছে কেক কেটে। ফ্লুরিজ, নাহুম অ্যান্ড সন্স, হায়াত রিজেন্সির বেকারি, ক্রিমস কেকের রমরমা বাজার তিলোত্তমায়। আর মিও আমোরে তো কেকের গণতন্ত্র এনে দিয়েছে। পাড়ার মোড়ে মিও আমোরে। সেলিব্রেশন মানেই কেক। কিন্তু ভারতে কেকের শহর কিন্তু মোটেও কলকাতাকে বলা হচ্ছে না। তিলোত্তমাকে টেক্কা দিয়ে দিয়েছে আরও এক শহর।
এই শহরের লোকজন এত বেশি কেক খাচ্ছেন যে তা দেখে ভিড়মি খাচ্ছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ সুইগিও। ২০২৩ সাল জুড়ে যত রকম খাবারের অর্ডার গেছে সুইগিতে, তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নানারকম কেক।
অনলাইন ফুড ডেলিভারির সংস্থা সুইগি তাদের এ বছরের সবচেয়ে বেশি অর্ডার করা খাবারের তালিকা সামনে এনেছে। তাতে দেখা গেছে, বেঙ্গালুরুর মানুষজন গপাগপ করে কেক খেয়ে যাচ্ছেন। এই এক বছরে শুধু বেঙ্গালুরু থেকেই ৮৫ লাখ কেকের অর্ডার গেছে সুইগিতে। দেখা গেছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিনে মিনিটে ২৭১টি করে কেকের অর্ডার গেছে সুইগিতে। তাও এখনও ক্রিসমাস আসতে কিছুদিন বাকি। ওই দিনের অর্ডার মেলালে হয়ত তা কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
এত বেশি কেকের অর্ডার দেওয়ার জন্য এখন বেঙ্গালুরুকে ডাকা হচ্ছে ‘কেক ক্যাপিটাল’ নামে। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে একজন ক্রেতা তো একসঙ্গে একশোর বেশি কেকের অর্ডার দিয়েছিলেন। বেঙ্গালুরুতে সবচেয়ে বেশি অর্ডার গেছে চকোলেট কেকের। একটি পরিবার গত কয়েকমাসেই হাজার হাজার কেকের অর্ডার দিয়েছে। সেই সঙ্গেও মিষ্টির অর্ডারও গেছে প্রচুর।
এ বছর সবচেয়ে বেশি খাবারের অর্ডার দিয়েছে মুম্বই। বছরে একজন ক্রেতা প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার খাবারের অর্ডার দিয়েছিলেন সুইগিতে। এরপরেই আছে, চেন্নাই, দিল্লি, হায়দরাবাদ। প্রতিটি শহর থেকে ১০ হাজারের বেশি বার খাবারের অর্ডার গেছে সুইগিতে।
সুইগি জানাচ্ছে, পাশ্চাত্য খাবারের দিকেও ঝোঁক বেড়েছে। ঝাঁসীর একজন একদিনে ৩০০-র কাছাকাছি খাবার অর্ডার দিয়েছিলেন সুইগিতে, যার মধ্যে পিৎজাই ছিল ২৬৯টি।
হায়দরাবাদ আবার দক্ষিণী খাবারেই বেশি স্বচ্ছন্দ্য। এই শহর থেকে বছরে ৬ লাখ টাকার বেশি ইডলি, মশলা ধোসার অর্ডার গেছে। মিষ্টির মধ্যে গোলাপজামের অর্ডার সবচেয়ে বেশি প্রায় ৭৭ লাখ, আর আমিষের মধ্যে লাখ লাখ টাকার শুধু চিকেন বিরিয়ানিরই অর্ডার গেছে সুইগিতে।