
শেষ আপডেট: 1 January 2024 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখে দেখলেই গা শিউরে ওঠে। শরীরে এদের আধিপত্য বাড়লে অপুষ্টি তো হবেই, সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, হিমোগ্লোবিন কম ইত্যাদি নানা রোগ দেখা দিতে পারে। অন্ত্রে আবার শয়ে শয়ে সাদা গোলকৃমিরা (Roundworms) জড়াজড়ি করে সংসার পাতলে ডাক্তার দেখাতেও হতে পারে। এই যে গোলকৃমিদের নিয়ে এত নাক সিঁটকুনি, দেখলেই গা বমি ভাব, সংক্রমণের ভয়, এদেরও কিন্তু কিছু উপকারিতা আছে। গোলকৃমিদের এমন আশ্চর্য ক্ষমতার পরিচয় পেয়েছেন বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞানীরা যাকে ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারলে আগামী দিনের মানুষের প্রভূত উপকারও হতে পারে।
সব প্রাণীরই কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এখন মনে হতে পারে কৃমি জাতীয় এই প্রাণী যাদের না আছে চোখ, না আছে কান, গন্ধও টের পায় না, তারা আবার কী উপকারে লাগতে পারে। টুইস্ট এখানেই। এতদিন ধরতেই পারেননি বিজ্ঞানীরা।
গোলকৃমি বা রাউন্ডওয়ার্ম নিমাটোডা পর্বের সদস্য। যে গোলকৃমিদের কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা তাদের বৈজ্ঞানীক নাম সি এলিগ্যান্স। ব্যাকটেরিয়া এদের পছন্দের খাবার। বিজ্ঞানীরা বলছেন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই গোলকৃমিরা যে কোনও টক্সিক ব্যাকটেরিয়া খেয়ে ফেলতে পারে। যদিও মানুষের অন্ত্রে উপকারি ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়াদের আক্রমণ করতেও দেখা যায় এদের। তবে এই গোত্রের গোলকৃমিদের পছন্দের খাদ্য নানারকম সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া। সেজন্যই অপরিষ্কার ব্যাকটেরিয়া বহুল স্থানে এদের জন্মাতে দেখা যায়। সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া ধারেকাছে আছে বুঝলেই এরা ছুটে গিয়ে হামলা করে। আর ব্যাকটেরিয়ার শরীর যদি নীল রঙ বা নীল বর্ণের কোনও রঞ্জক থাকে, তাহলে কথাই নেই। চুম্বকের মতো সেই ব্যাকটেরিয়ার দিকেই ঝড়ের গতিতে তেড়ে যাবে এরা। যে ব্যাকটেরিয়া যতই পালাবার চেষ্টা করুক না কেন।
এ তো গেল ব্যাকটেরিয়া খাওয়ার রুচি। তবে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হল, এই ধরনের গোলকৃমিরা (Roundworms) নীল রঙ চিনতে পারে। সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার কথা বিস্তারিত লিখেছেন বিজ্ঞানীরা। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, চোখ নেই মানে দৃষ্টিশক্তি নেই, তা সত্ত্বেও নীল রঙ চিনতে পারে এই গোলকৃমিরা। অন্ধকার বা কম আলোতেও রঙ শণাক্ত করতে পারে এরা। গবেষক ডি. দীপন ঘোষ বলছেন, খুব জোরালো আলো বা আলট্রাভায়োলেট রশ্মিতে এদের জীবনীশক্তি কমে যায়। যদি আলোর তীব্রতা কম থাকে বা অন্ধকার থাকে তাহলে দ্রুত রঙ চিনে এগিয়ে যেতে পারে এই গোলকৃমিরা। বিশেষ করে নীল রঙ।
বিজ্ঞানীরা এই ধরনের গোলকৃমিদের সামনে ব্যাকটেরিয়া রেখে দেখেছেন এরা ধীর গতিতে শিকার ধরতে যাচ্ছে। কিন্তু যে মুহূর্তে নীল রঞ্জক ঢেলে দেওয়া হয়েছে ব্যাকটেরিয়ার গায়ে, দেখা গেছে গতি বেড়ে গেছে এদের। কীভাবে এবং কী উপায়ে রঙ বুঝতে পারছে গোলকৃমিরা সেটা ধরতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।
গবেষণায় অনুমান করা হচ্ছে jkk-1 ও lec-3 নামে দুটি জিন এই বিশেষ ক্ষমতার জন্য দায়ী। এই দুই জিনের প্রভাবে দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই অন্ধকারেও রঙ চিনতে পারে গোলকৃমিরা । মানে সোজা কথায় বলতে গেলে, এদের ভিশন তৈরি হয়ে যায় এই দুই জিনের প্রভাবে। এই আবিষ্কার পরবর্তীকালে মানুষের উপকারেও লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্ধকারেও ভিশন তৈরি হওয়া এবং দৃষ্টি ছাড়াই রঙ চিনে নেওয়ার এই আশ্চর্য ক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে মানবসমাজেরও অনেক উপকার হবে বলে আশা রাখছেন বিজ্ঞানীরা।