
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরে আর মন টিকছে না, চট করে কোথাও ঘুরে আসতে চান। এদিকে মনটা বলছে বিদেশের (Foreign) হাওয়া খেয়ে আসতে চাই। কিন্তু তার হাজারো ঝামেলা, ভিসা নাও, ফ্লাইটের ভাড়া দেখ ইত্যাদি। কিন্তু যদি এমন হয়, আপনি বিদেশও ঘুরলেন, খুব বেশি খরচও হল না? তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে নিন, ‘দ্য ওয়াল’-এর কাছে রয়েছে এমনই এক শহরের (Foreign city) সন্ধান যা কিনা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের একটি।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ভ্লগার চৈতালি ভার্মার একটি রিল ভাইরাল (Viral) হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি একা ঘুরে এসেছেন নর্দান লাওসের লুয়াং প্রাব্যাং (Luang Prabang) থেকে। নৈসর্গের মাঝে ঐতিহাসিক ও শহুরে কালচারের যথাযথ মেলবন্ধন লুয়াং প্রাব্যাং।
View this post on Instagram
ইউরোপীয়ান সংস্কৃতি যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে গোটা শহর জুড়ে। যেদিকে চোখ যাবে, সেদিকে বৌদ্ধ ও ফ্রেঞ্চদের (French) কলোনিয়াল ঐতিহ্যের ইতিহাস।
আপনি যদি ‘উঠল বাই তো কটক যাই’ গোত্রের মানুষ হয়ে থাকেন, লুয়াং প্রাব্যাং আপনার জন্য আদর্শ জায়গা কারণ আপনি ভিসা পাবেন ‘অন অ্যারাইভাল’ বেসিসে। ভারত থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অন্যান্য বিদেশযাত্রার তুলনায় ফ্লাইটের ভাড়ায় আপনার শকও লাগবে না। মন ভাল করে দেওয়া থাকার জায়গা পাবেন তাও মাত্র ৭০০ টাকায়।
সুন্দর ওয়াটার ফলসের পাশে বসে থাকতে থাকতে কখন সময় পেরিয়ে যাবে বোঝা দায়। মেকং নদীর বুকে দেখতে পারেন সূর্যাস্ত। রয়েছে সা সা সানসেট ক্রুজে ভ্রমণের ব্যবস্থা, এখানে ক্রুজের ভাড়া শুরু মাত্র ৫০০ টাকা থেকে।
ননভেজের প্রচুর অপশন থাকলেও ভেজ খাবারও কিছু কম ভাল নয় লুয়াং প্রাব্যাং-এ। জঙ্গলে হাতিরা যেখানে আনন্দে ঘুরে বেড়ায়, তাদের একদম মাঝে বসে খেতে খেতে খেলায় মেতে উঠেন অনেকে।
লুয়াং প্রাব্যাং ঘোরার আদর্শ সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ।
কী কী দেখতে পারেন লুয়াং প্রাব্যাং-এ?
মান্ডালাও ইলিফ্যান্ট স্যাঙ্কচুয়ারি, কুয়াং সি ওয়াটারফলস রয়েছে। ঘুরে আসতে পারেন মোষের ফার্ম। অল্পবিস্তর অ্যাডভেঞ্চার চাইলে ফাউসি হিলে চড়তে পারেন।
লুয়াং প্রাব্যাংয়ের কালচারাল দিক:
ছুটিতে মনের মতো করে ঝালিয়ে নিতে পারেন আপনার হবি। নদীর ধারে বসে বাটিক ওয়র্কশপ জয়েন করতে পারেন। শান্তির কিছু মুহূর্তও এখানে অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। মঙ্কদের সঙ্গে বসে মেডিটেশন, চ্যান্টে অংশ নিতে পারেন।
ঢুঁ মারতে পারেন গারাভেক স্টোরিটেলিংয়ে। স্থানীয় লোককথা শুনতে শুনতে সন্ধেটা কেটে যাবে বেশ। রামায়ণ নিয়ে আপনার ভাললাগা থাকলে, সেখানে বসে অজানা নানা গল্প শুনতে পাবেন।
প্রতিদিন সন্ধে ৬টা থেকে লাওয়ের প্রথম মুভির স্ক্রিনিং হয়, যা ১৯২৩ সাল থেকে হয়ে আসছে।
শপিং যদি নেশা হয়, রাতের শহরে যে বাজার বসে সেটাও ঘুরে দেখার একটা ভাল জায়গা হতে পারে।
কালচার (Culture) হোক বা অ্যাডভেঞ্চার (Adventure), লুয়াং প্রাব্যাং আপনাকে হতাশ করবে না কোনওদিক দিয়েই। পরিবারের সঙ্গে যেতে পারেন, সঙ্গে যদি কাউকে না পান, তাহলে একাও ঘুরে আসতে পারেন। রিমোটলি কাজ করার জন্যও বেছে নিতে পারেন এই শহর।
আপনার হাতে যদি তিন থেকে চার দিনও থাকে, তাহলে নিশ্চিতে ঘুরে আসতে পারেন, তবে অন্তত সাতদিনের কমে লুয়াং প্রাব্যাং ছেড়ে চলে যেতে আপনার মন চাইবে কি না সন্দেহ।