
শেষ আপডেট: 13 November 2023 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্টার্টার থেকে ডেজার্ট, কী নেই! খাবারের নাম শুনলে চমকে উঠবেন। স্যামন, বিফ, চিকেন, শেষ পাতে ভিক্টোরিয়া পুডিং! ভাবছেন তো কীসের মেনু? এটা হল বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের নৈশভোজের মেনু। ওই জাহাজের সওয়ারিদের এমন খাবারই দেওয়া হত। ১১১ বছর আগের সেই মেনু কার্ড ফের আলোচনায় উঠে এল!
১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল। হিমশৈলে ধাক্কা খেয়ে বিলাসবহুল জাহাজ টাইটানিকের সলিল সমাধি হয়েছিল। সেই জাহাজ নিয়ে আজও মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সীমা নেই। কী ছিল সেই জাহাজের মধ্যে, কেমন ব্যবস্থা ছিল, কীভাবে যাত্রীরা ওই জাহাজে সফর করছিলেন, এত বড় জাহাজ কীভাবে সমুদ্রে ভেসে চলত, কীভাবেই বা ডুবে গেল- হাজার হাজার প্রশ্ন। এই জাহাজ নিয়ে অনেক দলিল, নথি সামনে এসেছে, রুপোলি পর্দায় ফুটে উঠেছে সেই জাহাজের গল্প। তাও মানুষের কৌতূহল ফুরোয় না।
এবার সেই জাহাজের একটি মেনু প্রকাশ্যে এল। দামি সাদা কাগজের ওপর ছাপার অক্ষরে লেখা খাবারের নাম। কাগজের মাথায় টাইটানিকের লোগো। তারিখটা ১১ এপ্রিল, ১৯১২। কালের নিয়মে কাগজের গায়ে লালচে রঙের ছোপ লেগেছে। এমন দুর্লভ জিনিস এবার নিলামে উঠল।
টাইটানিক তার প্রথম সফরেই ডুবে গিয়েছিল। দেড় হাজার যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল সেই দুর্ঘটনায়। তবে ওই জাহাজে থাকা কয়েকজন যাত্রী বেঁচে যান। তাঁদের স্মৃতির ওপর ভর করেই টুকরো টুকরো কথা মিলিয়ে বুনে নেওয়া যায় টাইটানিক 'ঐতিহাসিক' সফরের কাহিনি। সমুদ্রের তলা থেকে মিলেছে টাইটানিকের অনেক জিনিস যা আজও বহু মানুষের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় আছে।
সেই ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকেই এবার সামনে এল ডিনার মেনুটি। কী নেই সেই তালিকায়? স্যামন, গরুর মাংস, হাঁস এবং মুরগির মাংস, আলুর পদ, ভাত ইত্যাদি। এছাড়াও এপ্রিকট এবং ফ্রেঞ্চ আইসক্রিমও ছিল।
আর একটা পদ ছিল, ভিক্টোরিয়া পুডিং। খাবারের এই পদটির স্বাদ কেমন জানা না গেলেও কী কী উপকরণ দিয়ে তা তৈরি হয়েছিল তার আভাস দেওয়া ছিল মেনু কার্ডে। ময়দা, ডিম, জ্যাম, ব্র্যান্ডি, আপেল, চেরি, চিনি এবং বিভিন্ন মশলার মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ডেজার্টটি যে সুস্বাদু ছিল, টা বলে দিতে হয় না!
টাইটানিক জাহাজের প্রথম শ্রেণির এই মেনুটি সম্প্রতি নিলামে উঠেছিল। ‘হেনরি অ্যালড্রিজ অ্যান্ড উইল্টশায়ার সনস’ সংস্থা এই খাদ্যতালিকা নিলাম করেছে। নিলাম সংস্থাটির ম্যানেজার অ্যান্ড্রু অ্যালড্রিজ জানিয়েছেন, ইতিহাসবিদ লেন স্টিফেনসনের একটি পুরোনো ফটো অ্যালবামে এই খাদ্যতালিকাটি ছিল।
এই মেনু এক এবং অদ্বিতীয়। অ্যান্ড্রুর কথায়, তিনি বহু জাদুঘর ও টাইটানিকের জিনিসের সংগ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোথাও এমন আর কোনও মেনু পাওয়া যায়নি। ফলে নিলামে এই মেনুর দাম আকাশছোঁয়া হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিলামে এই মেনুর দাম উঠেছে ৮৩ হাজার পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য সাড়ে ৮৪ লাখ টাকা!