
শেষ আপডেট: 30 December 2022 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যমজ বোন মারা গেছেন, তিন বছর হল। কিন্তু দাদু-ঠাকুমাকে সেই দুঃসংবাদ দেওয়ার সাহস হয়ে ওঠেনি এখনও। তাঁদের বয়স হয়েছে, এই ধাক্কা হয়তো সামলাতে পারবেন না তাঁরা। তাই গত ৩ বছর ধরেই নিজেই নিজের বোন সেজে দাদু-ঠাকুমার কাছে অভিনয় করে চলেছেন টিকটক তারকা অ্যানি নিউ (Annie Niu)। শুধু দাদু-ঠাকুমাকেই নয়, এভাবেই নিজেরই মধ্যে বোনকে দিনের পর দিন বাঁচিয়ে রেখেছেন অ্যানি (pretends to be her twin sister)।
টিকটকে ১ লক্ষ ২০ হাজার ফলোয়ার রয়েছে অ্যানির (tiktok star)। সেখানেই সম্প্রতি একটি ভিডিওতে এই আশ্চর্য তথ্য শেয়ার করেছেন তিনি। অ্যানি জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর যমজ বোন ছোটবেলা থেকে একই সঙ্গে একইভাবে বড় হয়েছেন। তাঁদের বড় করার পিছনে তাঁর ঠাকুমা এবং দাদুর অনেকখানি অবদান রয়েছে। বছর তিনেক আগে ভাইরাল মেনিনজাইটিসে মৃত্যু হয় তাঁর বোনের। সে কথা তিনি এবং তাঁর বাবা-মা জানলেও বৃদ্ধ দাদু-ঠাকুমাকে সেই দুঃসংবাদ জানানোর সাহস হয়নি কারও।
অ্যানি জানিয়েছেন, প্রতি বছরই ক্রিসমাস এবং অন্যান্য ছুটির দিনে বোন সেজে ঠাকুমা-দাদুকে ফোন করেন তিনি। সুখ দুঃখের অনেক কথা হয় তাঁদের মধ্যে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ফোনে কথা বললেও বোন কেন তাঁদের দেখতে যান না, সে প্রশ্ন প্রায়ই করেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এর উত্তরে এখনও তিনি ও তাঁর বাবা-মা নতুন নতুন অজুহাত বানিয়ে চলেছেন, জানিয়েছেন নিউ।
ভিডিওটি নেটমাধ্যমে শেয়ার করা মাত্রই ৪ দিনের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ দেখে ফেলেছেন সেটি। অনেকেই নিউয়ের এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন, দাদু-ঠাকুমা যদি কোনও দিন সত্যিটা কোনওভাবে জেনে যান তখন কী হবে? একজন তো সরাসরিই বলেছেন, এই ধরনের কাজ অসুস্থতার নামান্তর।
একজন লিখেছেন, 'তাঁদের সত্যিটা জানা উচিত।'
'তাঁদের এই মুহূর্তে মরে যাওয়ার কথা নয়। আপনি কি গ্যারান্টি দিতে পারেন, সত্যিটা জানার পর তেমন কিছু হবে না?' জবাব দিতে গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন অ্যানি।
আপাতত তাঁদের সত্যিটা জানানোর কোনও পরিকল্পনাই নেই নিউ ও তার বাবা-মার। 'আমাদের অত সাহস নেই। এই খবর ওঁদের শেষ করে দেবে,' ভিডিওতে জানিয়েছেন নিউ।
তিনি আরও জানিয়েছেন এই অভিনয়ের মাধ্যমে বোনকে কাছে পাওয়ার অনুভূতি হয় তাঁর। 'আমি এখনও প্রায় প্রতি রাতেই ওকে স্বপ্নে দেখি,' জানিয়েছেন তিনি।
অনেকেই অবশ্য নিউয়ের সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। নেটিজেনদের অনেকেই তাঁর প্রতি সমর্থন এবং সমবেদনা ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেছেন যেখানে পরিবারের কারও অসময়ে মৃত্যুর খবর জানার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাড়ির বয়স্করা।
একজন লিখেছেন, 'আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার ঠাকুরমা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর মাত্র দু সপ্তাহের মধ্যেই ভগ্ন হৃদয় নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনিও। ওই দুঃসংবাদ তিনি সহ্য করতে পারেননি।'
দুর্ঘটনায় আহত ঋষভকে বাঁচানোর বদলে টাকা নিয়ে পালিয়েছে কয়েকজন, ফাঁস সিসিটিভিতে