
শেষ আপডেট: 20 June 2022 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৫ বছর বয়সেই গোটা মহারাষ্ট্রের ত্রাস হয়ে উঠেছিল অবনি। যাবৎমাল এলাকার মানুষজনের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল সে। মানুষখেকো এই বাঘিনীকে (Tigress avni) ২০১৮ সালে গুলি করে মারেন বনকর্মীরা।

মানুষের অস্ত্রের সঙ্গে অসম লড়াইয়ে অবনিকে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়েছিল। কিন্তু বন্দুকের নলের কাছে সহজে আত্মসমপর্ণ করেনি সে। বরং বছর খানেকের বেশি সময় ধরে রীতিমতো নাকানিচোবানি খাইয়েছিল সকলকে। শত চেষ্টা করেও কিছুতেই এই বাঘিনীকে বাগে আনতে পারছিল না বন দফতর। পাশাপাশি তাকে বাঁচাতে আইনি লড়াইও চলছিল জোরকদমে। চারদিকে রব উঠেছিল 'লেট অবনি লিভ'।

মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) জঙ্গলঘেঁষা এক লোকালয়ে অবনি নামের এই বাঘিনীকে নিয়ে শোরগোল শুরু হয় ২০১৬ সালে। ওই বছর থেকেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল অবনি, তার বিরুদ্ধে ১৩ জন মানুষকে মারার অভিযোগ ছিল। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর যাবৎমালের বোরাটি গ্রামে গুলি করে মারা হয় তাকে। বাঘিনীটির ২টি ছানা ছিল, মায়ের মৃত্যুর সময় তাদের বয়স ছিল দশ মাস।

অবনি সত্যিই মানুষখেকো ছিল না, ওই ১৩ জনকে সত্যিই সে মেরেছিল না আদালতে তা বিচারাধীন। তাকে মেরে ফেলার জন্য যখন থেকে উদ্যোগী হয়েছিল বন দফতর, তখন থেকে বন্য এই প্রাণকে বাঁচানোর জন্যেও ঝাঁপিয়েছিল পরিবেশ ও পশুপ্রেমীরা। বম্বে হাইকোর্ট থেকে অবনির মামলা পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টের দুয়ারেও। কিন্তু বাঘটিকে প্রথমে ধরার চেষ্টা এবং তা ব্যর্থ হলে মেরে ফেলার নিদানই দিয়েছিল আদালত।

আদালত অবনির শিকারে সিলমোহর দিলেও এত সহজে ধরা দেওয়ার পাত্রী সে নয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বাঘিনীকে ধরার জন্য নানাভাবে ফাঁদ পেতেছেন বনকর্মীরা। বন দফতরের হেড কোয়ার্টার নাগপুর থেকে সরিয়ে আনা হয়েছিল যাবৎমালে। কিন্তু কোথায় কী, অবনির টিকিটাও খুঁজে পায়নি কেউ।

তবে অবনি যে আছে তার নিশান চোখে পড়ত বারবার। কখনও গ্রামের রাস্তায়, কখনও মন্দিরের কাছে তার পায়ের ছাপ মিলত মাঝেমধ্যেই। যেখানে যখন যে ছাপ রেখে যেত সেখানে মহিষের ঠ্যাং কিংবা মুরগির টোপ ফেলতেন বনকর্মীরা। ওত পেতে বসে থাকতেন সেই টোপের কাছে। কিন্তু অবনি খাবারের লোভে ধরা দিতে আসেনি। বনকর্মীরাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন অবনি ‘স্মার্ট টাইগ্রেস’। সে জানে, মানুষের সামনে থেকে ঠিক কখন দূরে থাকতে হয়, ঠিক কখন কোথায় লুকিয়ে পড়তে হয়।

বাঘে-মানুষে এই লুকোচুরি খেলা চলেছিল দীর্ঘদিন। ২০১৮ সালে ২ নভেম্বর অবনির সে লড়াই শেষ হয়। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে বাঘটিকে গুলি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ ছিল তাকে আগে বন্দি করার চেষ্টা করতে হবে। তাতে ব্যর্থ হলে তবেই গুলি চালানো যাবে। কিন্তু অভিযোগ অবনিকে যেদিন মারা হয় তার আগে অন্তত মাস দুয়েক বন্দি করার কোনও প্রচেষ্টা চোখে পড়েনি বন দফতরের তরফে।
আরও পড়ুন: দফায় দফায় চিতাবাঘের আক্রমণ আলিপুরদুয়ারে! জখম চারজন, ফাঁদ পেতেছেন বনকর্মীরা

অবনির মৃত্যুর পর গর্জে ওঠে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী সংস্থাগুলি। প্রথমত, অবনি নামের এই বাঘিনী আদৌ মানুষখেকো ছিল কিনা, ওই ১৩ জনকে সেই মেরেছিল কিনা তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। তার উপর বেআইনিভাবে রাতের অন্ধকারে তাকে মারা হয়েছে, মানা হয়নি আদালতের নির্দেশও। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুসারে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যে কোনও পশুর দেহে গুলি চালানো যাবে না। একাধিক বিতর্ক জড়িয়ে আছে অবনি-হত্যার সঙ্গে। অনেকে বলেন, এ আসলে শিকার নয়, ঠান্ডা মাথার খুন।

অবনিকে মেরেছিল কে? দেশের নামকরা শিকারি নবাব শাফাত আলি খানের ছেলে আসগর আলি খানের গুলিতেই অবনির মৃত্যু হয়। শাফাত আলি খানেরই এই ‘অপারেশন’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলেনই না। অবনির মৃত্যুর পর তার দুই ছানাকে উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: জঙ্গলের মাঝে ছানাদের নিয়ে দলবেঁধে রাস্তা পেরোচ্ছে বাঘ! দেখুন রাজকীয় সেই ভিডিও