
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 26 December 2024 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০-র শুরুতে কোভিডের জেরে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়। বহু মানুষ আক্রান্ত হন এই ভাইরাসে। অতিমারীর ফলে শেষ হয় একাধিক পরিবার। খুব দ্রুত এই ভাইরাসের টিকা আসে বাজারে, ফলে খানিকটা হলেও এর বাড়বাড়ন্ত কমানো সম্ভব হয়।
কোভিড ছাড়াও বিশ্বে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এইচআইভি, ম্যালেরিয়া এবং টিউবারকুলোসিস বা টিবিতে। এগুলির মধ্যে প্রথমটি অর্থাৎ এইচআইভি ভাইরাস, টিউবারকুলোসিস ব্যাক্টেরিয়াম, ও ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট।
কোভিডের পর থেকে বেশ সতর্ক বিজ্ঞানীরা। যাতে যেকোনও ধরনের অতিমারী বা প্যানডেমিক আসলে তা সামাল দেওয়া যায়, তার জন্য আগাম কী আসতে পারে তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন তাঁরা। আর সেই সূত্রেই এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা সত্যি হলে তছনছ হয়ে যেতে পারে ২০২৫। আক্রান্ত হতে পারেন বহু মানুষ।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস চোখ রাঙাচ্ছে। যার ফলে নতুন বছরে ভুগতে হতে পারে বহু মানুষকে। ভাইরাসটি হল এইচফাইভএনওয়ান। বার্ড ফ্লুর কারণ। এই ভাইরাসটি বর্তমানে গৃহপালিত পাখি এবং বন্য পাখিদের মধ্যে বিপুল পরিমাণে ছড়িয়েছে। শুধু পাখি নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গোলিয়াতে ঘোড়াদের মধ্যেও এই ভাইরাস দেখা গিয়েছে।
এই ধরনের ভাইরাস যখন পাখি বা পশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখান থেকে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। যা ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের। বার্ড ফ্লু যে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তার উদাহরণও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ছেয়ে গিয়েছে বার্ড ফ্লুতে। সেখানকার ৬১ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মূলত তাঁরা আক্রান্ত পাখিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। পাখি ছাড়াও ঘোড়াদের থেকে বা অন্য কোনও পশুর থেকেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। মূলত সেই পশুর দুধ থেকে।
সমীক্ষা বলছে, দু'বছরে এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দু'জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাটা ৬১ ছাড়িয়েছে। যা ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের। গতবারের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি এবং সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে।
তবে বিজ্ঞানীরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন একটা কারণে। এই ভাইরাস মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে না। অর্থাৎ কোনও একজন মানুষ যদি
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে তার থেকে আর কেউ আক্রান্ত হবেন না। তাই অতিমারী হওয়ার আশঙ্কা কম।
তবে সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্ট আবার বলছে, গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, ফ্লু জেনোমে একটি মাত্র মিউটেশনেই এইচফাইভএনওয়ান ভাইরাস মানুষের মধ্যে মানুষের ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার ফলে তা অতিমারীর আকার নিতেই পারে। যদি এই ভাইরাসটি যার জন্য বার্ড ফ্লু হচ্ছে, সেটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে দেখা যায়, তাহলে ব়্যাপিড অ্যাকশন নিতে হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন অতিমারীর জন্য তৈরি হতে হবে সমস্ত প্রশাসনকে।
ইউনাইটেড কিংডম ইতিমধ্যেই বার্ড ফ্লু বা এই ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে এইচ ফাইভ ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলেছে। যদি কোনওরকম অতিমারী তৈরি হয়, তার জন্য তারা প্রস্তুত।
রিপোর্ট বলছে, যদি এই ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে নাও পড়ে তাও শুধুমাত্র পশু-পাখিদের মধ্যে হওয়ার জন্যই এটি মানুষেরও ক্ষতি করবে। কারণ বার্ড ফ্লুতে প্রচুর পশু-পাখি মারা যাবে, খাবারের ঘাটতি শুরু হবে এবং খাবারের চাহিদা বাড়বে ফলে দাম বাড়বে।