
শেষ আপডেট: 15 December 2023 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালচে ভাজা খোলসটা সরালেই নরম তুলতুলে ছানায় জিভের বড় আরাম হয়। গরম এক টুকরো মুখে পুড়লেই মনে হয় যেন কোনও মুঘল দরবারে বসে সেরা খানসামার হাতে তৈরি একটু টুকরো স্বর্গ জিভ থেকে সটান পেটে চলে গেল। গোলাপজাম বা গুলাব জামুন বাঙালির ধাঁচের মিষ্টি নয়। কিন্তু এটিই এখন বাঙালির পাত আলো করে রয়েছে। রসগোল্লাকে কয়েক গোল খাইয়ে এখন বাঙালি ভোজনরসিকের প্রেয়সী হয়েছে গোলাপজাম। দুর্গাপুজো থেকে বাঙালির যে কোনও পার্বন, ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে বিয়েবাড়ি—গোলাপজামের কদরই বেশি। অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপেও লাখ লাখ অর্ডার যাচ্ছে।
কথায় বলে রসনাতেই সেরা তৃপ্তি। কিন্তু এই কর্মব্যস্ততার যুগে হাতে বানিয়ে আর রসনা তৃপ্ত করার সময় কোথায়? অগত্যা ভরসা বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ। রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে সুইগি, উবের ইটস, জোম্যাটো, ফুড পান্ডার মতো বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি সংস্থা। কিন্তু ফেলে আসা বছরে কোন কোন খাবারে রসনা তৃপ্তি হল সব থেকে বেশি? কোন খাবারই বা অর্ডার দেওয়া হল সব থেকে বেশি বার? সেই সুলুকসন্ধানই দিচ্ছে সুইগি।
সুইগি যা রিপোর্ট দিয়েছে তাতে মিষ্টির তালিকায় সবচেয়ে উপরেই আছে গোলাপজাম। দেখা গেছে, এবার পুজোয় ৭৭ লক্ষ গোলাপজামের বরাত দিয়েছিলেন মিষ্টিরসিকরা। দীপাবলিতেও গোলাপজামের বাজারই ছিল তুঙ্গে। এই গত কয়েকবছর ধরে বিয়েবাড়িতেও রসগোল্লার জায়গা দখল করেছে গোলাপজাম। গরম গোলাপজামের সঙ্গে ঠান্ডা রাবড়ি—এই কম্বিনেশন এখন খুব চলছে। বাংলা শুধু নয় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ-সহ নানা দেশেই চল আছে গোলাপজাম তথা গুলাব জামুনের।
জানেন তো, এই মিষ্টির জন্ম কিন্তু ভারতে নয়। জানা যায়, মধ্যযুগে ইরান থেকে এই মিষ্টির আবির্ভাব। এর আদি নাম ছিল ‘লুকমত-আল-কাদি’। ভারতে কোনও এক তুর্কি নেতা এই মিষ্টি বানানোর রেওয়াজ শুরু করেন। মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের প্রধান খানসামা প্রথম এই মিষ্টি বানিয়েছিলেন। আর এখন তো বাঙালির উৎসব-পার্বণেও এই মিষ্টিরই কদর বেশি।
সুইগি জানাচ্ছে, নিরামিষ খাবারের মধ্যে এ বছর মশলা ধোসার অর্ডারই বেশি গেছে। ২০১৮ সালে চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল বা অন্যান্য খাবারের তুলনায় সুইগির দফতরে অনেক বেশি এসেছিল উত্তর ভারতীয় খাবারের অর্ডার। এবার দক্ষিণ ভারতীয় খাবারে মন মজেজে ক্রেতাদের। আমিষের মধ্যে বিরিয়ানির জায়গা টলানো যায়নি। বিরিয়ানিপ্রেমী ক্রমশ বাড়ছে সারা দেশে। সব থেকে বেশিবার ক্রেতারা অর্ডার করেছেন চিকেন বিরিয়ানিই।
সুইগিতে সর্বাধিক অর্ডার করা খাবারের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে আছে চিকেন বিরিয়ানি। এমনও দেখা গেছে, গত এক বছরে প্রতি মিনিটে ১৩৭টি বিরিয়ানি অর্ডার করা হয়েছে সুইগিতে, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ২.২৮টি বিরিয়ানি।
খাঁটি ভারতীয় খাবারের পাশাপাশি ইতালিয়ান পাস্তা, পিৎজ়া, মেক্সিকান বোল, মশলাদার রমেন এবং সুশির মতো বিদেশি খাবারগুলিও অর্ডার দেওয়া হয়েছে প্রচুর পরিমানে। তাছাড়া ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে লাখ লাখ কেকের অর্ডার গেছে সুইগিতে। পুণের এক বাসিন্দা একসঙ্গে ৯২টি কেকের অর্ডার দিয়েছেন একসঙ্গে। বেঙ্গালুরুতে তো লাখ লাখ চকোলেট কেকের অর্ডার গেছে মাত্র একমাসে। র্যাভিওলি (ইটালীয়) এবং বিবিমবাপ (কোরিয়ান) এর মতো বিদেশি খাবারও রয়েছে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায়।