
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 26 December 2024 20:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কোরিয়া এখন 'সুপার-এজড সোসাইটি' হয়ে উঠেছে, যার মানে সেখানে যা জনসংখ্যা, তার ২০ শতাংশ মানুষ ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। সদ্য প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণ হল দেশটির খুব কম জন্মহার। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিটি মহিলা ০.৭টি শিশু জন্ম দিয়েছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের মধ্যে একটি। এর ফলে দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত কমছে। আর মানুষ বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫১.২ মিলিয়ন জনসংখ্যার ১০ মিলিয়ন মানুষ ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, যা মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল পাঁচ মিলিয়নেরও কম। সেখানকার সরকার জনসংখ্যার এই সমস্যা সমাধানের জন্য বহু অর্থ খরচ করছে। কিন্তু কিছুতেই কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান পালন এবং বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি সহ নানা কারণে কম জন্মহার হচ্ছে। কর্মজীবী মায়েদের জন্যও চাপ অনেক বেশি, কারণ তাদের কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি বাড়ির কাজও করতে হয়। ফলে তাঁরা কেউই সন্তান নিতে চাইছেন না। আর এই সমস্যা দিনের পর দিন বাড়তেই যাচ্ছে। সরকার এই সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক রকমের পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থা এখন অনেকটা জাপান, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো। কয়েকদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল জাপানে ক্রমশ কমছে জন্মহার রেকর্ড। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে জাপান সরকার। চলতি বছরের শুরুতে জন্মহার বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই কম রেকর্ড করা হয়েছে, যার প্রধান কারণ কাজের প্রচণ্ড চাপ।
জন্মহার বাড়াতেই এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে টোকিও সরকার। সম্প্রতি সেখানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০২৫ সাল থেকে তাঁদের কর্মীদের জন্য সপ্তাহে তিন দিনের ছুটির নিয়ম চালু করা হবে। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকেই এই নীতি কার্যকর হবে। এবার এমনই কিছু দক্ষিণ কোরিয়ায় হবে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।