
শেষ আপডেট: 6 February 2024 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সূর্যে কম্পন হচ্ছে। পৃথিবীতে যেমন সুনামি আসে, সূর্যেও তেমনটাই নাকি হয়। সৌরপদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরকলঙ্ক (সানস্পট) আরও স্পষ্ট হয়ে দেখা দিচ্ছে। প্রলয়ঙ্কর ঝড় উঠেছে সূর্যে। সৌরবায়ু প্রচণ্ড গতিতে সেকেন্ডে প্রায় ১৪ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসছে পৃথিবীর দিকে। আজই সৌরঝড় আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীর কয়েকটা জায়গায়। ফলে রেডিও-টেলি যোগাযোগে সঙ্কট আসতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সোলার হেলিওস্পেরিক অবজার্ভেটরি করোনাগ্রাফে ধরা পড়েছে উত্তপ্ত সৌরবায়ু প্রচণ্ড বেগে ছিটকে বেরোচ্ছে সূর্য থেকে। সৌরঝড়ের অভিমুখ অস্ট্রেলিয়ার দিকে। সেখানে রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূর্যের পিঠে গজিয়ে ওঠা ওই সৌর কলঙ্কগুলির জন্ম, বাড়তে বাড়তে সংখ্যায় সর্বাধিক হয়ে ওঠা, তার পর ধীরে ধীরে তা কমতে কমতে নগণ্য হয়ে পড়ারও একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। সেটা ১১-১২ বছর ধরে চলে। এই সময়টাকে বলা হয় সৌরচক্র বা সোলার সাইকেল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সোলার সাইকেল শুরু হয়েছে সূর্যে। তাই দেখা দিচ্ছে সৌরকলঙ্ক। সানস্পট AR3575 চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এখানেই ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের জন্ম হচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সূর্যের পিঠের অনেক অনেক নীচে, একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে সুবিশাল একটি পরমাণু চুল্লি। সূর্যের এত তেজ তৈরিই হয় ওই চুল্লির কারণে। সেই চুল্লির উপরে সূর্যের পিঠের ২০ হাজার কিলোমিটার গভীরতায় একের পর এক চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। সেই চৌম্বক ক্ষেত্রগুলি যত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ততই তা সূর্যের অন্দর ফুঁড়ে উঠে আসে তার পিঠে। সূর্যের পিঠে তৈরি করে ছোট, বড় মাঝারি চেহারার কালো কালো দাগ। এইগুলিই সৌরকলঙ্ক বা সানস্পট। বড় সানস্পটগুলির ব্যাস হতে পারে ২০ থেকে ৩০ মেগা মিটারের (মানে, ১০ হাজার মিটার) মধ্যে। তা ৫০ মেগা মিটারও হতে পারে। সেগুলি ‘জায়ান্ট সানস্পট’। এই সানস্পট বা সৌরকলঙ্ক থেকেই জন্ম হয় করোনাল মাস ইজেকশনের (সিএমই)। আর তাদের শক্তি পৃথিবীর যে কোনও চৌম্বক ক্ষেত্রের অন্তত ১০ হাজার গুণ।
সিএমই তৈরি হলে সূর্যে ঝড় ওঠে। লক্ষ লক্ষ আগুনে সৌরকণারা বেরিয়ে এসে আমাদের বায়ুমণ্ডলের পক্ষে হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক। অত্যন্ত ক্ষতিকারক হয় মহাকাশের আবহাওয়ার পক্ষেও। একের পর এক বিস্ফোরণ হয়ে চলে সূর্যে। এই সৌরঝড় পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে পৃথিবীর কক্ষে থাকা স্যাটেলাইটগুলোতে। সৌরবায়ু আছড়ে পড়ার জন্য আমাদের গ্রহের তাপমাত্রা বাড়বে। উষ্ণায়নের আশঙ্কা বাড়বে আরও বেশি। সেই সঙ্গেই পৃথিবীর টেলি যোগাযোগ, জিপিএস সিস্টেম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।