
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 22 March 2024 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। বঙ্গরসনায় নিদেনপক্ষে একটুকরো মাছ হলেই একথালা ভাত উঠে যায়। তাই নিয়ে বাঙালিদের উপহাস করতেও ছাড়ে না অবাঙালিরা। ইলিশ, চিংড়ির কথা ছেড়েই বলা যায়, পুঁটি, মৌরলা, খয়রা, চারাপোনা, আড়, বোয়াল, এমন কোনও মাছ নেই যাতে বাঙালি মজে না। কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু বাঙালিরাই নন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মৎস্যবিলাসে টইটম্বুর হয়ে রয়েছেন। এ শুধু কথার কথা নয়, রীতিমতো সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে সেকথা।
নিরামিষ ও আমিষ খাবার নিয়ে কয়েক বছর হল বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অনেক শহরেই বাঙালিদের ঘরভাড়া দিতে চান না অনেকে। তার কারণ বাঙালিরা মাছ-মাংস খায়। আদ্যন্ত নিরামিষাশীদের দাবি, প্রাণিজ প্রোটিন অনেক রকমের ক্ষতি করে। শরীর ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। অহেতুক প্রাণী হত্যারও বিরোধী অনেকে। কিন্তু, সমীক্ষা বলছে, ধীরে ধীরে দেশের মানুষের মধ্যে মাছ খাওয়ার চল বাড়ছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর)-এর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতে মাছ খাওয়ার প্রবণতা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে রিপোর্টে রয়েছে, দ্রুত হারে জনসংখ্যা ও মানুষের রোজগার বৃদ্ধিতে বহু মানুষ মাছ খাচ্ছেন এবং কেনার সামর্থ্য অর্জন করেছেন। আইসিএআর ছাড়াও কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক এবং ওয়ার্ল্ড ফিশ ইন্ডিয়া এই সমীক্ষা চালিয়েছে। ২০০৫-২০০৬ এবং ২০১৯-২০২১ সালের খাদ্য প্রবণতার তুলনা করে এই তথ্য মিলেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মৎস্যবিলাসীর সংখ্যা ২৩ কোটি বেড়েছে। পরিসংখ্যানের ভাষায় ৬৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.১ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ ৬.১ শতাংশ বেড়েছে মৎস্যভোগীর সংখ্যা। বা ১৩৪ কোটি ভারতীয়ের মধ্যে ৯৬.৬ শতাংশ মানুষ মাছ খান। ২০১৯-২০ সালে মাত্র ৫.৯৫ শতাংশ মানুষ রোজ মাছ খেতেন। সপ্তাহে একদিন মাছ জুটত ৩৪.৮ শতাংশ মানুষের। আর পালেপাব্বনে মাছ খেতেন ৩১.৩৫ শতাংশ মানুষ।
বাঙালিরা বিড়ালের মতো মাছ খেলেও বেশি পরিমাণে মাছ খাওয়ার তালিকার শীর্ষে কিন্তু বাংলা নেই। রয়েছে ত্রিপুরা। ত্রিপুরা দিনপ্রতি ৯৯.৩৫ শতাংশ মানুষ মাছ খান। সব থেকে কম খান হরিয়ানার লোক। সেখানে ২০.৫৫ শতাংশ মানুষ রোজ মাছ খান। স্বাভাবিকভাবেই শহর এলাকায় মাছ খাওয়ার অভ্যাস বেশি, কারণ শহুরে মানুষের আর্থিক অবস্থা গ্রামীণ এলাকার থেকে ভালো।