
শেষ আপডেট: 25 July 2022 06:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে এক রাক্ষুসে জলাশয় (Deadly Pool)! অন্তত খিদে তার। পথ ভুলে তার কাছে একবার যে এসে পড়ে, তার আর ফেরা হয় না (Kills Anything)!
লোহিত সাগরের (Red Sea) ১.৭ কিলোমিটার নীচে এতদিন দিব্যি লুকিয়ে লুকিয়ে ছিল সে। সম্প্রতি তাঁর খোঁজ পেয়েছেন মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা (Scientists)। দশ ঘণ্টা ধরে লোহিত সাগরের নীচে তল্লাশি চালিয়ে এই জলাশয়ের সন্ধান মিলেছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই জাতীয় জলাশয় আসলে 'ব্রাইন' প্রজাতির (Brine Pool)। ব্রাইন আসলে সমুদ্রের তলদেশের এক প্রকার নিম্নচাপ। বিভিন্ন রকম রাসায়নিক ঘনীভূত অবস্থায় থাকে সেখানে। ব্রাইনের জলে নুনের ঘনত্ব এবং জলের চাপ সমুদ্রের বাকি অংশের তুলনায় অনেক বেশি। যে কোনও সামুদ্রিক প্রাণীকে জ্যান্ত গিলে খাওয়ার ক্ষমতা রাখে এই ধরনের জলাশয়।
দাউদাউ করে জ্বলছে ক্যালিফোর্নিয়ার জঙ্গল! দাবানলে পুড়ে ছাই বিঘা বিঘা জমি
প্রধান গবেষক স্যাম পার্কিস জানিয়েছেন, এই ধরনের জলাশয় পৃথিবীর চরমতম পরিবেশগুলির মধ্যে অন্যতম। জলজ কোনও প্রাণী যদি ভুল করে একবার ব্রাইনের মধ্যে ঢুকে পড়ে, সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় তার। পার্কিস আরও জানিয়েছে, ঈল, চিংড়ি সহ বেশ কিছু মাছ শিকার ধরার জন্য বেছে নেয় এই ব্রাইনগুলিকে। কোনও হতভাগ্য প্রাণী যদি অসাবধানতাবশত ব্রাইনের কাছেপিঠে চলে আসে, তাহলে তাদের দিয়েই সেদিনের ভুরিভোজ সারে এরা।
এই ধরনের রাক্ষুসে জলাশয় প্রাকৃতিক বৈচিত্রে পূর্ণ, জানিয়েছেন পার্কিস। বিপুল সংখ্যক মাইক্রোবসের আস্তানা এই ব্রাইনগুলি। এই জাতীয় জলাশয়ের আবিষ্কার মহাসাগরগুলির জন্মরহস্যের গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দাবি তাঁর। এমনকী, ভিনগ্রহে একই পরিবেশে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে কিনা, তা বুঝতেও অত্যন্ত জরুরি ব্রাইনের আবিষ্কার।
তবে পৃথিবীতে পাওয়া প্রথম ব্রাইন জলাশয় নয় এটি। গত তিরিশ বছর ধরে লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে অন্তত এক ডজন রাক্ষুসে ব্রাইন জলাশয়ের সন্ধান পেয়েছেন সমুদ্রবিশারদরা।