
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 February 2025 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা-বাংলা সহ অধিকাংশ রাজ্যেই এখন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির ঋতু চলছে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকস্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ষাণ্মাসিকস্তরের পরীক্ষাও শুরু হয়ে গিয়েছে কয়েকটি রাজ্যে। সকাল থেকেই সব গুরুত্বপূর্ণ শহরকেন্দ্রিক রাস্তাগুলিতে পরীক্ষার্থীদের ভিড়ে ও যানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জট পাকিয়ে যাচ্ছে। কচিকাঁচা পড়ুয়াদের রাস্তা-ট্রেনের দুর্ভোগ কাটাতে অনেক আগে থেকেই বেরতে বাধ্য হতে হচ্ছে। তার মধ্যেই এল সেই ভয়ানক দুঃসংবাদটি!
মহারাষ্ট্রের পর্যটন কেন্দ্র পঞ্চগনি থেকে মাত্র ৫ কিমি দূরে পাহাড়ি উচ্চতায় হ্যারিসন্স ফলি নামে একটি পর্যটনস্থলে শীতে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। বিশেষত সপ্তাহের শেষে স্থানীয় মানুষও এই ভিড়ে যোগ দেন। ফলে শনি-রবিবার ব্যাপক লোক সমাগম হয় এখানে। এই জায়গাতেই ঘুরে বেড়ানো মানুষের হৃদয় জুড়াতে রাস্তার ধারে আখের রস বিক্রি করেন সমর্থ মহাঙ্গড়ে। শনিবারও দুহাতে আখের রসে মাখামাখি হয়ে পর্যটকদের মনোরঞ্জনে রস বিক্রি করে যাচ্ছিলেন। তখনও জানতেন না, তাঁর জন্য কী বিপদ অপেক্ষা করছে।
আচমকা ফোন এল! ওপার থেকে বন্ধুর কণ্ঠস্বর তুই কোথায়, ভুলে গেছিস ফার্স্ট সেমেস্টারের প্রথম পরীক্ষা আজ। কিন্তু সেই পরীক্ষা তো পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল? সেই পরীক্ষাই তো আজ। তুই এখন কোথায়! মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল ১৯ বছরের সমর্থের। তাহলে উপায়! এখান থেকে তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র পাহাড়ের কোলে পাসারনি গ্রামের পাসারনি ঘাটে, দূরত্ব ১৫ কিমি। সময় লাগে আধঘণ্টা। কিন্তু ভয়ঙ্কর যানজট হয় উইকএন্ডে। যা এই এলাকার কুখ্যাত যানজট নামে বিখ্যাত।
এরপরের কাহিনি সিনেমার দৃশ্যে দেখলে লোকে বলবেন আজগুবি। কিন্তু সেই অবাস্তবকে সত্যি করে সমর্থ দৌড়ালেন, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের ইনস্ট্রাক্টর গোবিন্দ ইয়েবলের কাছে এক ছুটে চলে গেলেন। ভাউ, তোমার সাহায্য চাই। আমাকে ১০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার হলে পৌঁছতে হবে। তুমি আমাকে নীচে পর্যন্ত পৌঁছে দেবে! ইয়াবলে প্রথমে থমকে গেলেও ভুরু কুঁচকে কিছুক্ষণ ভাবলেন। পরীক্ষা দিবি, আর তারিখ ভুলে গেছিস। কিস্সু হবে না, বলে দুদিকে ঘাড় নাড়লেন। তারপরেই সদ্য কৈশোর পেরনো ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়ে ওকে নিয়ে একটি প্যারাগ্লাইডারের কাছে গিয়ে বললেন, তাড়াতাড়ি বেঁধে ফেল। শক্ত করে বাঁধ। শক্ত করে ধরে থাকবি, ছাড়বি না।
বুক দুরদুর করলেও সমর্থ দেখতে পেল তারা নীচের দিকে নামছে এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের খেলার মাঠে গিয়ে নেমে পড়ে। নামার শেষের দিকেই সমর্থ কষিগুলি খুলতে শুরু করে। মাটিতে পা ছুঁতেই দৌড় লাগায় হলের উদ্দেশে। ঘরের দরজা ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাঁপাতে হাঁপাতে দরজা হাট খোলা করে দাঁড়িয়ে থাকে। পরীক্ষক প্রথমে অবাক হলেও তারপর কী ভেবে ঢুকতে দেন। তিনি তখন প্রশ্নপত্র বিলি শুরু করেছিলেন।
View this post on Instagram
পরে সমর্থ তাঁকে ব্যাখ্য করে জানিয়েছিলেন, বাড়ির রোজগারের জন্য তাঁকেও কাজ করতে হয়। কিন্তু আমার লেখাপড়া শেষ করাটাও জরুরি। সেদিন সমর্থের বিকম-এর ন্যাচারাল ডিজোল্যুশন ম্যানেজমেন্ট পেপারের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা ছিল। সাতারার পুলিশ সুপার সামির শেখ টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, পাসারনি ঘাট কেন্দ্রিক যানজট খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু, সেদিন সেরকম কোনও গন্ডগোল ছিল না। তবে কোনও নিষ্ঠাবান পড়ুয়ার জন্য প্রতিটি সেকেন্ড খুবই জরুরি, অন্তত পরীক্ষার দিনে।