
ক্রমশই অস্বাভাবিক হারে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মহাসমুদ্রের জলতল।
শেষ আপডেট: 8 May 2024 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোটামুটি জলবায়ুর ওপর যা ঝড়ঝাপ্টা যায়, সিংহভাগটাই টেনে নেয় সমুদ্র। এমনিতে পৃথিবীর তিন ভাগ জুড়ে মহাসাগর। বিশ্বের বেশিরভাগ নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইড আদতে টেনে নেয় এই বিপুল জলরাশি। পাশাপাশি, তাপচক্রেও বাড়তি উষ্ণতার অনেকটাই শুষে নেয় মহাসাগর। যাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাগরের পৃষ্ঠদেশ।
কিন্তু এবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদন বলছে, তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, প্রায় প্রত্যেক দিনই মহাসমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমশ রেকর্ড ভেঙে বেড়ে চলেছে। যার ফলে চূড়ান্ত সঙ্কটে মহাসাগরের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র। প্রভাব এসে পড়ছে স্থলের ওপরে।
এমনিতে গরমে কলকাতায় প্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে এতদিন। কবি এলিয়ট লিখেছিলেন, এপ্রিল নির্মম-তম মাস। কার্যত এলিয়টের কথা সত্যি করেই এপ্রিলে কলকাতার তাপমাত্রা একশো বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে কলাইকুন্ডা, পানাগড়ের মত একাধিক জায়গায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি অবধি উঠে গিয়েছে। কিন্তু এরকম অস্বাভাবিক উষ্ণায়ণ নিতান্ত খাপছাড়া ঘটনা নয়। বিজ্ঞানীরা দেখাচ্ছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ণের ফলে সারা পৃথিবীর উষ্ণতাই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে এল-নিনোর মত প্রাকৃতিক ঘটনা।
কিন্তু সেই মাপকাঠিতেও বিবিসির নতুন প্রতিবেদনে আশঙ্কা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস প্রোগ্রামের দেওয়া একাধিক উপগ্রহচিত্র ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি দেখেছে, গত এপ্রিল ছিল জ্ঞানতকালের মধ্যে উষ্ণতম এপ্রিল। গত বছরের মার্চ থেকে মহাসাগরের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে বাড়তে শুরু করে। আগস্টে গিয়ে সেটা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছয়। এই বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে এসে কোপারনিকাস সিস্টেম দেখাচ্ছে যে, গড় তাপমাত্রা প্রায় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলেছে।
বস্তুত, ২০২৩ সালের ৪ মে-র পর থেকে প্রায় প্রত্যেক দিনই উষ্ণতার দিক দিয়ে রেকর্ড ভাঙা গরম পড়েছে। কিছুক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, স্বাভাবিকের চাইতে ব্যবধান অনেকটাই বেশি। এই পুরো অতিরিক্ত তাপমাত্রাটাই দিনের শেষে শুষে নেয় সমুদ্র, যার ফলে চরম বিপদের মুখে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র।
সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বাড়ার সবচেয়ে কুপ্রভাব সম্ভবত সামলাতে হয় প্রবালপ্রাচীরকে। বিগত কয়েক দশক ধরেই লাগামছাড়া উষ্ণায়নে বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রবালের স্তর ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। বৈজ্ঞানিকরা যাকে বলেন, 'কোরাল ব্লিচিং'। ক্যারিবিয়ান সাগর, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে অস্ট্রেলিয়া উপকূলের বিশ্ববিখ্যাত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ... রেহাই পায়নি কেউ। ভারতের আন্দামান ও লাক্ষাদ্বীপের প্রবালও ক্ষতিগ্রস্থ। তার পাশাপাশি সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবনধারণ ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।
সমুদ্রের জলতল গরম হয়ে ওঠার পরোক্ষ প্রভাব পড়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরিতে। যার ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তে অপ্রত্যাশিতভাবে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। সম্প্রতি এরকমই এক ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভেসে গিয়েছে দুবাই। বন্যা দেখা দিয়েছে চিনে। বন্যা পরিস্থিতি আফ্রিকা উপকূলে, ব্রাজিলে। ভারতের বঙ্গোপসাগর উপকূল ইতিমধ্যেই তটস্থ, কারণ ঘূর্ণিঝড়ের মরসুম এসে গিয়েছে প্রায়।