
শেষ আপডেট: 5 July 2022 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোড়াসাঁকো (Jorasanko) ঠাকুর বাড়ির পাশেই ২৭৮, রবীন্দ্র সরণিতে এক প্রাচীন ওষুধের দোকান (Rabi Thakur Prescription), নাম ‘মহাত্মা অ্যান্ড কোং’ (Mahatma@Co)। এই দোকানের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক গল্প। এই গল্প যেন বাঙালির অনাথ হয়ে পড়া দিনের গল্প, জোড়াসাঁকো জুড়ে কান্নার গল্প। আবার এই গল্পই কবিগুরুকে ঘিরে বাঙালির আবেগের এক প্রমাণের গল্প।
সালটা ১৯৪১। শান্তিনিকেতনের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কবি। ২৫ জুলাই কবিকে আনা হল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে, চিকিৎসার জন্য। ৩০ জুলাই কবির শরীরে অস্ত্রোপচার হল। শরীরের একটা অংশ ফুটো করে প্রস্রাব বের করার রাস্তা করা হল। অপারেশন করেছিলেন ডক্টর ললিতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। অপারেশন সফল হলেও শরীরের যন্ত্রণা কমল না। দিনকেদিন আরও অসুস্থ, আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন কবি।
২ আগস্ট, এলেন ডক্টর জে পি সরকার। তিনি একটি বিশেষ ওষুধের মিশ্রণ বানানোর জন্য প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন। সেই মিশ্রণের জন্য পাঁচটি ওষুধ লিখেছিলেন ডাক্তার। সেগুলি হল পিল সাইট্রাস, সোডি বাইকার্ব, পট অ্যাসিডাস, সিরাপ রোজ এবং এজন এড। প্রেসক্রিপশনের শেষে লেখা ছিল, ‘মিক্সচার ফর ওয়ান ডোজ’। আর নীচে লেখা, ‘সেন্ড এইট সাচ ওয়ান ডোজ এভরি ফোর আওয়ার্স’। এই মিশ্রণ তৈরির জন্য ওষুধ এসেছিল সেই মহাত্মা অ্যান্ড কোং দোকান থেকেই। তবু শেষ রক্ষা হল না। ৭ অগস্ট মারা গেলেন কবি।

সে সময় মহাত্মা অ্যান্ড কোং দোকানের মালিক রাধাবিনোদ রায়। কবীর মৃত্যুর পাঁচ দিন আগের এই প্রেসক্রিপশন সযত্নে দোকানে বাঁধিয়ে রেখেছিলেন তিনি। দোকানের বর্তমান কর্ণধার শম্ভুনাথ রায়। তিনি বলেন, এই প্রেসক্রিপশন তাঁদের কাছে ইতিহাসের সাক্ষী। তাঁদের দোকানের সম্পদ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কবিগুরুর শেষ কিছুদিনের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে রয়েছে জোড়াসাঁকোর এই ২৭৮, রবীন্দ্র সরণির মহাত্মা অ্যান্ড কোং।
স্তন ক্যানসার সারল ওষুধে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ড্রাগ ট্রায়ালে ম্যাজিক করলেন বিজ্ঞানীরা