
শেষ আপডেট: 25 August 2022 07:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠোঁটে গাড় রঙের লিপস্টিক। গালে মুখে লাল-নীল-সবুজ রঙের বাহার। কপালে ঘেঁটে যাওয়া সিঁদুরের টিপ। তারাপীঠের (Tarapith) রাস্তার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন 'গোলাপ সুন্দরী।' মহিলা নন, ফলে এক ঝলক দেখে বহুরূপী ভেবে টাকা দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যাচ্ছে, আসল ঘটনা অন্য কিছু। শুধুমাত্র বহুরূপী সেজে টাকা রোজগারই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। তাহলে কেন পঞ্চাশ পেরনো ভদ্রলোককে এভাবে এই বয়সে রং মেখে রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে?
তাঁর সামনে গেলেই মিলছে উত্তর। হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে সমাজের প্রতি আর্তি, 'বাল্যবিবাহ (Child Marriage) বন্ধ করুন!' তাঁর পরিচিত পেতেই বাকরুদ্ধ হওয়ার জোগাড়। 'গোলাপ সুন্দরী' সেজে রং মেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন যিনি, হুগলির (hoogly) খানাকুলের মাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (Primary Head Master) দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। আরামবাগের তিলচকের বাসিন্দা তিনি। এভাবে রাস্তায় দাঁড়ানোর পিছনে দুটি লক্ষ্য রয়েছে তার। এক, বাল্যবিবাহ বন্ধ করার বার্তা দেওয়া। দুই, গ্রামবাংলার প্রায় মৃত বহুরূপী শিল্পকে লোকচক্ষুর আড়াল থেকে আবার জনসমক্ষে নিয়ে আসা। এমন মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সময় সুযোগ পেলেই এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। মোটা মাইনের সরকারি চাকরি বাধা হয় না সে কাজে।
ছোট থেকেই ছকভাঙা দেবাশিসবাবু। সমাজের ভাবনা-চিন্তা, হাসাহাসি নিয়ে কখনওই মাথা ঘামাননি তিনি। ছোটবেলায় গ্রামে ঘুরে টাকা রোজগার করা বহুরূপীদের দেখে আকৃষ্ট হতেন তিনি। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেনের মতো চিত্রপরিচালকের বহু ছবিতে উঠে এসেছে এই বহুরূপীদের কথা। সমাজের কল্যাণে সেই বহুরূপী শিল্পেরই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সাজে ডেঙ্গু, করোনা নিয়ে সতর্কতামূল প্রচার, পাড়ায় শিক্ষালয়ের গুরুত্ব বোঝাতে বেরিয়ে পড়েছেন পথেঘাটে।
বর্তমানে বাল্যবিবাহ রোধের জন্য সচেতনতা ছড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান, রেল স্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তারাপীঠেও এসেছেন একই কারণে। প্রধান শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এভাবে বিচিত্র সাজে রাস্তায় দাঁড়ানোকে অনেকেই ভাল চোখে দেখেন না। কিন্তু সেসবে পাত্তা দিতে নারাজ দেবাশিসবাবু। শিক্ষক হিসাবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। 'কে কী ভাবল তা এই ৫২ বছর বয়সে এসে আর ভাবি না। আমার কাজ আমি কেবল করে যাই,' দাবি তাঁর।