
শেষ আপডেট: 24 August 2022 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃদ্ধার শেষযাত্রা (Funeral) যেন আস্ত একখানা পারিবারিক 'গেট-টুগেদার!' পিছনে শায়িত মরদেহ (Dead Body), সামনে-পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে-বসে পরিবারের লোকজন (Relatives)। অবাক করার মতো বিষয় হল, প্রত্যেকেরই মুখে লেগে হাসি (Smiling)! নেটমাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গেছে সেটি, ধেয়ে এসেছে সমালোচনার (Controversy) বন্যা।
জানা গেছে, ছবিটি কেরলের (Kerala) পাঠানাথিত্তা গ্রামের মালাপল্লি গ্রামের একটি পরিবারের। গত ১৭ অগস্ট মৃত্যু হয় ওই পরিবারের ৯৫ বছর বয়সি এক মহিলার। তাঁর নাম মরিয়াম্মা। জানা গেছে, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়।
আরও জানা গেছে, মরিয়াম্মার ৯ জন সন্তান এবং ১৯ জন নাতি-নাতনি রয়েছেন। গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তাঁরা। বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার খবর পেয়ে সকলেই এসে জড়ো হয়েছিলেন কেরলের বাড়িতে। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয় মরিয়াম্মার। তাঁর শেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই ওই পারিবারিক ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ওই পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়ার লক্ষ্যে ছবিটি তোলা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, মরিয়াম্মা তাঁর সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে খুব হাসিখুশি জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর জীবনের খুশির মুহূর্তকে সম্মান জানানোই উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের। সেই কারণেই মরিয়াম্মার মরদেহের সঙ্গে হাসিমুখে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন পরিবারের ৪০ জন সদস্য।
পরিবারের আর এক সদস্যের দাবি, 'যাঁরা মৃত্যু মানেই কান্না আর শোক বোঝেন, তাঁরা এই ছবিটির মর্ম বুঝবেন না। কান্নাকাটির বদলে হাসিমুখে মৃত মানুষকে চির বিদায় জানানো উচিত। আমরা সেটাই করেছি।' তবে এই নিয়ে কারওর বিরুদ্ধে তাঁদের কোনও অভিযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শ্রীভানকুট্টি পরিবারটির পাশেই দাঁড়িয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, 'মৃত্যু অবশ্যই যন্ত্রণার। কিন্তু সেটা শেষ বিদায়ও বটে। যাঁরা হাসিখুসিভাবে জীবন কাটিয়েছেন, তাঁদের হাসিমুখে বিদায় দেওয়ার চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে? এই ছবিতে কোনও খারাপ মন্তব্য কাম্য নয়।'
অনেকেই বৃদ্ধার শেষ যাত্রায় হাসিমুখে ছবি তোলার সমালোচনা করলেও তাঁদের একহাত নিয়েছেন নেটিজেনদেরই এক অংশ। তাঁদের দাবি, ছবিটিতে সমালোচনা করার মতো কোনও ভুল নেই।