ঘটনার সূত্রপাত এক পোস্ট থেকে। ওই সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানান, তাঁর দলের এক কর্মী বিয়ের দিনও কিছু সময়ের জন্য অনলাইনে এসে কাজ করেছেন।

বিয়ের দিনে কাজ (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 9 April 2026 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের দিনেও অফিসে লগ-ইন! কর্মীর এই ‘নিষ্ঠা’কে প্রকাশ্যে প্রশংসা করে তীব্র সমালোচনার মুখে এক সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ‘টক্সিক কাজের সংস্কৃতি’ (toxic work culture) নিয়ে নতুন করে শুরু হল বিতর্ক।
ঘটনার সূত্রপাত এক পোস্ট থেকে। ওই সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানান, তাঁর দলের এক কর্মী বিয়ের দিনও কিছু সময়ের জন্য অনলাইনে এসে কাজ করেছেন। কোনও চাপ ছিল না, সম্পূর্ণ ছুটিতে ছিলেন ওই কর্মী। তবুও নিজের ইচ্ছেয় কাজের খোঁজখবর নিতে লগ-ইন করেন। এটাকে তিনি “বিশেষ দায়বদ্ধতা” হিসেবে উল্লেখ করেন পোস্টে। যদিও পরে নাকি কর্মীকে লগ-অফ করার পরামর্শও দেন তিনি।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন ওই পোস্টে। দেখা যায়, তিনি কর্মীর খোঁজ নিতে বার্তা পাঠিয়েছেন। উত্তরে কর্মী জানান, আজই বিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন অনলাইনে কাজ দেখছেন।
এই পোস্ট সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে (social media backlash)। বহু ব্যবহারকারী সরাসরি এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে কাজের চিন্তা করা কোনওভাবেই প্রশংসনীয় নয়, বরং তা উদ্বেগজনক।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “এটা ভয়ঙ্কর। সঙ্গীর জন্য দুঃখ হচ্ছে।” আরেকজনের মন্তব্য, “এই সম্পর্ক বেশিদিন টিকবে না।” অন্য এক ব্যবহারকারী আরও কড়া ভাষায় বলেন, “এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত করুণ ও লজ্জাজনক।”
ঘটনার জেরে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত সময় ও পেশাগত দায়িত্বের সীমারেখা কোথায় টানা উচিত, তা নিয়েও।
যদিও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বার বার দাবি করেছেন, কর্মীর উপর কোনও চাপ ছিল না, তবুও সমালোচকদের মতে, এই ধরনের উদাহরণ অন্যদের উপর অঘোষিত চাপ তৈরি করে। ফলে ‘স্বেচ্ছায়’ কাজ করার আড়ালে এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর কর্মসংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।
বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং এই ঘটনাই যেন কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।