
শেষ আপডেট: 19 December 2023 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক যেন তালশাঁস।
বাইরেটা কঠিন বরফের স্তর। ভেতরটা শাঁসের মতোই নরম। তাতে থৈ থৈ করছে জল। কঠিন বরফ আর গ্যাসীয় স্তরের ভেতরেও অতলান্ত মহাসাগর আছে শনির ‘বরফের চাঁদ’ এনসেলাডাসে। আর এই উপগ্রহেই প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছে নাসা।
এসেলাডাসের বরফ-জলের ভেতরে আছে হাইড্রোডেন সায়ানাইড। এই রাসায়নিকই প্রাণ তৈরির অন্যতম উৎস বলে দাবি করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। কয়েক মাস আগে বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদ’— ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এও তরল জলের মহাসাগর থাকার জোরালো তথ্য হাতে এসেছিল নাসার। কিন্তু শনির চাঁদ এনসেলাডাসে জল রয়েছে একেবারে আমাদের পৃথিবীর মতো। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরমণ্ডলের একেবারে শেষ প্রান্তের গ্রহের উপগ্রহেও রয়েছে পৃথিবীর মতো সাগর-মহাসাগর। আর সেই জলে রয়েছে প্রাণ সঞ্চারের মতো উপাদান।
শনির উপগ্রহ এসেনডেলাসকে প্রদক্ষিণ করছে ক্যাসিনি অরবিটার। এনসেলাডাস এতটাই রহস্যময় যে অন্দরে কী ঘটে চলেছে তার খোঁজ পাওয়ার জন্য ক্যাসিনি অরবিটারকে কাজে লাগানো হয়েছিল। গত এক বছর ধরে ক্যাসিনি এমন সব রিপোর্ট দিয়েছে যা চমকে দেওয়ার মতোই।
ক্যাসিনি যে ছবি পাঠিয়েছে তাতে দেখা গেছে, উপগ্রহের এক দিক এবড়োখেবরো, অন্য দিক সমতল। যে ফাটলগুলির ছবি ধরা পড়েছে এসেনডেলাসে তা অনেকটা চাঁদের মতোই।
এনসেলাডাস উপগ্রহের এক পিঠের পুরু ও শক্ত বরফের চাদরের নীচের দিকটা আর বরফ হয়ে নেই। তা গলে জল হয়ে গিয়েছে। আর সেই জল পরিমাণে এতটাই হওয়ার সম্ভাবনা যে, তা আমাদের প্রশান্ত বা আটলান্টিক মহাসাগরের মতো হতেই পারে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
সৌরমণ্ডলের এত দূরের উপগ্রহ, তাই সেখানে কঠিন বরফ আর গ্যাসীয় স্তর থাকার সম্ভাবনাই প্রবল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে শনির এই উপগ্রহে পুরু বরফের স্তরের নীচে সাগর-মহাসাগরের মতো জল রয়েছে। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হল লক্ষ কোটি বছর ধরে এই জল এমন তরল অবস্থাতেই আছে। আর সে কারণেই তাতে প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। নাসা জানাচ্ছে, এনসেলাডাস এমনই উপগ্রহ যার অভ্যন্তরে তার তৈরি হয় অনেকটা পৃথিবীর ম্যাগমার মতোই। তাই এই উত্তাপে ঠিক পৃথিবীর মতোই উপগ্রহের একদিকে কঠিন বরফ ও অন্যদিকে থৈ থৈ জল রয়েছে। পৃথিবীর মতোই প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা আছে কি এনসেলাডাসে? সেই খোঁজই চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।