.jpeg)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 12 January 2025 20:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবকিছুরই কোনও না কোনও গল্প থাকে। বহু জিনিস এমন রয়েছে, যা কত স্মৃতি উসকে দেয়। মাইসোর স্যান্ডেল সোপও তেমন। ছোটবেলায় এই সাবান প্রায় সব বাড়িতেই কম-বেশি থাকত। আজকালকার জেন জি এই সাবানের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আশি ও নব্বই দশকের মানুষজনের কাছে এ এক নস্টালজিয়া। এই সাবানের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস। কেমন করে?
সালটা ১৯১৬। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। বিশ্বযুদ্ধের পর এদেশ থেকে চন্দন রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। মাইসোরে চন্দনের বিরাট ভাণ্ডার ছিল। তা ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে। মাইসোরের মহারাজা এবং তাঁর দেওয়ান সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাবান তৈরির কথা ভাবেন। এমন সাবান যা সকলে ব্যবহার করতে পারবেন।
কোথা থেকে এল ভাবনা? জানা যায়, মহারাজা চন্দন সাবান উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন একবার। সেই সাবান থেকেই ভাণ্ডারে থাকা চন্দন দিয়ে সাবান তৈরির চেষ্টা করেন। কাজে লেগে পড়েন দেওয়ান এম বিশ্বেশ্বরাইয়া। নিয়োগ করা হয় তরুণ কেমিস্ট এস জি শাস্ত্রীকে। যিনি একদম খাঁটি চন্দন কাঠ থেকে তেল বের করে তা দিয়ে সাবান তৈরি করবেন। তিনি নিজে কিছুটা চেষ্টা করেন। পরে ইংল্যান্ডে যান। সেখান থেকে সাবান বানানো শিখে আসেন এবং চন্দন সাবান তৈরি হয়।
জন্ম হয় মাইসোর স্যান্ডেল সোপের। যা ছিল ঐতিহ্য বজায় রেখে উদ্ভাবনের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
শুধু বানালেই হবে না। ছড়িয়ে দিতে হবে চারিদিকে। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। শুরু হয় প্রচার। ১৯৮০ সালের মধ্যে, মাইসোর স্যান্ডেল সোপ কর্নাটক সোপস অ্যান্ড ডিটারজেন্টস লিমিটেড (কেসডিএসএল)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯০-এর দশকে কিছু কঠিন সময় পার করার পর, কেসডিএসএল আবার ফিরিয়ে আনে রেকর্ড বিক্রয়।
মাইসোর স্যান্ডাল সোপ আজও পৃথিবীর একমাত্র সাবান, যা ১০০% খাঁটি স্যান্ডালউড তেল দিয়ে তৈরি হয়। ভেজালের দুনিয়ায় এটি এখনও খাঁটি।
তবে, বেশ কয়েক বছর উত্পাদন বন্ধ ছিল সাবানটির। আবার নতুন করে চালু হল মাইসোর স্যান্ডেল সোপের কারখানা। গত সপ্তাহে নতুন করে উত্পাদন শুরু করেছে কর্নাটক সোপস অ্যান্ড ডিটারজেন্টস লিমিটেডই। এই সাবানের কামব্যাকের খবরে উচ্ছ্বসিত শচিন তেন্ডুলকর থেকে শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা। খুশি নেটিজেনরাও।
কর্নাটক সোপ অ্যান্ড ডিটারজেন্টের এমডি বলছেন, চন্দনের নির্যাস দিয়ে তৈরি মাইসোর স্যান্ডেল এবার নতুন রঙে ও নতুনভাবে মিলবে।