মৃত্যুর পরও বৃদ্ধার দেহ ছেড়ে গেল না বানর, হাপুস নয়নে কান্নার ভিডিও ভাইরাল। মানুষ-প্রাণীর এই গভীর বন্ধনে আবেগে ভাসছে নেটপাড়া, চোখে জল সবার।

বৃদ্ধার দেহ জড়িয়ে হাপুস নয়নে কান্না বানরের
শেষ আপডেট: 2 April 2026 09:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্নদাত্রী চলে গেছেন, কষ্ট তো হবেই। মৃতদের জড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকল বানর। কর্নাটকের এক গ্রামের এই দশ্য দেখে চোখে জল নেটিজেনদেরও। মানুষ আর প্রাণীর (Human-Animal Bond) সম্পর্ক যে কতটা গভীর হতে পারে, তারই উদাহরণ রায়ারা দোড্ডির এই ঘটনা।
৮৫ বছরের প্রবীণা পর্বতাম্মা (Parvatamma) বয়সজনিত কারণে সোমবার মারা যান। আর তাঁর মৃত্যুর পরই সামনে আসে এই আবেগঘন মুহূর্ত, একটি বানর (Monkey) তাঁর নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, ছাড়তে চাইছে না শেষ পর্যন্ত। সেই ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়।
Heart melting moment!
An 85-year-old woman who regularly fed monkeys was hugged by one of them after her passing, in Rayara Doddi, Channapatna (near Bengaluru).
And then the @peta @petaindia wokes teach us animal activism!pic.twitter.com/GX4j3q2f7M— Keh Ke Peheno (@coolfunnytshirt) April 1, 2026
স্থানীয়দের মতে, বহু বছর ধরেই পর্বতাম্মা বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করা বানরদের নিয়মিত খাওয়াতেন। যেখানে অনেকেই এই প্রাণীদের বিরক্তির কারণ হিসেবে দেখতেন, সেখানে তিনি তাদের সঙ্গী (Companion) হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক অদ্ভুতগভীর সম্পর্ক।
সোমবার তাঁর মরদেহ বাড়িতে রাখা ছিল শেষ শ্রদ্ধা (Last Respect) জানানোর জন্য। সেই সময়ই একটি বানর জনতার ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসে। খাবারের খোঁজে নয়, বরং নিঃশব্দে গিয়ে বসে পড়ে পর্বতাম্মার পাশে। তারপর মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে। যেন বুঝতে পারছে, এটাই শেষ দেখা।
এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও উপচে পড়েছে প্রতিক্রিয়া। অনেকেই লিখেছেন, মানুষ যত সহজে ভুলে যায়, প্রাণীরা (Animals) ততটা নয়। একজনের কথায়, “ভালবাসা ভাষা বা প্রজাতির গণ্ডি মানে না।” আরেকজন লিখেছেন, “আসল মানুষ তো এরা, আমরা ওদের প্রাণী বলি।”
এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে কেরলের (Kerala) কন্নুরে (Kannur) এক কুকুর তার প্রভুর মৃত্যুর পর চার মাস ধরে হাসপাতালের মর্গের (Mortuary) বাইরে অপেক্ষা করেছিল। ‘কেরলের হাচিকো’ (Kerala’s Hachiko) নামে পরিচিত সেই ঘটনাও একইভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে।
রায়ারা দোড্ডির এই ঘটনাও যেন সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিল— নিঃস্বার্থ ভালবাসা (Unconditional Love) কোনও সীমারেখা মানে না। যত্ন আর সহমর্মিতার (Kindness) যে বীজ একদিন বোনা হয়েছিল, মৃত্যুর পরেও তার বন্ধন ছিন্ন হয় না।