
সংগৃহীত চিত্র
শেষ আপডেট: 10 December 2024 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রয়েছে ফ্ল্যাট, দোকান, ব্যবসা। সম্পত্তির পরিমাণ ৭.৫ কোটি টাকা। মাসে আয় হাজার হাজার। তকমা পেলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভিক্ষুকের। তিনি থাকেন এদেশেই। জীবন-যাপন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নয়। ভিক্ষাকে পেশা বানিয়ে আজ স্বাচ্ছন্দ্যে বাঁচছেন তিনি, সঙ্গে পরিবারও।
ভরত জৈন, ভিক্ষা করেন মুম্বইয়ের প্রাইম লোকেশনে। একদিকে আজাদ ময়দান, আরেক দিকে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস। দিনে ১০-১২ ঘণ্টা, এখানেই থাকেন তিনি। মাসে রোজগার ৬০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা। শেষ ৪০ বছর ধরে তাঁকে দেখে করুণা করে লোকজন ভিক্ষা দিয়ে যান। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা যত্রতত্র খরচা করে উড়িয়ে দিয়েছেন, এমন নয়।
বিনিয়োগ করেছেন একাধিক জায়গায়। সেই বিনিয়োগ থেকেও টাকা পাচ্ছেন একাধিক। কোটিপতি বানাতে এই ইনকামই যথেষ্ট।
সোনার চামচ নিয়ে মোটেও জন্মাননি এই ব্যক্তি। একটা সময় ছিল খাবার জোগাড় করতে নাভিশ্বাস উঠত পরিবারের। সকলের মুখে খাবারও উঠত না। সেই কপালই একটু বড় হতে পাল্টে ফেলেন তিনি। শুরু করেন ভিক্ষা করা।
শুরু করা যাক, তাঁর সম্পত্তি ও বিনিয়োগের তালিকাটা। তাঁর মুম্বইয়ে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার মূল্য বর্তমানে ১.৪ কোটি টাকা। তাঁর একটিতেই স্ত্রী, দুই সন্তান, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন তিনি। থানেতে তাঁর দুটি দোকান রয়েছে। যা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করেন। এছাড়া পৈত্রিক একটি ব্যবসা রয়েছে। স্টেশনারি দোকান রয়েছে মুম্বইতে তাঁদের। সেই ব্যবসা থেকেও আয় হয়।
প্রতিদিন শুধুমাত্র ভিক্ষা করে ২৫০০-৩০০০ টাকা আয় করেন ব্যক্তি। ছেলেদের ছোট থেকে পড়িয়েছেন মুম্বইয়ের বড় কনভেন্ট স্কুলে। বর্তমানে পড়াশোনা শেষ করে দুই ছেলেই স্টেশনারি দোকান চালাচ্ছেন। ব্যবসা করেই আগামীদিন সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দুজনের।
যদিও এত টাকা আয়ের পর এখন আর জৈন পরিবার চায় না ভরত কাজ করুন। কিন্তু এই ৪০ বছরের পেশা ছাড়তে রাজি নন তিনি। তাঁর কথায়, 'ভিক্ষা করতে আমার ভাল লাগে, আমি এই কাজ করে আনন্দ পাই। এটা ছাড়ব না।'
তিনি একা ভিক্ষা করে এত টাকার মালিক, এমন নয়। এদেশে এমন একাধিক ভিক্ষুক রয়েছেন, যাঁদের পাকা বাড়ি, ভাল সম্পত্তি ও ব্যবসা রয়েছে। এই ক্ষেত্রতে এদেশে আয় হয় সব মিলিয়ে প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকা। সম্ভাজি কালে, লক্ষ্মী দাস-সহ এমন অনেক ভিক্ষুক আছে, যাঁদের সম্পত্তি এক কোটির ওপর।