দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে এই কুমির প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্ক কুমির ১৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, ওজন হয় প্রায় ৫০০ কেজি- যা একটি বাসের সমান। স্ত্রী কুমিরদের দৈর্ঘ্য তুলনায় ছোট হয়- ১০ ফুট। যদিও এর থেকেও বড় 'সল্টি'র অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে।

'সল্ট ওয়াটার' কুমির প্রজাতি
শেষ আপডেট: 3 June 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের বিশালাকৃতি সরীসৃপদের প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই নাম আসবে 'সল্ট ওয়াটার' (Salt Water), যাদের লবণজলের কুমিরও বলা হয়ে থাকে। এরা শুধু বিশ্বের সর্ববৃহৎ কুমির (World's Largest Crocodile) প্রজাতিই নয়, পুরনো প্রাণীদের প্রজাতির মধ্যেও একটি- যাদের ইতিহাস গড়ে উঠেছে ডাইনোসরের যুগ থেকেই।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে এই কুমির প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্ক কুমির ১৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, ওজন হয় প্রায় ৫০০ কেজি- যা একটি বাসের সমান। স্ত্রী কুমিরদের দৈর্ঘ্য তুলনায় ছোট হয়- ১০ ফুট। যদিও এর থেকেও বড় 'সল্টিজ'-এর অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে।
২০১১ সালে ফিলিপিন্সে প্রায় ২০ ফুটের একটি কুমির 'লোলং'কে (Lolong) ধরা হয়েছিল, যার ওজন ছিল এক হাজার কেজিরও বেশি। 'বন্দি অবস্থায় রাখা বিশ্বের সবচেয়ে বড় কুমির' হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও নাম রয়েছে এই 'সল্টিজ' কুমিরের। ২০১৩ সালে লোলংয়ের মৃত্যু হয়।
অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রজাতির কুমিরদের তাদের গোটা জীবনকালেই দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। অর্থাৎ, বয়স যত বাড়ে, আকারও বৃদ্ধি পায়। এরা যেহেতু প্রাচীন কাল থেকে রয়েছে, তাই এত সময় ধরে বেচে থাকার কারণে শিকার করতেও দক্ষ।
'সল্টিজ' প্রজাতি হল শীর্ষ খাদ্য শৃঙ্খলার শিকারি। বুদ্ধিমান, দ্রুতগামী হিসেবেই এদের পরিচিতি আছে। জলের নিচে লুকিয়েই চোখের নিমেষে শিকার করে নেয়।
'সল্ট ওয়াটার' (Salt Water) নাম হলেও এদের সমুদ্রে পাওয়া যায় না। নদী বা মিষ্টি জলের হ্রদে বসবাস করে। কখনও আবার ম্যানগ্রোভ অরণ্যে রোদ পোহাতেও দেখা যায় তাদের।
'সল্টিজ'-এর চামড়া ও মাংসের চাহিদা প্রচুর ছিল। তাই ব্যাপক মাত্রায় শিকার করা হতো, ফলে তাদের সংখ্যা কমে যায়। দেখা দিয়েছিল অস্তিত্ব সংকট। তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপিন্সের মতো দেশে কঠোর বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন জারি হওয়ায় আবারও তাদের সংখ্যা বাড়ছে।
বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অতীতে বড় আকারের যে কুমির পাওয়া গিয়েছে তাদের ওজন দেড় হাজার থেকে দু হাজার কেজি পর্যন্ত হতো, তবে সেগুলিকে সম্ভবত শিকার করে নেওয়া হয়েছে। তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম।