
গ্রাফিক্স। দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 December 2024 13:24
প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর
নারকেল নাড়ু তো খেয়েছেন, কিন্তু মহুয়ার নাড়ু খেয়েছেন কখনও? অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন এমনই অসাধারণ নাড়ু বিক্রি হচ্ছে ব্যারাকপুরে।
মহুয়া শুনলেই হয়তো নেশার পানীয়র কথা মনে আসে। কিন্তু এই নাড়ু খেলে নাকি নেশা হয় না। উল্টে পুষ্টিগুণে ভরপুর। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য খুবই পুষ্টিকর।
কেন এমন দাবি করছেন বিক্রেতারা?
তাঁরা বলছেন, মহুয়া ফুলে নাকি প্রচুর পরিমাণ আয়রন রয়েছে। বাঁকুড়া-পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রামের মানুষের খাদ্য তালিকায় মহুয়া ফুলের ব্যবহার থাকে।
সিরজন ফার্মের সদস্য অরিত্র মুখোপাধ্যায় বলেন, মহুয়া গাছ বা ফুলের প্রচুর গুণ রয়েছে। মহুয়ার ফুল থেকে বিভিন্ন খাবার তৈরি হয়। প্রচুর আয়রণ রয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের গর্ভবতী মহিলাদের কাছে এই ফুল খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস। কারণ, এই ফুলের মধ্যে থাকে প্রচুর আয়রণও।
কীভাবে তৈরি করা হয় এই নাড়ু?
অরিত্র জানান, মহুয়া ফুলকে শুকিয়ে গুঁড়ো করে এর সঙ্গে বাদাম, তিল, মুগডাল, চালগুড়ি এবং ঘি ভাল করে মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এতে কোনও ধরনের মিষ্টি ব্যবহার করা হয় না।
বহুদিন ধরে মহুয়া ফুল ও ফল থেকে তৈরি খাবার, তেল ও প্রসাধনী তৈরি করে আসছে বাঁকুড়া ছাতনার সিরজন ফার্ম। সেই ফার্ম সদস্য অরিত্র মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, মহুয়ার গাছ, ফল, ফুলের গুণাগুণ নিয়ে তাঁরা মানুষকে সচেতন করতে এসেছেন। শুধু ফুলই নয়, গাছের কাঠ ও ফলেরও বিশেষ গুণ রয়েছে। ঔষধি গুণ রয়েছে মহুয়া ফলের বীজে। মগুয়ার বীজ থেকে পাওয়া তেল নানা প্রসাধনীতেও ব্যবহার করা হয়।