
আসতে চলেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? কী বললেন আথোস
শেষ আপডেট: 2 April 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষ যা দেখতে পায় না, সেখানেই তার কৌতূহল বেশি। ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে, কার ভাগ্যে কী লেখা রয়েছে- সেটা আগাম জেনে নেওয়ার মধ্যে এক অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করে। জ্যোতিষী (astrologer) বা ট্যারোকার্ড রিডারদের (tarot card reader) মতো দূরদর্শীদের কথা বিশ্বাস করতে না চাইলেও মনে একটা খচখচ লেগেই থাকে যেন। সম্প্রতি, ব্রাজিলের (Brazil) বাসিন্দা ৩৮ বছরের 'নস্ত্রাদামুস' (living nostradamus) বা 'ভবিষ্যৎপ্রদর্শক' আথোস সালোমে (Athos Salome) তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War 3) আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠবে, আথোসকে বিশ্বাস করার কী কারণ রয়েছে? ইতিহাস বলছে, তিনি এর আগেও করোনা মহামারি (COVID 19), কুইন এলিজাবেথের মৃত্যু এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের (Russia Ukrain war) পূর্বাভাস (prediction) দিয়েছিলেন। আথোসের বিশ্বাস, বড় ধরনের এক সংঘাতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পৃথিবী।
আথোসের কথায়, বর্তমান সমগ্র বিশ্বের যা পরিস্থিতি, তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। আথোস সালোমে, যাঁকে সারা পৃথিবী ‘ভবিষ্যৎপ্রদর্শক’ বলে জানে, দাবি করেছেন সাম্প্রতিককালে যে ভূরাজনৈতিক ঘটনা ঘটে চলেছে, তা বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনার সংকেত।
সাম্প্রতিক বিশ্বে কোন কোন ঘটনাকে আথোস বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত বলে মনে করেন?
আথোস সালোমে তাঁর উদ্বেগের কারণ হিসেবে কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে সেগুলি মিলে একটি বৃহত্তর ছকের দিকে ইঙ্গিত করছে।
প্রথমত, তিনি জানুয়ারিতে লাটভিয়া ও সুইডেনের মধ্যে সমুদ্রতলে ফাইবার অপটিক কেবলের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই ঘটনার পর সুইডিশ কর্তৃপক্ষ তার তদন্ত শুরু করে। একটু পিছিয়ে গেলে বোঝা যাবে, ডিসেম্বরে ফিনল্যান্ডের পুলিশ একটি রাশিয়ান তেল ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করেছিল, যেটি ফিনল্যান্ড-এস্তোনিয়ার ‘Estlink 2’ পাওয়ার লাইন এবং একাধিক টেলিকম কেবলের ক্ষতি করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল।
এছাড়া, ২০২৩ সালে একটি সিগন্যালের সমস্যায় ফিনল্যান্ডের পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে গেছিল, তার সঙ্গেও এসবের যোগসূত্র আছে বলে উল্লেখ করেছেন। একের পর এক হামলার ফলে, ন্যাটো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত সুরক্ষা নীতিমালা তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে।
সাইবার আক্রমণই কি যুদ্ধের নতুন রূপ, আথোস কী বলছেন?
‘সমুদ্রতলের কেবলের ধ্বংস ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট তৈরি করতে পারে, যা সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।’ তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষত সামুদ্রিক কেবলের ক্ষতি হলে, তা পৃথিবীর বড় শক্তিগুলোর জন্য একটি গুরুতর সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আথোস বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইতিহাস বলছে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি থেকেই বড় যুদ্ধের সূচনা হয়।’ তিনি বিশেষত দক্ষিণ চীন সাগরের অস্থিরতা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। চিন-আমেরিকার মধ্যে সংঘাত আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
আথোস তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে শক্তিশালী দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন। কৌশলগত নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির ব্যাপারে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।