
শেষ আপডেট: 16 March 2023 09:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের লম্বা ইনিংস তাঁর কাছে ভীষণ রঙিন। সেই কবে থেকে জীবনের গানই গেয়ে চলেছেন মানুষটা। বব ডিলানকে বুড়ো বানান, গানের ফেরি করে বেড়ান, চৌরাসিয়ার বাঁশি তাঁকে আবেশে রাখে। এমন মানুষের জীবন রঙিন না হয়ে উপায় কী! আর এমন একজন মানুষই বাঙালির আবেগ। একটা গোটা প্রজন্ম যার গান শুনে বড় হয়েছে। কেঁদেছে, গেয়েছে, প্রেমে পড়েছে, আবার বিদ্রোহও করেছে। তিনি কবীর সুমন (Kabir Suman)।
আজ সেই 'গানওয়ালা'র জন্মদিন (Birth Day)। কত বসন্ত পেরোলেন তার হিসেব রাখেন না মানুষটা। বরং আগামী কত বসন্ত তার জন্য অপেক্ষা করছে সে হিসেব কষতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন কবীর সুমন।
'এই শহর জানে আমার প্রথম সব কিছু' শুনে সদ্য কলেজে ওঠা মেয়ের মুখে একচিলতে হাসির রেখা দেখা যায়, 'বিদায় পরিচিতা' বলে যখন, কোনও প্রেমিক তাঁর পুরনো স্মৃতিকে এক মুহূর্তে জলে ভাসায় কিংবা হাজার একটা প্রশ্নের উত্তর পাবে না জেনেও যে ছেলেটা 'উত্তর আসবে না তুমি আসবেই আমি জানি' গেয়ে ওঠে, তাঁদের সকলকে ভাল রাখতে শেখান সুমন। কবীর সুমন যেন বাঙালির অমোঘ টান। তাঁর গান যেন সংক্রমণের মত।
গানে আধুনিক শব্দের প্রয়োগ তাঁর হাত ধরেই। সহজ কথাকে জটিল ভাবে বলতে চাননি তিনি, তাই হয়তো তিনি নাগরিক কবিয়াল। বাংলা তাঁর গানের জন্মভূমি। কলকাতা তাঁর আবেগ। সব শেষে ক্লান্ত হলে এই শহরেই ফিরেছেন বারবার। শহরের ফুটপাত থেকে ছোট্ট ঘরে যৌনতা, অনুভব, সব ফুটে ওঠেছে তার গানে, সুরে।
টেপরেকর্ডারের যুগে নতুন গান নতুন সুর নিয়ে এসেছিলেন এক যুবক। গিটার হাতে বলেছিলেন, 'প্রথমত আমি তোমাকে চাই'। এত স্পষ্ট ভাবে গানের মাধ্যমে প্রেমের কথা জাহির করা যায়! সেই যুবকই আবার সপাটে চড় মেরেছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মুখে, চিৎকার বলেছিলেন, আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পূত্রবধূ, আমি চাই ধর্ম বলতে মানু্ষ বুঝবে মানুষ শুধু। বুক চিতিয়ে এভাবে সত্যি বলতে সুমনই শিখিয়েছিলেন।
তিনি ঘুরেছেন দেশ-বিদেশ। চাকরি করেছেন, পড়াশোনা করেছেন। শব্দ কুড়িয়েছেন। সুর কুড়িয়েছেন। তারপর বাংলা শব্দ, নিজের ভাবনা, আর গিটারের টুংটাং মিলিয়ে তৈরি করেছেন কালজয়ী সব গান। বারবার ডিলান, পিট সিগারকে তুলে ধরেছেন তাঁর গানে। তাঁর মৌলিক সৃষ্টির ভাণ্ডারও নেহাত সংক্ষিপ্ত নয়।
৭৪ বছর বয়স মানুষটার। আজও নিজের মতো করে নিজের বক্তব্য জানাতে পিছপা হন না। তাতে ঠিক-ভুল যাই থাকুক না কেন, মানুষের সমালোচনার ঝড়ও যতই উঠুক না কেন, তিনি এখনও গিটার হাতে মঞ্চে ওঠেন, এখনও পিয়ানো বাজান। বাংলা খেয়াল নিয়ে ভাবেন।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই বয়ে যান সুমন, আগামীতেও যাবেন। কারণ তাঁর গান জীবন চেনায়। তাই বহু বছর পরও হয়তো গিটার হাতে কলেজের ছেলেমেয়েরা চিৎকার করে গাইবে, 'ফড়িংয়ের ডানাতেও এ জীবন দেয় ডাক, বেঁচে থাক সব্বাই, হাতে হাত রাখা থাক…!'
স্রষ্টার জন্মদিনে এটুকুই চাওয়া।
গপ্পো মীরের ঠেক জমে উঠতেই চুরি! আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মীর