
শেষ আপডেট: 16 April 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ের মূল্য (value of time) সবারই রয়েছে, সে কোম্পানির সিইও-ই (CEO) হোক বা চাকরিপ্রার্থী (Job Applicant)। অভিনব কায়দায় ঠিক এমনটাই বুঝিয়ে দিলেন এক ব্যক্তি। সাতটি ইন্টারভিউ (interview) আর দু’টি অ্যাসেসমেন্টের পরেও যখন বহুপ্রতীক্ষিত চাকরিটি (job) হল না, তখন সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে সময়ের হিসেব দিয়ে তিনি একটি বিল (bill) পাঠান। আশ্চর্যের বিষয়, কোম্পানি সেই বিলের টাকা মিটিয়েও দিয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসে সোশ্যাল মিডিয়া রেডিট-এর দৌলতে। ওই চাকরিপ্রার্থী লিখেছেন, ‘৭টা ইন্টারভিউ আর ২টি অ্যাসেসমেন্টের পরেও আমাকে চাকরিটা দেওয়া হল না। ওই চাকরির পেছনে খরচ হওয়া আমার সময়ের হিসেব দিয়ে ওই কোম্পানিকে ইনভয়েস (invoice) পাঠিয়েছিলাম। তারা সেই বিল মিটিয়ে দিয়েছে।’
আগেও তিনি এমন দীর্ঘ এক ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছেন। শেষমেশ সেই চাকরি না পেলে কোম্পানির তরফে কারণ জানানো হয়েছিল, এমনকি অন্য একটি জায়গায় সুপারিশও করেছিল তারা। কিন্তু এবারের এই অভিজ্ঞতা একদম আলাদা।
তিনি লেখেন, ‘ইন্টারভিউয়ের এতগুলো ধাপ নিছকই 'ফ্রি লেবার'। একটা অ্যাসেসমেন্ট হলে তবু মানা যায়, কারণ আমি সিনিয়র লেভেলের একটি পদে আবেদন করেছিলাম, যেখানে বেতন ভারতীয় টাকায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।’
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, এমনকি সিইও-র সঙ্গেও আলোচনার পর যখন রেফারেন্স যাচাই, অফারের বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল- ঠিক সেই সময় জানানো হয়, তিনি বর্তমানে ‘সেলফ এমপ্লয়েড’ বা স্বনির্ভর হওয়ার কারণে তাঁকে ওই পদে নেওয়া সম্ভব নয়।
ওই ব্যক্তি আরও জানান, প্রথম ইন্টারভিউতেই তিনি বলেছিলেন তাঁর নিজস্ব একটি এজেন্সি আছে। তারপরও এত দূর কথাবার্তা এগিয়ে এনে শেষমেশ এই কারণ দেখানোটা একদমই অবিবেচকের মতো কাজ।
এই আচরণে হতাশ হয়ে তিনি সিইও-র সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের সময়ের মূল্য আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি সিইও-কে সব বললাম, তিনি দায় স্বীকারও করেন। তাঁকে জানিয়েছিলাম আমি এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার পেছনে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য একটি বিল পাঠাচ্ছি। তিনি তাতে সম্মতিও দেন। ইনভয়েস পাঠানোর দিনেই আমি সেই পেমেন্ট পেয়ে গেছি।’
পোস্ট ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তাঁকে। একজন লেখেন, ‘এটা আপনি দারুণ কাজ করেছেন! অনেকেই বিরক্ত হলেও কিছু বলতে পারেন না, আপনি সেই সাহস দেখিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।’
এই ঘটনাটি অনেক চাকরিপ্রার্থীকে অনুপ্রাণিত করেছে, যাঁরা এমন দীর্ঘ ও দুর্বিষহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট করেও অবশেষে খালি হাতে ফিরে আসেন।