পশু বিশেষজ্ঞদের কারও কারও মতে, ঘটনা দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে অনেক সময় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পশুদের তা নজর এড়ায় না। সম্ভবত সেই কারণেই হনুমানটি প্রথমে থানায় গিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা হবে না বুঝে সে পশু হাসপাতালটিতে যায়।

আঘাত পেলে হাসপাতালে যেতে হয় জানে পশুও
শেষ আপডেট: 13 April 2026 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকা একটি হনুমান হাসপাতালের ফার্মেসি রুমে ঢুকে পড়ায় সকলে তটস্থ হয়ে পড়ে। কেউ কেউ লাঠি উঁচিয়ে তাড়াতে যায়। তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে হনুমানটি ফার্মেসি টেবিলে বসে বিভিন্ন ওষুধ শুঁকে দেখছিল। এক দুটি ট্যাবলেট খেয়ে নেয়। একপর্যায়ে ফার্মেসি টেবিলে শুয়ে পড়ে প্রাণিটি (Injured Monkey visited hospital)।
দেখা যায় হনুমানটির লেজের একাংশ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। খবর পেয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা ছুটে আসেন। আহত হনুমানটির চিকিৎসা শুরু করেন। কেউ ছুরি দিয়ে লেজে আঘাত করেছিল পশুটিকে। চিকিৎসার পর হাসপাতালে কিছু সময় কাটিয়ে হনুমানটি চলে যায়। চিকিৎসকদের ধারণা তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হনুমানটি ফার্মেসি টেবিলের ট্যাবলেট খেয়েছিল (animal treatment)।
হাসপাতালের ঘটনাটি জানাজানি হতে খবর আসে আহত হনুমানটি প্রথমে স্থানীয় থানায় গিয়েছিল। সেখানে কিছু সময় অপেক্ষার পর যায় হাসপাতালে।
আহত হনুমানের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করানোর এই ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশের যশোরের ঝিকরগাছায়। রবিবার দুপুরে উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে এ ঘটনার খবর সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকেই দাবি তুলেছেন, যে বা যারা হনুমানটিকে নির্মমভাবে আঘাত করেছে তাদের খুঁজে বের করে শান্তি দিতে হবে।
ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান শেখ আহত পশুটির চিকিৎসা করেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বলাই বাহুল্য, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আহত হনুমানটির চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে আসার ঘটনা। চিকিৎসক মাসুমা আখতার বলেন, চিকিৎসা করার সময় হনুমানটি কোনও সমস্যা করেনি।
আহত পশুটি প্রথমে কেন থানায় গিয়েছিল? পশু বিশেষজ্ঞদের কারও কারও মতে, ঘটনা দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে অনেক সময় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পশুদের তা নজর এড়ায় না। সম্ভবত সেই কারণেই হনুমানটি প্রথমে থানায় গিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা হবে না বুঝে সে পশু হাসপাতালটিতে যায়।