
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 22 December 2024 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিঙ্কডইনে লোকজন চাকরি খোঁজেন, সেই চাকরিতে কেমন অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তা বর্তমানে শেয়ার করেন রেডিট-এ। কর্মরত সংস্থায় হওয়া খারাপ অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ সব শেয়ার করেন নেটিজেনরা। কর্মক্ষেত্রে একজনকে কেমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়, তা উঠে আসে বিভিন্ন পোস্টে। এমনই এক অভিজ্ঞতা নিয়ে শোড়গোল পড়ল এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে। রেডিট ব্যবহারকারীর পাশে দাঁড়ালেন সকলে।
ছোটবেলা থেকে বহু মানুষের স্বপ্ন থাকে চাকরি করার। পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটিয়ে চাকরি করলে বোধহয় দারুণ হবে। ওই যে বড় হওয়াটা একটা ট্র্যাপ, ঠিক তেমনই চাকরি করে সুখে থাকার বিষয়টাও অনেকের ক্ষেত্রে মিথ। চাকরি করলেই যে ভাল থাকা যায় এইটা একেবারেই নয়। সেটা বড় হয়ে চাকরিতে যোগ দিলে বোঝা যায়।
তেমনই অভিজ্ঞতা হল এই রেডিট ব্যবহারকারীর। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জানালেন, একটি গুগলমিট চলাকালীন তাঁর কোম্পানির উপরমহলের একজন তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। যার ফলে ওই মিটিংয়েই তিনি সকলের সামনে কেঁদে ফেলেন। তারপর কাজ করার মতো ইচ্ছেশক্তি জোগার করতে পারেননি।
ঠিক কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে?
চাকরি করতে ঢুকেছিলেন একটি স্টার্টআপ সংস্থায়। সেখানে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা টানা কাজ করতে হত। যেহেতু স্টার্ট আপ, তাই খুব বেশি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না। কোনওরকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হত না কর্মীদের। তারপরও একাধিক ভাল কাজ আশা করা হত। প্রশ্ন করলেই সমস্যা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টে ওই ব্যক্তি জানান, একটি প্রজেক্ট সম্পর্কে গুগল মিটে মিটিং চলছিল তাঁদের। সংস্থার কো ফাউন্ডারের কাছে তিনি ওই প্রজেক্ট সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। কাজের জন্যই সেই তথ্য প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তথ্য চাওয়ায় বিরাট সমস্যা হয়। তথ্য দেওয়া তো দূর, এমনভাবে তাঁকে বলা হয় যে চোখের জল আটকায়নি সেদিন। সকলেই সামনে কেঁদে ফেলেন তিনি। লেখেন, 'আমি পারিনি সেদিন, কেঁদে ফেলেছিলাম। ওমন ব্যবহার! তারপরই অবশ্য কাজে বসে যাই। কিন্তু মানসিক অবস্থা এমন ছিল যে কাজ করা সম্ভব হয়নি। ছুটি নিয়ে নি।'
তাঁর ওই পোস্ট থেকে উঠে আসে দেশে গজিয়ে ওঠা স্টার্টআপগুলির বর্তমান অবস্থা। কর্মচারীদের লড়াইয়ের নেপথ্যের কাহিনী। লড়াইটা অবশ্যই মানসিক।
বহু মানুষ তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। একজন লেখেন, 'নিজেকে বিচার করো না এসব দিয়ে। নিজের জীবনকে বিচার করতে যেও না। তোমার আবেগের দাম কেউ দেবে না। অন্য কারও জন্য নিজের খারাপ লাগা বাড়তে দিও না। আর যদি কাঁদতে হয় কাঁদো কিন্তু যার জন্য কাঁদছ সেখান থেকে বেরিয়ে এসো। কাঁদা ভাল। মনে রাখবে, তুমি সাহসী। শুভেচ্ছা রইল।
অনেকেই স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে দুষেছেন এই পোস্টে। অনেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার। অনেকেই নিজেদের মতামত দিয়েছেন। দেখা গেছে, এমন বহু মানুষ একই নৌকায় দাঁড়িয়ে আছেন। কাজের জায়গায় অপমানিত হওয়া মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়া এখন যেন একটা নতুন ট্রেন্ড। আর এসব থেকেই বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে করা মানুষজনের বক্তব্য।