
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 March 2025 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের স্বপ্ন থাকে উচ্চশিক্ষার জন্য তারা বিদেশ যাবে, তারপর সেখানে কোনও ভাল চাকরি (job) করবে। কারণ বিদেশ (abroad) মানেই কেরিয়ার সংক্রান্ত লোভনীয় হাতছানি, জীবন শুধরে যাবে এমন এক ভাবনা কাজ করে অনেকের মনে। এমন প্রত্যাশা নিয়ে অনেকে গলা পর্যন্ত ধারদেনা করে হোক, জীবনের সমস্ত জমাপুঁজি নিয়ে বা প্রচুর টাকার এডুকেশন লোন (educational loan) জোগাড় করে পাড়ি দেন বিদেশে। কিন্তু যদি প্ল্যানমাফিক না এগোয় জীবন? কী কী হতে পারে কারও সঙ্গে, তার দৃষ্টান্ত রেডিট নামক সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট।
এক রেডিট ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার করেছেন তাঁর সমস্যার কথা। মাস্টার্স ডিগ্রি করবেন বলে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকায় (America)। কিন্তু যথাসময়ে তা শেষ হলেও তারপর ঠিকঠাক কোনও চাকরি পাননি তিনি। ফলে তিনি এবং তাঁর পরিবার ঋণের (debt) ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েন। সমস্যা আরও ভয়ানক রূপ নেয়, যখন তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সমাজমাধ্যমে তিনি সবার কাছে পরামর্শ চেয়েছেন কীভাবে এই অর্থনৈতিক সমস্যা (financial crisis) কাটিয়ে উঠতে পারেন।
I took an education loan of ₹40L to study in the US — now I’m back in India, drowning in debt, and don’t know what to do
byu/theTechPhilosopher inindia
ঘটনার সূত্রপাত, ২৭ বছর বয়সি সেই যুবক ২০২২ সালে ৪০ লক্ষ টাকার এডুকেশন লোন নিয়ে মাস্টার্স করতে যান, আমেরিকায়। মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার, বাবার ছোট এক ব্যবসার ওপর ভরসা করে সর্বস্ব দিয়ে তিনি বিদেশ পাড়ি দেন, স্বপ্নপূরণের উদ্দেশ্যে। ভিসাসংক্রান্ত সমস্যা, মন্দা, ইনটার্নশিপের কম সুযোগ-এমন নানা ঝামেলা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়েন তিনি। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে, ব্যবসাও প্রায় ডুবে যায় এবং বাড়ি থেকে সাহায্য আসা দুষ্কর হয়ে পড়ে। মাথায় ঋণের ভারী বোঝা নিয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি।
দেশে ফিরে তিনি ৭৫ হাজার টাকার একটা চাকরি পেলেও ৬৬ হাজার টাকা তাঁকে ইএমআই দিতে হয় মাসে মাসে। এখন পারিবারিক ব্যবসার উন্নতি হতে কোনওরকমে জীবনধারণ করছেন তাঁরা। তিনি তাই এখন চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স কাজের খোঁজ চালাচ্ছেন। পরিবারের পরিস্থিতি, বাবার অসুখ, নিজের এই অবস্থা- সব মিলিয়ে জর্জরিত তিনি।
স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এই প্রথম এত বড় পাহাড় ভেঙে পড়তে তাঁর মনে হচ্ছে এই সমস্যা সমাধানে বোধ হয় তাঁর সারাজীবন অতিবাহিত হয়ে যাবে, কাজের বিষয়ে কোনও তথ্য থাকলে কেউ যেন তাঁকে জানান- এমনটা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন তিনি।
ঝুলিতে একাধিক ডিগ্রি রয়েছে তাঁর, হাতেকলমে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হওয়ায় চিন্তিত অনেকেই। কেউ কেউ তাঁকে মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার কথাও মনে করিয়ে দেন, পাশে আছেন বলে নিশ্চিন্তও করেন তাঁকে।