
শেষ আপডেট: 20 November 2023 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ২০১৪। আমাদের সৌরমণ্ডল থেকে ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এক পাথুরে গ্রহের (WASP-18 b) খোঁজ পান মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ভিন গ্রহের (Exoplanet) সন্ধানে মহাকাশে তাক করেই বসে আছে নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। তাতেই ধরা পড়ে এবড়ো খেবড়ো পাথুরে এক গ্রহ গনগনে আঁচ নিয়ে তার নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরে চলেছে। চমকটা সেখানে নয়। আসল চমক হল পৃথিবীর থেকে আড়েবহরে বড় তো বটেই, বৃহস্পতির থেকেও ভারী এই গ্রহ অনেকটা পৃথিবীরই মতো। জল আছে, গ্যাসীয় মেঘ তৈরি হয়। ঝড় বয় শোঁ শোঁ করে। এবারও কি তেমনই গ্রহের খোঁজ মিলল?
নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট স্যাটেলাইট (TESS) পৃথিবীর যমজকে খুঁজে পেয়েছে। ২০২২ সালেই এই নতুন পৃথিবীকে দেখেছিল নাসা। এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আর্থ ২.০’ অর্থাৎ পৃথিবী ২.০। পৃথিবীর বাইরে আরও এক পৃথিবী। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই ভিন গ্রহের নাম LTT 1445Ac। আড়েবহরে পৃথিবীরই মতো। ভরও নাকি প্রায় এক। এই গ্রহের মাধ্য়াকর্ষণ শক্তি নাকি ঠিক পৃথিবীরই মতো।
মহাকাশে প্রাণের খোঁজ করতে গিয়ে বারে বারেই অবাক হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই হয়তো পৃথিবীর মতোই নীল গ্রহের খোঁজ মিলল। আবার এমন গ্রহ দেখা গেল যার পিঠ থেকে ভসভস করে উঠে আসছে জলের ধোঁয়া। অতএব ভিন গ্রহেও যে প্রাণ থাকতে পারে তা একপ্রকার নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা। অপেক্ষা শুধু হাতে নাতে প্রমাণের। দিনকয়েক আগে বিজ্ঞানীদের একটি খোঁজ রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল। আমাদের সৌরমণ্ডলের মতোই নাকি আরও একটা সৌরজগত আছে। সেখানে লাল বামন নক্ষত্রকে ঘিরে পাক খাচ্ছে দুটি যমজ গ্রহ। নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ সেই সৌরজগতের সন্ধান দিয়েছিল।
এমনিতেও চার হাজারের বেশি ভিনগ্রহ আবিষ্কার হয়েছে এ যাবৎ। এর আগে কোনও ভিন গ্রহেই একই সঙ্গে তরল জল ও বায়ুমণ্ডলের উপস্থিতি আর সেই গ্রহটিকে তার নক্ষত্রমণ্ডলের হ্যাবিটেব্ল জোনে থাকতে দেখা যায়নি। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বেশ বুঝতে পারছেন, আমাদের চেনাশোনা ছায়াপথেই পৃথিবীর মতো এমন অনেক গ্রহ ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে যেখানে প্রাণের বাসযোগ্য পরিবেশ রয়েছে। শুধু সেইসব গ্রহকে ঠিকঠাক চিনে নেওয়ার অপেক্ষা।