
সংগৃহীত চিত্র
শেষ আপডেট: 14 November 2024 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিনের কাজে যারা আমাদের সাহায্য করে বা পাড়ার মোড়ে যে ছেলেটি রোজ ফল বিক্রি করে, রিক্সা চালায়, তাদের কতজনকে আমরা মনে রাখি। কেউ ১০ দিন না আসলে, সে কেমন আছে, তা খোঁজ নেওয়ার সময় আমাদের কাছে কোথায়! আমার আপনার কাছে হয়তো নেই। কিন্তু ওই যে, সবাই সমান হয় না। আমার আপনার কাছে সময় না থাকলেও এমন অনেকে আছে, যারা এই সব মানুষের খেয়াল রাখে, খোঁজ নেয়। আর তেমনই এক মানুষ মধ্যপ্রদেশের এই ডিএসপি। ১৪ বছর পরও এক প্রকৃত বন্ধুকে ভোলেননি। প্রভাব প্রতিপত্তি হওয়া সত্ত্বেও মাটিতেই পা রেখে এগিয়ে চলেছেন।
শনিবার ভোপালের একটি সবজি দোকানের সামনে হঠাৎই একটি পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ায়। যা দেখে দোকানের মালিক সলমন খান খানিকটা ভয়ই পায়। এগিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশের গাড়ি থেকে তাঁর নাম শুনতে পেয়ে ব্যাপারটি বুঝতে পারেন। চিনতে পারেন বহু পুরনো বন্ধুকে।
গাড়ি থেকে নেমে যিনি এগিয়ে আসেন সলমনের দিকে তিনি ডিএসপি সন্তোষ পাটেল। স্যালুট জানান সলমন। ১৪ বছরের ব্যবধানে দু'জনের দেখা হয়। পুলিশ আধিকারিক এসে জিজ্ঞাসা করেন, 'আমায় চিনতে পারলে?' সলমন বলেন, 'খুব ভাল করে। আপনি আমার কাছে সবজি কিনতে আসতেন।' দু'জনেই আবেগে জড়িয়ে ধরেন দু'জনকে।
সলমন পাল্টেছেন। বদলেছে মুখের আকার, রোগা হয়েছেন আগের থেকে অনেকটাই। কিন্তু তাঁকে ঠিক চিনতে পেরেছেন সন্তোষ। কীভাবে চিনলেন? পুলিশ আধিকারিক জানান, ঠোঁটের কাছে থাকা একটা দাগ ওঁর মনে ছিল। সেটা দেখেই চেনা।
একজন এত বড় মাপের পুলিশ আধিকারিক একজন সবজি বিক্রেতাকে মনে রেখেছেন, দেখে আপ্লুত হন স্থানীয়রা। অনেকেই বাহবা জানান সন্তোষ পাটেলকে। তিনি এবিষয়ে বলেন, '১২০ জনের পরিবারে আমি প্রথম গ্র্যাজুয়েট। আমিই প্রথম পুলিশ অফিসারও। বাড়ির সমস্ত বাধা পেরিয়ে আমি ভোপালে গিয়েছিলাম পড়াশোনা করতে। এমপি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রস্তুতি নি। সেই সময় বহুদিন এমন হত আমার কাছে টাকাই নেই। আমাকে খাওয়াতেন সলমন। টমেটো-বেগুন দিতেন। ও খুবই ভাল মনের মানুষ।'
सलमान ख़ान से भोपाल में इंजीनियरिंग की पढ़ाई के समय मुलाक़ात हुई थी। ये हमारी भावनाओं को समझकर फ्री में सब्ज़ी दे दिया करते थे।14 साल बाद जब अचानक मिले तो दोनों बहुत खुश हुए।बुरे समय में साथ निभाने वाले को भूल जाना किसी पाप से कम नहीं।बंदे में एक दोष न हो, बंदा ऐहसान फ़रामोश न हो pic.twitter.com/FMTdOW5cBH
— Santosh Patel DSP (@Santoshpateldsp) November 10, 2024
সলমনও সম-বয়সী পুলিশ আধিকারিক বন্ধুর প্রশংসা করতে পিছপা হননি। তিনি প্রথমে বলেন, 'আমি পুলিশের গাড়ি দেখে ভয় পেয়েছিলাম। তারপর দেখি পাটেলকে। হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে পাই।আমি হাজার হাজার মানুষকে সবজি বিক্রি করি। কিন্তু আমাকে কেউ মনে রাখে না। সবাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যায়। কিন্তু পাটেল এসেছে দেখা করতে, এর চেয়ে বড় আর কী হয়।'
সবজি বিক্রেতা আরও বলেন, 'আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওকে ফলো করি। দেখেছিলাম ও পুলিশ অফিসার হয়েছে। খুব গর্ব হয়েছিল। আমি ভাবতে পারিনি কোনওদিন ও এসে দেখা করবে এভাবে। আমাকে মিষ্টি আর কিছু টাকা দিয়ে গেল। ও নিজের শিকড়কে ভোলেনি। এর চেয়ে ভাল কী হয়। ওর সঙ্গে দেখা হওয়া খানিকটা স্বপ্ন পূরণের মতো।'
জানা যায়, ২০০৯-১০ সাল নাগাদ পাটেল পান্নার দেবগাঁও জেলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর ভোপালে যান। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে পুলিশ জানান, 'কেরোসিনের ল্যাম্পের তলায় পড়াশোনা করেছি। টাকাও ছিল না খাবার মতো। কাজ করতাম নিজের সব কিছু চালাতে।'
সলমন বলেন, 'ও আমার মতোই গরিব ছিল সেসময় কিন্তু আমরা দু'জন দু'জনকে বুঝতাম। টাকার জন্য একটা মানুষ খেতে পারবে না? সেসময় অনেক ছেলেমেয়েকেই আমি ফ্রি সবজি দিতাম। পাটেল আমার কাজে সাহায্য করেছে এমনও হয়েছে।'