
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 February 2025 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি রিয়্যালিটি শো-তে বাবা-মায়ের সঙ্গম নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে তুঙ্গে বিতর্ক। নাম জড়িয়েছে বিখ্যাত ইউটিউবার ও কমেডিয়ানদের। দিকে দিকে তাঁদের নামে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। বিষয়টি গড়িয়েছে সংসদ পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতে শো-টির সঞ্চালক, কমেডিয়ান সময় রায়নাকেও আতসকাচের তলায় রেখেছে মুম্বই পুলিশ। ইতিমধ্যে তাঁকে সমন পাঠানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্যখ্যা দিয়েছেন, চেয়েছেন ক্ষমাও।
এবার এই আবহে সামনে এল তাঁর স্ট্যান্ড আপ কমেডি শো-এর একটি পুরনো ভিডিও। যেভাবে হেসে সেদিন রণবীর আল্লাবাদিয়ার কথায় কার্যত সমর্থন জানিয়েছিলেন সময়, তেমনই অর্থবহ হাসি দিয়ে মাত্র ২ মাসের একটি শিশুকে ট্রোল করতে দেখা যায় তাঁকে। যা দেখে ছিঃ ছিঃ করছে নেটপাড়া। এমন মানসিকতাও কারও হতে পারে? প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।
সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করতে করতে আমাদের অনেকের ফিডেই আসে হেল্প পোস্ট। কখনও কোনও বাচ্চার চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়ে আবেদন জানায় পরিবার তো কখনও বাবা-মা বা অন্যান্য প্রিয়জনের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসার আর্জি রাখা হয়। অনেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করেন। আমরাও করি। দেখে মন খারাপ তো হয়ই। পাশাপাশি কেঁপে ওঠে হৃদয়ও। কিন্তু সময় রায়নাদের বোধ হয় এমনটা হয় না। বুকের পাঁজর স্পর্শ করে না সেই কান্নার আওয়াজ বা পরিস্থিতি দেখে তাঁদের হয়তো করুণাটুকুও জাগে না। সম্ভবত, তাই বোধহয় মাত্র ৬০ দিনের অসুস্থ শিশুকেও ‘কন্টেন্ট’ বানিয়েছেন সময়।
ভিডিওর ওই অংশে সময়কে সামনে বসা মানুষজনকে হাসাতে দেখা যায়। হাসানো যার কাজ তাকে তো হাসির কন্টেন্ট দিতেই হবে। কিন্তু অসুস্থ শিশু ও তাকে সাহায্যের আর্জিও যে হাসির খোরাক হতে পারে, তা বোধহয় কারও বোধগম্য হয়নি। যদিও যারা সেদিন সময়ের শো দেখছিলেন, তাঁরা এই সমস্ত মজা দেখে হাসিতে গড়িয়ে পড়েন। মুখ দেখা না গেলেও তাঁদের সকলের প্রতিও কম ঘেন্না উগরে দেননি নেটিজেনরা।
সময় ঠিক কী বলেছিলেন সেদিন?
কমেডির ছলে শুরুটা করেছিলেন বেশ। তারপর শেষ। সময় বলেন, '২ মাসের বাচ্চা। কিছু একটা হয়েছে। ভাল হতে গেলে লাগবে ১৬ কোটি টাকার একটা ইঞ্জেকশন। ২ মাসের বাচ্চার ১৬ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন দরকার। আপনি যদি ওই বাচ্চার মা হতেন, আর আপনার ব্যাঙ্কে ১৬ কোটি টাকা আসত, ২ মাসের বাচ্চার জন্য আপনি ওই টাকা খরচ করতে যেতেন। তার আগে নিশ্চয়ই আপনি স্বামীকে বলতেন…’ এই বলে তিনি নিম্নাঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করেন। চোখ গোল গোল করে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করেন। তারপর বলেন, ‘ইনফ্লেশন ইজ রাইজিং। কোনও গ্যারান্টি তো নেই ওই বাচ্চা ইঞ্জেকশনটি দেওয়ার পরও বাঁচবে কিনা, মরেও যেতে পারে। আরও খারাপ হল, ভাবুন তো মরে গেলে কতটা ক্ষতি! যদি বেঁচেও যায়, যদি বড় হয়ে বলে, আমি লেখক বা কবি হতে চাই। আমি তো জুতো নিয়ে যাব (জুতো তুলে ফেলেন হাতে)। না না না না এটা হতে পারে না। ক্রেজি কিছু তো একটা করতে হবে। ১৬ কোটি টাকা দিয়েছি, নিম্নাঙ্গের সাহায্যে পুশ আপ মার। তুই আয়।'
একটা দুধের বাচ্চার কাছে টাকার হিসাব! অসুস্থতাকে নিয়ে হাসি। কিছুতেই এই মানসিকতার কারণ ও রহস্য নিয়ে উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনও বাবা-মায়ের কাছে ১৬ কোটি কেন, সন্তানের জন্য ১৬-র পরে আরও হাজারটা শূন্যও কম। সন্তান ২ মাসের। তা বলে কি সে মানুষ নয়? কারও প্রাণের সঙ্গে টাকার অঙ্কের তুলনা অমানবিক বলেই দেখছেন নেটিজেনরা। এমন মন্তব্যের জন্য, একটি বাচ্চার অসুস্থতাকে অশালীন ভাবে কন্টেন্টে তুলে ধরার জন্য ধিক্কার জানাচ্ছেন সকলে।
মনে পড়ে যাচ্ছে, রণবীরের মন্তব্যের পর তিনি ঠিক কী কী বলেছিলেন। অনেকে ভিডিও-র কমেন্টে সেকথা মনেও করিয়ে দেন। আপাতত তিনি রয়েছেন আমেরিকায়, পুলিশকে এমনই জানিয়েছেন। সেখানে শো রয়েছে। এমন শো যদিও আর দেখতে চাইছেন না নেটিজেনরা। বার বার উঠে আসছে ধিক্কারের স্বর।