
ফুসেটিউবের চমকপ্রদ পরিবর্তন (ছবি: ফুসেটিউবের সোশ্যাল মিডিয়া)
শেষ আপডেট: 2 April 2025 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝে নানারকম অদ্ভুত ট্রেন্ড, চ্যালেঞ্জের পর্ব চলতেই থাকে। তাতে অংশও নেন অনেকে। বেশি ভাইরাল যে ট্রেন্ড (viral trend) হয়, তা হল ডায়েট। সারাদিনে কী কী খেলে চেহারা হবে মনের মতো, এইসব নিয়ে নিত্যনতুন চর্চা হতেই থাকে। এমনই এক ট্রেন্ড হল, ‘ওয়াটার ফাস্ট’ (water fast)।
ইউসেফ সলেহ এরাকাত (Yousef Saleh Erakat), যিনি 'ফুসেটিউব' (FouseyTube) নামে বিশ্ববিখ্যাত সোশ্যাল মিডিয়ায় (youtuber), সম্প্রতি বিস্ময়কর এক শারীরিক পরিবর্তন (physical transformation) আনার জন্য ওয়াটার ফাস্ট (water fast) নামক এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। তাঁর এই ডায়েট ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার এক বিষয়। তিনি দাবি করেছেন যে, রমজানের (ramadan) মাসে ৩০ দিন ধরে শুধুমাত্র জল, ব্ল্যাক কফি এবং ইলেকট্রোলাইটস খেয়েই নিজেকে শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
View this post on Instagram
২০২৫ সালের ২ মার্চ ফুসিটিউব তার ফলোয়ারদের জানান, তিনি একটি এক মাসের ওয়াটার ফাস্ট শুরু করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগামী ৩০ দিন আমি শুধুমাত্র জল, ব্ল্যাক কফি আর ইলেকট্রোলাইটস খেয়ে রমজান পালন করব। সূর্যোদয়ের আগে রোজা রাখব, সূর্যাস্তের পর জল, কফি, ইলেক্ট্রোলাইটস খেয়ে রোজা ভাঙব।’ তিনি আরও জানান, এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকাকালীন খাবার, ভেপ (ইলেক্ট্রনিক সিগারেট) কিছুই খাবেন না। তার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মেলামেশাও এড়িয়ে চলবেন।
ফুসেটিউব তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য আগে থেকে খাবারের পরিমাণ কমিয়েও দেখিনি বা নিকোটিন ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতিও নিইনি। চ্যালনেজ নিয়ে একেবারে সব ছেড়ে দিয়েছি, কী কী পরিবর্তন হতে চলেছে আমার মধ্যে, সবই আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’
ইউটিউবারের এই ওয়াটার ফাস্টে চ্যাটজিপিটির বড়সড় ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। কীভাবে কী করা যেতে পারে সেই বিষয়ে তাঁর দৈনিক রোজনামচা তৈরিতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছিলেন।
৩০ দিন পর, ৩১ মার্চ, ফুসেটিউব পোস্ট করে জানান তাঁর ওয়াটার ফাস্ট শেষ হয়েছে। তাঁর কথায়, শারীরিক-মানসিক-আধ্যাত্মিকভাবে তিনি এতটাই ক্লান্ত যে, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি তার 'বিফোর' এবং 'আফটার' ছবি শেয়ার করেন।
এই অদ্ভুত ওয়াটার ডায়েট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কেউ প্রশংসা করেছেন, তাঁর কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আপনি এতটা কষ্ট সহ্য করেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ হবে সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে খাওয়া।’ আরেকজন বলেছেন, ‘এটা কোনও সুস্থ উপায় নয়। প্রোটিন-সবজিও দরকার। শুধু জল খেয়ে ডায়েট করা সঠিক উপায় নয়।’
ফুসেটিউবের এই ৩০ দিনের ওয়াটার ডায়েট প্রচুর প্রশ্ন-বিতর্ক তৈরি করেছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এমন এক্সট্রিম ডায়েট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে। এক্সট্রিম ডায়েটের বিপদ সম্পর্কে আরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। যদি এমন কিছু ভেবে থাকেন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তারপরই সিদ্ধান্ত নিন।