
শেষ আপডেট: 29 January 2024 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসে হীরক দেশে, দেখে হিরের চমক...
মেঘলা এক সকালে আকাশ কালো করে যখন ঝেঁপে বৃষ্টি নামে কী ভালই না লাগে! এবার ভাবুন তো, আকাশ থেকে জলকণা বৃষ্টি হয়ে না নেমে যদি হিরের বৃষ্টি শুরু হয়, তাহলে কেমন হবে? আকাশ থেকে ঝরঝর করে পড়ছে হীরক খণ্ড।
কুড়িয়ে আনবেন মুঠো মুঠো হিরে?
তাহলে তো যেতে হবে ইউরেনাস বা নেপচুনে।
যেতেই পারেন। কারণ, হিরের তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে মহাকাশে। আকাশ ভেঙে হিরে পড়ছে ইউরেনাস ও নেপচুনে।
ইউরেনাস অস্থির গ্রহ। আমাদের সৌরমণ্ডলের একেবারে শেষদিকের গ্রহ ইউরেনাস ও নেপচুন হিমশীতল। ইউরেনাস সৌরজগতের সপ্তম গ্রহ, আকারে আয়তনেও বেশ বড়। গ্রহ তো নয় যেন জমাট বরফের গোলা। সেখানে আবার মাঝেমধ্যেই তুমুল ঘূর্ণিঝড় ওঠে। সূর্যের চেয়ে পৃথিবী যত দূরে, নেপচুনের দূরত্ব তার তিন গুণ। নেপচুনও আইস প্ল্যানেট। সৌরজগতের এক কোণে অন্ধকারময় অঞ্চলে আপন কক্ষপথে ঘোরে এই গ্রহ। নেপচুনকে অতিকায় তুষারের গোলা (আইস জায়েন্ট) বলেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। মহাকাশ থেকে এই গ্রহকে গাঢ় বেগুনি রঙের দেখায়। সেই সঙ্গে এই গ্রহের গায়ে এক প্রকার নীলচে আভাও দেখা যায়।

ইউরেনাস পরিধির দিক থেকে সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ, আবার ভরের বিচারে চতুর্থ। বৃহস্পতি ও শনির মতোই বেশ হাঁকডাক এই গ্রহেরও। বরফ ও গ্যাসের পিণ্ড ইউরেনাসের ধরন ধারণের সঙ্গে নেপচুনের বিস্তর মিল। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য থেকে অনেক দূরে থাকায় এই গ্রহের তাপমাত্রা খুবই কম। ভেতরটা জমাট বরফে ঢাকা। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসে তৈরি এই গ্রহ। নেপচুনের চারদিকে আবার ঘিরে থাকে মেঘের কুণ্ডলী। ১৯৮৯ সালে নাসার ভয়জার ২ স্পেসক্রাফ্ট নেপচুনের খুব কাছ থেকে তোলা ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল নেপচুনকে ঘিরে রেখেছে ঘন ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘের কুণ্ডলী।
এই ইউরেনাস ও নেপচুনকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। এর মধ্যেই নেচার অ্যাস্ট্রনমি নামক একটি সায়েন্স ম্যাগাজিনে আমেরিকার এসএলএসি ন্যাশনাল অ্যাকসিলারেটর ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, হিরের বৃষ্টি হয় ইউরেনাস ও নেপচুনে। গোটা পৃথিবী খুঁজলেও এত হিরে পাওয়া যাবে না আমাদের গ্রহে। কিন্তু মুঠো মুঠো হিরে পড়ে রয়েছে সৌরজগতের শেষপ্রান্তের দুটি গ্রহে। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, হিরের তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে ইউরেনাস ও নেপচুনে। মুঠো মুঠো হিরে ঝরে পড়ছে ওই দুই গ্রহে।
১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৪৫ থেকে ৯০ কিলোবার চাপে কার্বন পরমাণু হিরেয় রূপান্তরিত হয়। কার্বন হিরেয় রূপান্তরিত হতে কম করেও ১০০ থেকে ৩০৫ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ ওই পরিমাণ চাপ ও তাপ তৈরি হতেই অনেক সময় লাগে। পৃথিবীতে শুধুমাত্র আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণের মাধ্যমে হিরে উঠে আসে। বিভিন্ন অঞ্চলে খনিতে পাওয়া যায় হিরে। এই হিরে কেটে তার ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে হয়। কিন্তু ইউরেনাস ও নেপচুনে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাইড্রজেন আর কার্বনের কোনও অভাব নেই ওই দুই গ্রহে। সেই কার্বন যেমন অন্য কোনও পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিভিন্ন যৌগ বানাচ্ছে, তেমনই তা বিভিন্ন রকম ভাবে থাকছে মৌল হয়েও। যেমন কার্বনের একটি মৌল হল গ্রাফাইট। ইউরেনাস ও নেপচুনে প্রলয়ঙ্কর ঝড় ওঠে, ভীষণ বাজ পড়ে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকায়। ওই বজ্রবিদ্যুৎ আর ঝড়ের তাণ্ডবেই গ্রাফাইট তৈরি হয়। সেই গ্রাফাইট যত গ্যাসের চাদর ফুঁড়ে নীচে নামতে থাকে, সেই চাদরের গভীরে ঢুকতে থাকে, ততই তা একটু একটু করে কঠিন হিরে হয়ে ওঠে। যত নীচে নামে, ততই আশপাশের হিরের কণাগুলো জুড়ে গিয়ে আরও বড় বড় হিরের খণ্ড তৈরি হতে থাকে। বাড়তে থাকে হিরের দীপ্তি। বহুগুণ বেড়ে যায় তাদের ঔজ্জ্বল্যও যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক হিরের চেয়ে অনেক বেশিগুণে উজ্জ্বল। ইউরেনাস ও নেপচুন যেহেতু শীতল গ্রহ, সূর্যের আলোর ঝাপটা কম আসে তাই উত্তাপে যে হিরে তৈরি হয় তা আর গলে যায় না। জমাট বেঁধে বড় হিরের খণ্ডের আকারে আকাশ থেকে ঝরঝর করে পড়তে থাকে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি কোনওদিন ইউরেনাস ও নেপচুনে মানুষের পা পড়ে, তাহলে রোবটিক মাইনিং-এর মাধ্যমে দুই গ্রহের মাটি ফুঁড়ে কোটি কোটি হিরে উদ্ধার করা যাবে। পড়শি গ্রহ থেকে তখন হিরে আসবে পৃথিবীতে।