
শেষ আপডেট: 2 April 2023 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হল চিন (china)। বর্তমানে সে দেশে ১৪৫ কোটিরও বেশি মানুষের বাস। কিন্তু সেই দেশেই নাকি কমছে জন্মহার। তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা নাকি একসঙ্গে ঘর বাঁধলেও দুই থেকে তিন হওয়ার ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহী নন। তাই জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে চিন সরকার। বসন্তের এই মনোরম পরিবেশে যাতে প্রেমে পড়েন তরুণ-তরুণীরা, তাঁদের কোল আলো করে সন্তান আসে যাতে, সেই লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য পড়ুয়াদের এক সপ্তাহের জন্য ছুটি দিচ্ছে সেদেশের ৯টি কলেজ।
অভিনব এই উদ্যোগ প্রথম চালু করে মিয়ানইয়াং ফ্লাইং ভোকেশনাল কলেজ। পড়ুয়াদের মধ্যে প্রেম মজবুত করতে, তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ করে দিতে গত ২১ মার্চ এক সপ্তাহ ব্যাপী 'বসন্তের ছুটি' ঘোষণা করা হয় কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে। 'প্রকৃতিকে, জীবনকে ভালবাসতে শিখতে এবং বসন্তের ছুটিতে ভালবাসা উপভোগ করতে' ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে ছুটি ঘোষণা করেছিল কলেজটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, পড়ুয়ারা যাতে সবুজ পাহাড় সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মবোধ করতে পারে, বসন্তের বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তাঁদের আবেগ অনুভূতির ভারসাম্য বজায় থাকবে তো বটেই, সেই সঙ্গে ক্লাসের পড়াশোনাতে অনেক বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন তাঁরা।
এরপরে একে একে আরও ৮টি কলেজ বসন্তের ছুটি ঘোষণা করে। স্প্রিং ব্রেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন রকম হোমওয়ার্কও দেওয়া হয়েছে। যেমন ডায়েরি লেখা, ব্যক্তিগত উন্নতির কথা নথিবদ্ধ করা, কোথাও ভ্রমণ করলে তা ভিডিও রেকর্ড করা ইত্যাদি।
এই ছুটির মূল উদ্দেশ্য হল, দেশে জনসংখ্যা হ্রাসের হার কম করা। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চিন সরকারের তরফে জনসংখ্যা (Birth Rate) হ্রাস রুখতে ২০টি উপায় জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁদের কাছে। তারই একটি উপায় হিসেবে বসন্তের ছুটিতে তরুণ তরুণীদের একান্ত সময় কাটানোর জন্য ছুটি দেওয়ার কথা জানান তাঁরা।
জনবিস্ফোরণ রুখতে ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চিনে এক সন্তান নীতি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়। জনসংখ্যার বৃদ্ধি রুখতে গিয়ে বিপুল হারে কমতে শুরু করে জন্মহার। বর্তমানে সেই হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ১ হাজারে ৬.৭৭, যা ২০২১ সালে ছিল ৭.৫২।
২০২১ সালে চিন সরকারের তরফে সর্বোচ্চ ৩টি পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এমনকী, সরকারের খাতায় সন্তানের জন্ম নথিভুক্ত করার জন্য মহিলাদের বাধ্যতামূলকভাবে বিবাহিত হওয়ার আইনও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যায়, তারপরেও তরুণ প্রজন্ম নতুন করে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে একেবারেই অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছে।
এর পিছনে কারণ হিসেবে সন্তান পালন এবং পড়াশোনার বিপুল খরচ, কম উপার্জন, সামাজিক সুরক্ষাহীনতা এবং লিঙ্গ বৈষম্যকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে চিনের পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) তরফে কর্মরত মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে চাকরিদাতা সংস্থার বদলে সরকারের তরফে বেতন দেওয়া, এবং পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর কথাও ভাবা হয়েছিল। এর ফলে লিঙ্গ বৈষম্য কমে সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে বাবারাও উৎসাহী হবেন বলে মনে করা হয়েছিল।
চলতি মাসে সিপিপিসিসির তরফে আরও কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছে,যার মধ্যে রয়েছে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রেও সরকারি ভাতা দেওয়া, বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ, এবং ফার্টিলিটির চিকিৎসার সস্তা এবং সহজলভ্য করা।
মাঝ আকাশে দাউদাউ করে জ্বলছে হট এয়ার বেলুন! মৃত ২, ভয়ঙ্কর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল