
শেষ আপডেট: 11 April 2022 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিথ্ আর কুসংস্কার শব্দ দুটি একে অপরের পরিপূরক। আবার এই দুটিই সাধারণত কমবেশি সকলেরই দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী। যেমন, ফলের বীজ খেয়ে নিলে পেটের ভেতর গাছ জন্মাবে, মেয়েরা বা কমবয়সি ছেলেরা শেভ করলে পরবর্তীকালে ঘন, কালো চুল গজাবে। সত্যি-মিথ্যাকে ছাড়িয়ে এগুলো বহুযুগ ধরেই চলে আসছে।
এমনই আরেকটি তথ্য হল, কোনও কারণে চিউয়িং গাম গিলে ফেললে তবে তা হজম হতে সাত বছর সময় লাগবে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা যাক।
প্রথম কথা, এই বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই। দ্বিতীয় কথা, এই নির্দিষ্টভাবে ৭ বছরের সময়সীমাটা কোথা থেকে এল! যদিও কিছু কোম্পানি তাদের চিউয়িং গামে লিখে দেয় 'ইনডাইজেস্টেবল্'।
একটা চিউয়িং গাম তৈরির উপাদানগুলি হল, সুইটেনার, ফ্লেভারিং এজেন্ট, প্রিজারভেটিভ আর সফ্টেনার। এই সবকটিই অতি সহজেই পাচ্য। চিউয়িং গামের বেস তৈরি হয় চিকল্ দিয়ে, যা স্যাপোডিলা নামের একটি গাছের রস। এই গাছের কথা জানা যায় সেই প্রাচীন মায়া সভ্যতার সময়ে। সেই থেকেই চিউয়িং গামের আরেক নাম হয়েছে চিকলেট।
তবে আধুনিক চিউয়িং গাম তৈরি হয় সিন্থেটিক পলিমার্স অথবা ইলেস্টোমার্স এবং একইরকম রাবারের মত উপাদানগুলি দিয়ে যাতে, উৎপাদনের কাজ দ্রুত এবং বেশি হয়।
এখন মনে হতেই পারে, আদৌ চিউয়িং গাম জিনিসটাই খাওয়া ভাল কিনা।
চিউয়িং গামে এমনি কোনও সমস্যা নেই। এতে ব্যবহৃত সমস্ত সিন্থেটিক উপাদান সহজেই পাচ্য এবং খুব বেশি হলে এক সপ্তাহ স্টমাকে থাকে। চিউয়িং গাম গিলে ফেললে তা প্রথমে যায় ক্ষুদ্রান্ত্রে। ক্ষুদ্রান্ত্র সেখান থেকে সুগার আর পুষ্টিগুণ নিয়ে নেয়। তারপর তা যায় বৃহদন্ত্র অর্থাৎ কোলনে।
তাই বলে এই নয়, যে চিউয়িং গাম মুখে দিয়ে গিলে ফেললেই হল! এমনটা বারবার হলে তা অন্ত্রে ব্লকেজও তৈরি করতে পারে। তবে কোনও সময় ভুল করে চিউয়িং গাম গিলে ফেললে অস্থির হওয়ার কোনও কারণ নেই, ওটা এক সপ্তাহের মধ্যে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে।
পোকামাকড়ের হোটেল! স্কটিশ কোম্পানির আশ্চর্য কীর্তি, নাম উঠল গিনেস বুকে