কিলিমাঞ্জারুর চূড়ায় গিয়ে যখন তিনি দাঁড়ালেন রঙিন রেশমের শাড়ি পরে, বরফে ঘেরা শূন্যতায় তাপমাত্রা মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 12 July 2025 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাড়িতে পাহাড় জয়? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু রক্তে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থাকলে পাহাড়চূড়োতেও অসাধ্য সাধন সম্ভব।
শরীর নয়, মনেই আসল শক্তির রহস্য রয়েছে। মনে এই সাহস নিয়ে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার যুগলবন্দি নিয়ে ১৯ হাজার ফুটে দাঁড়ালেন ইসা ফাতিমা জ্যাসমিন। আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কিলিমাঞ্জারুর চূড়ায় (১৯,৩৪১ ফুট) গিয়ে যখন তিনি দাঁড়ালেন একটি রঙিন রেশমের শাড়ি পরে – বরফে ঘেরা শূন্যতার মাঝে তাপমাত্রা মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।
পেশায় ডেন্টিস্ট, চেন্নাইয়ের ইসা ছয় দিনের ট্রেক জুড়ে পরেছিলেন ৫-৭ লেয়ারের ট্র্যাকপ্যান্ট, থার্মাল টপস আর গিয়ার। কিন্তু চূড়ায় পৌঁছে সব কিছু ছেড়ে পরে নিলেন তাঁর সঙ্গে আনা শাড়ি ও জুতো। শুধু তাই নয়, সেই বরফঢাকা চূড়ায় দাঁড়িয়ে কয়েকটি পুশ-আপও করে দেখালেন।
ইসার কথায়, “এটা কোনও বিশেষ পারফরম্যান্স নয়, আমি শাড়ি পরেছিলাম কারণ আমার সঙ্গে আমার অস্তিত্বের সবটুকু নিয়ে চূড়ায় উঠতে চেয়েছিলাম। শুধু অভিযাত্রী হিসেবে নয়, সেই নারীও, যে শাড়িতে বড় হয়েছে, যার শিকড় রয়েছে ঐতিহ্যে।”
ইসার কাছে এই অভিযান শুধু সহিষ্ণুতা বা শারীরিক কষ্টের পরীক্ষা নয়, এটা এক দার্শনিক প্রতিজ্ঞাও বটে। তিনি বলেন, “পৃথিবী আমাদের জানায়, শক্তি কেমন দেখতে হওয়া উচিত - কঠিন, উচ্চকণ্ঠ, ঢাল-তলোয়ারে মোড়া। কিন্তু আমি মনে করি, শক্তি নীরবও হতে পারে, শিকড়ে গাঁথা, আর সাড়ে ছয় গজে মোড়া।”
ইসা আগে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেক শেষ করেছেন। এরপর তিনি কিলিমাঞ্জারুকে বেছে নেন। তাঁর কথায়, ‘এ এমন এক অভিযান যেখানে কোনও আলো ছিল না, আমায় অন্ধকারেই হাঁটতে হয়েছে, আন্দাজে ভর করে। তাও থামিনি।’
শাড়িটা সঙ্গে নিলেও শেষপর্যন্ত নিশ্চিত ছিলেন না যে সেটা পরবেন কিনা। কিন্তু পাহাড়ের ওই চূড়ায় দাঁড়িয়ে বুঝেছিলেন, “আমায় ঐতিহ্য আর শক্তির মধ্যে কোনও একটা বেছে নিতে হবে না। আমি দুটোই নিয়ে এই অভিযানে এসেছিলাম। পাহাড়চূড়ায় পৌঁছতে গেলে তো তাদের জায়গা থাকতেই হবে।”
এই দারুণ এক অভিযান শেষেও ইসা জানেন না সামনে কী অপেক্ষা করছে। তবে তাতে তিনি অস্বস্তিতে পড়েননি একটুও। শুধু জানেন, যতবারই আসবেন সততার সঙ্গে সম্পূর্ণতা নিয়ে হাজির হতে হবে, প্রতিবার, প্রতি অভিযানে।