Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় রক্তচাঁদ থাকবে আকাশে, পূর্ণগ্রাসে চাঁদের লুকোচুরি দেখা যাবে গোটা বাংলা থেকে

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা হল ২১ ভাদ্র তথা ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার। পূর্ণিমা তিথি লাগবে রাত ১১ টা ৫৭ মিনিটে। তার আগে থেকেই গ্রহণ শুরু হয়ে যাবে। 

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় রক্তচাঁদ থাকবে আকাশে, পূর্ণগ্রাসে চাঁদের লুকোচুরি দেখা যাবে গোটা বাংলা থেকে

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 28 August 2025 12:36

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাদ্র মাসের পূর্ণিমায় (২০২৫) রাতের আকাশ সাজতে চলেছে এক বিরল মহাজাগতিক নাট্যে। এদিন রাতে কলকাতা তথা বাংলার সব জায়গা থেকেই দেখা যাবে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বা রক্তচন্দ্র (Blood Moon)। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছতে পারে না। সেই সময়ে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের গায়ে পড়ে এবং চাঁদ লালচে আভা ধারণ করে। এই বিরল মুহূর্তকে সাধারণভাবে বলা হয় রক্তচন্দ্র।

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা ২০২৫
ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা হল ২১ ভাদ্র তথা ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার। পূর্ণিমা তিথি লাগবে রাত ১১ টা ৫৭ মিনিটে। তার আগে থেকেই গ্রহণ শুরু হয়ে যাবে। 
কবে এবং কোথায় দেখা যাবে গ্রহণ?
চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে এবং চলবে ৮ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত।
পেনামব্রাল (অস্পষ্ট) গ্রহণ শুরু: রাত ৮টা ৫৮ মিনিট
আংশিক গ্রহণ শুরু: রাত ৯টা ৫৭ মিনিট
পূর্ণ গ্রহণ শুরু: রাত ১১টা ০০ মিনিট
সর্বোচ্চ গ্রহণ: রাত ১১টা ৪১ মিনিট
পূর্ণ গ্রহণ শেষ: রাত ১২টা ২২ মিনিট
আংশিক গ্রহণ শেষ: রাত ১টা ২৫ মিনিট
পেনামব্রাল গ্রহণ সমাপ্তি: ভোর ২টা ২৫ মিনিট

 

ভারতের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই এই গ্রহণ চোখে পড়বে। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই, পুনে, হায়দরাবাদ, লখনউ, চণ্ডীগড় প্রভৃতি শহরের বাসিন্দারা সরাসরি এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। এমনকি গ্রামীণ এলাকাতেও আকাশ পরিষ্কার থাকলে রক্তচন্দ্র ধরা দেবে।

Blood Moon বলতে কী বোঝায়?
‘Blood Moon’ শব্দটি এসেছে মূলত পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের বিশেষ আভা থেকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে ভেঙে দেয় বা ‘বাঁকিয়ে দেয়’। সূর্যের আলো নানা রঙের হলেও নীল আলো বায়ুমণ্ডলে বেশি ছড়িয়ে যায়, আর লাল ও কমলা বর্ণের আলো তুলনামূলক সহজে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে চাঁদে পৌঁছায়। তাই পূর্ণ গ্রহণের সময় চাঁদের গায়ে লালচে, কমলা বা তামাটে রঙের আভা পড়ে। এই বিশেষ দৃশ্যকে বলা হয় রক্তচন্দ্র। জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি অপটিক্যাল ইফেক্ট, তবে সাধারণ মানুষের কাছে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রহস্যময়তা, কাব্যিকতা এবং কখনও কখনও কুসংস্কারও। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে রক্তচন্দ্রকে ধরা হয়েছে অশুভের প্রতীক হিসেবে, আবার কোথাও কোথাও এটি শুভ ও নতুন সূচনার প্রতীকও বটে।

ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা – চন্দ্রগ্রহণ কতক্ষণ দেখা যাবে? (How to watch lunar eclipse – Blood moon)
এই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ প্রায় ১ ঘণ্টা ২২ মিনিট স্থায়ী হবে। ফলে পর্যবেক্ষক, আলোকচিত্রী, জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগী কিংবা সাধারণ মানুষ—সবাই যথেষ্ট সময় পাবেন আকাশের এই রক্তিম সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

কীভাবে দেখা উচিত?
সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ চশমা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দরকার নেই। খালি চোখে দেখা পুরোপুরি নিরাপদ। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে দৃশ্য আরও পরিষ্কার ও চিত্তাকর্ষক লাগবে। ছাদ, খোলা মাঠ কিংবা বাগান থেকে আকাশ দেখাই শ্রেষ্ঠ উপায়। তবে দূষণ ও মেঘলা আবহাওয়া দৃশ্যপট আড়াল করতে পারে।

কেন এই গ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ? 
ভারতে সচরাচর এমন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায় না, যা প্রায় গোটা দেশ থেকেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ফলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের রক্তচন্দ্র শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক এক বিশেষ অভিজ্ঞতাও বটে। পূর্ণিমার ভাদ্র রাতে যখন আকাশ রক্তিম হয়ে উঠবে, তখন তা হবে প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের ছন্দের এক অনন্য প্রকাশ।


```